পিলখানা হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে খুনের রাজনীতি শুরু হয়: জামায়াত আমির
বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ২০০৯ সালের বিডিআর বিদ্রোহ মূলত গর্বের বাহিনীকে দুর্বল করার জন্য করা হয়েছিলো। পিলখানা হত্যাকাণ্ড ছিলো এক গভীর ষড়যন্ত্র, যা দেশের মধ্যে খুনের রাজনীতি শুরু করেছিলো। চব্বিশে জুলাই গণঅভ্যুত্থান সেই রাজনীতির অবসান ঘটালেও এর রেশ ওসমান হাদিসহ পরবর্তী সময়েও স্পষ্ট ছিলো। তিনি বলেন, আল্লাহ যদি সুযোগ দেন, আমরা এর সঠিক প্রতিকার করবো ইনশাআল্লাহ।
শুক্রবার রাজধানীর একটি হোটেলে ‘পিলখানা হত্যাকাণ্ড এবং জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদদের পরিবারের সম্মানে’ আয়োজিত ইফতার অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ইফতার অনুষ্ঠান আয়োজন করেছিল ‘নেক্সাস ডিফেন্স অ্যান্ড জাস্টিস’ নামের সংগঠন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, পিলখানায় মেধাবী সেনা কর্মকর্তাদের হত্যার মাধ্যমে দেশের প্রতিরক্ষা ও সার্বভৌমত্বকে আঘাত করা হয়েছে। পিলখানার বীরেরা দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়েছেন, আশা করি তারা হাসছেন। আর দুনিয়া তাদের জন্য কেঁদেছে। সারা বাংলাদেশ কেঁদেছে। সারা বিশ্বের মানুষ তাদের জন্য শোক প্রকাশ করেছে।
তিনি আরও জানান, পিলখানা হত্যার পরও দেশের অনেক হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। বিচারবহির্ভূত হত্যার মাধ্যমে দেশ অনেক প্রিয় নেতাকে হারিয়েছে। শাপলা চত্বরে আলেম-ওলামাদের ওপরও নির্দয়ভাবে হামলা চালানো হয়েছে। নিহতদের নিয়ে উপহাস করা হয়েছে, যা বাংলাদেশের জন্য এক চরম ব্যথার বিষয়।
জামায়াত আমির বলেন, পিলখানা হত্যাকাণ্ড ইতিহাসে এক নজিরবিহীন ঘটনা। ঘটনাটির আসল রহস্য লুকাতে ভুক্তভোগীদের দোষী হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। তিনি বলেন, জামায়াত যদি দেশের দায়িত্ব পালনের সুযোগ পায়, তবে পিলখানা হত্যাকাণ্ডের সত্যিকার বিচার নিশ্চিত করা হবে।
বিরোধীদলীয় নেতা আরও বলেন, এখন জাতি প্রতিহিংসার রাজনীতি থেকে মুক্তি চায়। সবাই নাগরিক অধিকার নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে জীবনযাপন করতে চায়।
অনুষ্ঠানে পিলখানা ও জুলাই অভ্যুত্থানে নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও সমবেদনা প্রকাশ করা হয়। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, শহীদ পরিবারের আত্মত্যাগ জাতি কোনো দিন ভুলবে না; তারা দেশের জন্য অশেষ কমিটেড ছিলেন।
ইফতারে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় ও মহানগরী পর্যায়ের নেতাসহ শহীদ পরিবারের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।
সবার দেশ/কেএম




























