দিশেহারা ইসরায়েল
যুদ্ধ কৌশলে বড় পরিবর্তন, ভারী ক্ষেপণাস্ত্রে ঝুঁকছে ইরান
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের ১১তম দিনে যুদ্ধের কৌশলে বড় পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে ইরান। তেহরান জানিয়েছে, এখন থেকে তারা এমন ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করবে যেগুলোর পেলোড বা বিস্ফোরক বহন ক্ষমতা অন্তত এক হাজার কেজি বা তার বেশি।
এ তথ্য জানিয়েছেন ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর অ্যারোস্পেস ফোর্সের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাজিদ মুসাভি। তার মতে, নতুন এ কৌশলের মাধ্যমে হামলার সংখ্যা কমিয়ে আনা হলেও প্রতিটি আঘাতকে আরও বিধ্বংসী করে তোলার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধের শুরুর দিকে ইরান তুলনামূলক সস্তা প্রযুক্তির ড্রোন ব্যবহার করে প্রতিপক্ষের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ব্যস্ত রাখার কৌশল নেয়। বিশেষ করে শাহেদ-১৩৬ ড্রোনের মতো অস্ত্র ব্যবহার করে একসঙ্গে বহু ড্রোন ও মিসাইল ছুড়ে ‘স্যাচুরেশন অ্যাটাক’ চালানো হতো। এর লক্ষ্য ছিলো প্রতিপক্ষের ব্যয়বহুল ইন্টারসেপ্টর মিসাইল দ্রুত শেষ করে ফেলা।
তবে এখন কৌশল বদলে ভারী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারে জোর দিচ্ছে তেহরান। এর মধ্যে রয়েছে খোররামশাহর-৪ এবং খাইবার ব্যালিস্টিক মিসাইল, যেগুলো ড্রোনের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি ধ্বংসক্ষমতা রাখে।
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাজিদ মুসাভি বলেন, এসব ক্ষেপণাস্ত্র ম্যাক-৮-এর বেশি গতিতে উড়তে পারে এবং মাঝপথে গতিপথ পরিবর্তনের সক্ষমতা রয়েছে। ফলে এগুলো উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, যেমন অ্যারো-৩-এর মতো প্রযুক্তিকেও ফাঁকি দিতে পারে। একটি এক টন পেলোডের ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারলে তা একটি বিমানঘাঁটি কিংবা ভূগর্ভস্থ কমান্ড সেন্টার কার্যত অচল করে দিতে সক্ষম।
লেবাননের সংবাদমাধ্যম আল মায়াদিন জানিয়েছে, আঞ্চলিক গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর মধ্যে দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং রাস তানুরা তেল শোধনাগার এখন সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় রয়েছে।
বর্তমানে ইরানের অস্ত্রভাণ্ডারে প্রায় ১ হাজার ৮০০ কেজি বিস্ফোরক বহনে সক্ষম খোররামশাহর সিরিজের ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে, যা প্রায় দুই হাজার কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে। এছাড়া সলিড ফুয়েলচালিত মাঝারি পাল্লার সেজিল ব্যালিস্টিক মিসাইল এবং প্রায় তিন হাজার কিলোমিটার পাল্লার সুমার ক্রুজ মিসাইল-ও ইরানের অস্ত্রভাণ্ডারে রয়েছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, সুমার ক্ষেপণাস্ত্র পারমাণবিক অস্ত্র বহনেও সক্ষম হতে পারে।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক শানাকা আনসেলম পেরেরা মনে করেন, ইরান এখন যুদ্ধের তথাকথিত ‘ইন্টারসেপ্ট ম্যাথ’ বদলে দিচ্ছে। আগে একটি সস্তা ড্রোন ধ্বংস করতে কয়েক মিলিয়ন ডলারের ইন্টারসেপ্টর ব্যবহার করা প্রতিপক্ষের জন্য অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করতো। কিন্তু এখন যদি ভারী ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে ইন্টারসেপ্টর ব্যর্থ হয়, তাহলে তার পরিণতি হতে পারে অনেক বেশি ভয়াবহ।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের অপারেশন এপিক ফিউরি-এর জবাবে ইরানের এ নতুন ‘হেভি পেলোড’ কৌশল মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে।
সবার দেশ/কেএম




























