Sobar Desh | সবার দেশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ০২:০৬, ১১ মার্চ ২০২৬

আপডেট: ০২:০৭, ১১ মার্চ ২০২৬

দিশেহারা ইসরায়েল

যুদ্ধ কৌশলে বড় পরিবর্তন, ভারী ক্ষেপণাস্ত্রে ঝুঁকছে ইরান

যুদ্ধ কৌশলে বড় পরিবর্তন, ভারী ক্ষেপণাস্ত্রে ঝুঁকছে ইরান
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের ১১তম দিনে যুদ্ধের কৌশলে বড় পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে ইরান। তেহরান জানিয়েছে, এখন থেকে তারা এমন ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করবে যেগুলোর পেলোড বা বিস্ফোরক বহন ক্ষমতা অন্তত এক হাজার কেজি বা তার বেশি।

এ তথ্য জানিয়েছেন ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর অ্যারোস্পেস ফোর্সের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাজিদ মুসাভি। তার মতে, নতুন এ কৌশলের মাধ্যমে হামলার সংখ্যা কমিয়ে আনা হলেও প্রতিটি আঘাতকে আরও বিধ্বংসী করে তোলার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।

সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধের শুরুর দিকে ইরান তুলনামূলক সস্তা প্রযুক্তির ড্রোন ব্যবহার করে প্রতিপক্ষের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ব্যস্ত রাখার কৌশল নেয়। বিশেষ করে শাহেদ-১৩৬ ড্রোনের মতো অস্ত্র ব্যবহার করে একসঙ্গে বহু ড্রোন ও মিসাইল ছুড়ে ‘স্যাচুরেশন অ্যাটাক’ চালানো হতো। এর লক্ষ্য ছিলো প্রতিপক্ষের ব্যয়বহুল ইন্টারসেপ্টর মিসাইল দ্রুত শেষ করে ফেলা।

তবে এখন কৌশল বদলে ভারী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারে জোর দিচ্ছে তেহরান। এর মধ্যে রয়েছে খোররামশাহর-৪ এবং খাইবার ব্যালিস্টিক মিসাইল, যেগুলো ড্রোনের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি ধ্বংসক্ষমতা রাখে।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাজিদ মুসাভি বলেন, এসব ক্ষেপণাস্ত্র ম্যাক-৮-এর বেশি গতিতে উড়তে পারে এবং মাঝপথে গতিপথ পরিবর্তনের সক্ষমতা রয়েছে। ফলে এগুলো উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, যেমন অ্যারো-৩-এর মতো প্রযুক্তিকেও ফাঁকি দিতে পারে। একটি এক টন পেলোডের ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারলে তা একটি বিমানঘাঁটি কিংবা ভূগর্ভস্থ কমান্ড সেন্টার কার্যত অচল করে দিতে সক্ষম।

লেবাননের সংবাদমাধ্যম আল মায়াদিন জানিয়েছে, আঞ্চলিক গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর মধ্যে দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং রাস তানুরা তেল শোধনাগার এখন সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় রয়েছে।

বর্তমানে ইরানের অস্ত্রভাণ্ডারে প্রায় ১ হাজার ৮০০ কেজি বিস্ফোরক বহনে সক্ষম খোররামশাহর সিরিজের ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে, যা প্রায় দুই হাজার কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে। এছাড়া সলিড ফুয়েলচালিত মাঝারি পাল্লার সেজিল ব্যালিস্টিক মিসাইল এবং প্রায় তিন হাজার কিলোমিটার পাল্লার সুমার ক্রুজ মিসাইল-ও ইরানের অস্ত্রভাণ্ডারে রয়েছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, সুমার ক্ষেপণাস্ত্র পারমাণবিক অস্ত্র বহনেও সক্ষম হতে পারে।

প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক শানাকা আনসেলম পেরেরা মনে করেন, ইরান এখন যুদ্ধের তথাকথিত ‘ইন্টারসেপ্ট ম্যাথ’ বদলে দিচ্ছে। আগে একটি সস্তা ড্রোন ধ্বংস করতে কয়েক মিলিয়ন ডলারের ইন্টারসেপ্টর ব্যবহার করা প্রতিপক্ষের জন্য অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করতো। কিন্তু এখন যদি ভারী ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে ইন্টারসেপ্টর ব্যর্থ হয়, তাহলে তার পরিণতি হতে পারে অনেক বেশি ভয়াবহ।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের অপারেশন এপিক ফিউরি-এর জবাবে ইরানের এ নতুন ‘হেভি পেলোড’ কৌশল মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে।

সবার দেশ/কেএম

শীর্ষ সংবাদ:

৭ নভেম্বরের র‌্যালিতে নেতৃত্ব দেবেন তারেক রহমান
ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি, কাজে ফিরছেন শ্রমিকরা
বিশ্ববাজারে তেলের দাম ১০০ ডলারের নিচে
বাংলাদেশকে অভিবাসনের গন্তব্য করতে চান স্পিকার
ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ ভোটারদের রায়, শুরু পতনের অধ্যায়
সেন্টমার্টিনে আজ থেকে চলবে ৩ পর্যটকবাহী জাহাজ
নিশো-মেহজাবীনের ‘অপলক’
মেসি-রোনালদোসহ ২৬ তারকা ভোটযুদ্ধের মহড়ায়
ছুরিকাঘাতে জামায়াত নেতা আক্তারুজ্জামানের ছেলে গুরুতর আহত
মেঘনা বিএনপির কমিটি নিয়ে তৃণমূলে ক্ষোভ
ট্রাম্পকে ময়লার পাত্রে ফেললো ইরানি দূতাবাসের ভিডিও
হাসিনার সাবেক তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী আটক
তিতাসে নতুন দুই কূপ, দৈনিক মিলবে ৩ কোটি ঘনফুট গ্যাস
আমেরিকানরা ‘বিরক্ত’ হলে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী হবো: ট্রাম্প
গাজীপুর-সাভারে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, টিয়ারশেল নিক্ষেপ
মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের বড় জয়
কল্যাণপুরে বাস-লেগুনার সংঘর্ষ, নারীসহ নিহত ৪
আওয়ামী প্রেতাত্মা হাসানুজ্জামানকে দুদকের মহাপরিচালক নিয়োগ