জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে সেরা সিনেমা হলো সাঁতাও
কোনো বড় তারকা, প্রতিষ্ঠিত প্রযোজনা সংস্থার পৃষ্ঠপোষকতা কিংবা শুরুতে পর্যাপ্ত সিনেমা হলের সুবিধা ছাড়া নির্মিত স্বাধীনধারার চলচ্চিত্র সাঁতাও শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের সর্বোচ্চ স্বীকৃতি অর্জন করেছে। ২০২৩ সালের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ছবিটি সেরা চলচ্চিত্র হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে।
একই সঙ্গে ছবিটির নির্মাতা খন্দকার সুমন সেরা পরিচালক পুরস্কার অর্জন করেছেন। অন্যদিকে ছবিটিতে অভিনয়ের জন্য আইনুন পুতুল সেরা অভিনেত্রী নির্বাচিত হয়েছেন, যা তার ক্যারিয়ারের প্রথম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার।
সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে ২০২৩ সালের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের বিজয়ীদের ঘোষণা দেয়। মোট ২৮টি বিভাগে শিল্পী, কলাকুশলী ও চলচ্চিত্রকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়।
রংপুর অঞ্চলের প্রান্তিক মানুষের জীবনসংগ্রাম, দারিদ্র্য, কৃষকজীবন ও নারীর মাতৃত্ববোধের মতো বাস্তবতাকে কেন্দ্র করে নির্মিত এ সিনেমার ভাবনা শুরু হয় ২০১৬ সালে। নির্মাতা শুরু থেকেই জানতেন, পরিচিত তারকা ছাড়া এমন বাস্তবধর্মী সিনেমা নির্মাণে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ থাকবে। তবু তিনি বাণিজ্যিক নিরাপদ পথ না নিয়ে বাস্তব মানুষের গল্প তুলে ধরার সিদ্ধান্ত নেন।
প্রযোজক না পাওয়ায় সাধারণ মানুষের কাছেই ছবির গল্প তুলে ধরা হয়। ১০০ টাকা থেকে কয়েক হাজার টাকা পর্যন্ত ছোট ছোট সহায়তায় গণঅর্থায়নের মাধ্যমে ধীরে ধীরে তৈরি হয় সিনেমাটি। এই প্রক্রিয়া শুধু অর্থ সংগ্রহ নয়, দর্শকের অংশগ্রহণ ও বিশ্বাসের প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত হয়।
শুটিং শেষ হওয়ার পরও নির্মাণযাত্রা সহজ ছিল না। সেন্সর ছাড়পত্র পেতে জটিল প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মুখে পড়তে হয় নির্মাতাকে। পরবর্তীতে সরকারি পর্যায়ের হস্তক্ষেপের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক ফি প্রদান করেই সেন্সর ছাড়পত্র পাওয়া সম্ভব হয়।
মুক্তির সময় আরও বড় সংকট তৈরি হয়। পরিচিত তারকা না থাকায় অনেক হল ছবিটি প্রদর্শনে আগ্রহ দেখায়নি। তবে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে পুরস্কার পাওয়ার পর ধীরে ধীরে পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে। সীমিত আকারে দেশের বিভিন্ন হলে ছবিটি প্রদর্শিত হয় এবং দর্শকের কাছে পৌঁছায়।
প্রচারের ক্ষেত্রেও ছিল ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। নির্মাতা, শিল্পী ও কলাকুশলীরা নিজেরাই রাস্তায় নেমে পোস্টার প্রচার, মাইকিংসহ সরাসরি দর্শকের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা চালান।
রংপুর অঞ্চলে টানা ভারী বর্ষণকে স্থানীয় ভাষায় সাঁতাও বলা হয়। সেই বাস্তবতা থেকেই সিনেমার নামকরণ। গল্পে উঠে এসেছে প্রান্তিক মানুষের সুখদুঃখ, সংগ্রাম এবং মানবিক সম্পর্কের নানা স্তর।
দেশ ও বিদেশের বিভিন্ন চলচ্চিত্র উৎসবে প্রশংসা পাওয়ার পর জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জনের মাধ্যমে সাঁতাও তার দীর্ঘ সংগ্রামের যাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক স্পর্শ করেছে।
সবার দেশ/এসএস




























