ঈদের সিনেমার আয়-ব্যয়: মাল্টিপ্লেক্সে শীর্ষে ‘রকস্টার’
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে মুক্তিপ্রাপ্ত চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে মাল্টিপ্লেক্সে সবচেয়ে শক্ত অবস্থানে রয়েছে ‘রকস্টার’। মুক্তির তৃতীয় দিন শেষে ছবিটি আয় ও দর্শক উপস্থিতির দিক থেকে প্রতিযোগীদের তুলনায় স্পষ্ট ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে।
বাংলা সিনেমার মেটা ডাটাভিত্তিক ফেসবুক পেজ বিএমআর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তৃতীয় দিনে দেশের বিভিন্ন মাল্টিপ্লেক্সে প্রদর্শিত চলচ্চিত্রগুলোর শো সংখ্যা, হাউসফুল প্রদর্শনী এবং গ্রস আয়ের হিসাব বিশ্লেষণ করে এ চিত্র পাওয়া গেছে।
তথ্য অনুযায়ী, ‘রকস্টার’ তৃতীয় দিনে স্টার সিনেপ্লেক্স, লায়ন সিনেমাস, গ্র্যান্ড সিলেট মুভি থিয়েটার, মম ইন, মণিহার সিনেপ্লেক্স, মধুবন সিনেপ্লেক্স, সিনেস্কোপ, শ্যামলী সিনেমা, গ্র্যান্ড রিভারভিউ সিনেপ্লেক্স, স্বপ্নীল সিনেপ্লেক্স এবং কে-স্ক্রিন সিনেপ্লেক্স মিলিয়ে মোট ৮১টি শো পেয়েছে। এর মধ্যে ৩২টি শো ছিলো হাউসফুল এবং আরও পাঁচটি শো প্রায় পূর্ণ ছিলো। তিন দিন শেষে ছবিটির মোট মাল্টিপ্লেক্স গ্রস আয় দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ৩৪ লাখ টাকা।
আয়ের তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ‘রইদ’। তৃতীয় দিনে ছবিটি মোট ২২টি শো পেয়েছে, যার মধ্যে সাতটি ছিলো হাউসফুল। তিন দিন শেষে ছবিটির মোট আয় হয়েছে ৩৬ লাখ ৯২ হাজার টাকা।
অন্যদিকে ‘বনলতা সেন’ তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল পারফরম্যান্স দেখিয়েছে। স্টার সিনেপ্লেক্স ও লায়ন সিনেমাসে মোট ১১টি শো প্রদর্শিত হয়েছে, যার মধ্যে চারটি ছিলো হাউসফুল। তিন দিনে ছবিটির আয় দাঁড়িয়েছে ১৬ লাখ ৬৫ হাজার টাকা।
‘মালিক’ ছবিটিও ভালো অবস্থানে রয়েছে। তৃতীয় দিনে ১৬টি শো প্রদর্শিত হয় এবং দুটি শো ছিলো হাউসফুল। তিন দিন শেষে ছবিটির মোট গ্রস আয় ১৫ লাখ টাকা।
অ্যাকশনধর্মী চলচ্চিত্র ‘মাসুদ রানা’ তৃতীয় দিনে কিছুটা উন্নতি করলেও দর্শক টানতে খুব বেশি সফল হয়নি। সাতটি শো চললেও কোনও প্রদর্শনী হাউসফুল হয়নি। তিন দিনে ছবিটির আয় হয়েছে ৬ লাখ ২৩ হাজার টাকা।
অন্যদিকে ‘পিনিক’ প্রত্যাশিত সাড়া পায়নি। পাঁচটি শো চললেও কোনও শো হাউসফুল হয়নি। তিন দিন শেষে ছবিটির মোট আয় দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৬৯ হাজার টাকা।
সবচেয়ে কম দর্শক উপস্থিতি দেখা গেছে ‘অফিসার’ সিনেমার ক্ষেত্রে। স্টার সিনেপ্লেক্সে ছবিটির মাত্র একটি শো প্রদর্শিত হয়েছে, যেখানে উপস্থিত ছিলেন প্রায় ৩০ জন দর্শক। তিন দিন শেষে ছবিটির মোট গ্রস আয় ৫০ হাজার ৮০০ টাকা।
বিএমআরের প্রকাশিত তথ্য নিয়ে স্টার সিনেপ্লেক্সের প্রধান বিপণন কর্মকর্তা মেসবাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, মাল্টিপ্লেক্সের আয়-ব্যয়ের তথ্য যথেষ্ট স্বচ্ছ। অনলাইনে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে এ ধরনের হিসাব করা সম্ভব এবং তা প্রকৃত তথ্যের কাছাকাছি হতে পারে।
তবে বিএমআর জানিয়েছে, তাদের এ জরিপ শুধুমাত্র দেশের মাল্টিপ্লেক্সভিত্তিক আয়-ব্যয়ের হিসাবের ওপর নির্ভরশীল। এতে যমুনা ব্লকবাস্টার অন্তর্ভুক্ত নয়। ফলে সারাদেশের একক পর্দার সিনেমা হলগুলোর আয় এ পরিসংখ্যানে প্রতিফলিত হয়নি।
ঈদের ছুটির বাকি দিনগুলোতে দর্শক উপস্থিতি ও মুখে মুখে প্রচারের ওপর নির্ভর করে সিনেমাগুলোর বাণিজ্যিক সাফল্যের চিত্র আরও স্পষ্ট হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সবার দেশ/কেএম




























