কারচুপির অভিযোগ, উত্তেজনা বাড়লো ফাইনালের আগেই
মিস ইউনিভার্স থেকে দুই বিচারকের পদত্যাগ
মিস ইউনিভার্স ২০২৪-এর গ্র্যান্ড ফাইনালের মাত্র তিন দিন আগে হঠাৎ করে দুই বিচারকের পদত্যাগে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। নির্বাচনপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার প্রশ্ন তোলায় এক বিচারকের পদত্যাগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। থাইল্যান্ডের ব্যাংকক ও ফুকেটে চলমান প্রতিযোগিতার ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে আগামীকাল শুক্রবার (২১ নভেম্বর)।
মঙ্গলবার আট সদস্যের মূল জুরি প্যানেল থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন লেবানিজ–ফরাসি সংগীতশিল্পী ওমর হারফুশ। ইনস্টাগ্রামে দেয়া এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, ফাইনালিস্ট নির্বাচন নিয়ে পর্দার আড়ালে একটি ‘অনানুষ্ঠানিক জুরি দল’ আগেই সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছে, যেখানে মূল জুরিদের কাউকেই অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। হারফুশ জানান, ১৩৬ দেশের প্রতিযোগীর মধ্য থেকে ৩০ জন ফাইনালিস্ট বাছাইয়ের সিদ্ধান্ত নেয়া হয় এমন একটি প্রক্রিয়ায়, যার বিষয়ে তিনি আগে কিছুই জানতেন না। বিষয়টি সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখে তিনি হতবাক হয়ে যান।
তার দাবি, ওই অনানুষ্ঠানিক কমিটিতে এমন ব্যক্তিরা রয়েছেন, যাদের কয়েকজন প্রতিযোগীর সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক রয়েছে। যদিও তারা কীভাবে মূল জুরির কাজকে অকার্যকর করছেন—সে বিষয়ে পরিষ্কার ব্যাখ্যা দেননি হারফুশ।
তার অভিযোগ সঙ্গে সঙ্গে অস্বীকার করেছে মিস ইউনিভার্স কর্তৃপক্ষ। সংগঠনটির বক্তব্য, প্রতিযোগীদের মূল্যায়ন বা ফাইনালিস্ট নির্বাচন কোনো বাইরের দলের হাতে ন্যস্ত করা হয়নি। বরং হারফুশ হয়তো ‘বিয়ন্ড দ্য ক্রাউন’ নামে একটি সামাজিক প্রকল্পকে ভুলভাবে জুরি প্যানেল ভেবেছেন। এটি মূল প্রতিযোগিতা থেকে সম্পূর্ণ আলাদা এবং এর নিজস্ব নির্বাচন কমিটি রয়েছে।
হারফুশের পদত্যাগের কয়েক ঘণ্টা পর দ্বিতীয় ধাক্কা আসে। ফরাসি ফুটবল তারকা ও ম্যানেজার ক্লদ মাকেলেলে ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে জুরি থেকে সরে দাঁড়ান। যদিও তিনি কোনো বিতর্কের কথা উল্লেখ করেননি, মিস ইউনিভার্সের মূল্যবোধ—ক্ষমতায়ন, বৈচিত্র্য ও উৎকর্ষ—সব সময় লালন করেছেন বলেই জানান।
এদিকে চলতি মাসের শুরুতেই প্রতিযোগিতা নিয়ে আরেক দফা বিতর্ক দেখা দেয়। থাইল্যান্ডের আয়োজক কমিটির পরিচালক নাওয়াত ইটসারাগ্রিসিল একটি প্রাক্-ইভেন্টে মিস মেক্সিকো ফাতিমা বোশকে জিজ্ঞেস করেন, কেন তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারণামূলক কনটেন্ট পোস্ট করছেন না। সে ভিডিও ভাইরাল হলে দেখা যায়, বোশসহ কয়েকজন প্রতিযোগী ক্ষোভে হল ছাড়ছেন, কেউ কেউ নাওয়াতকে উঁচু স্বরে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। পরে নাওয়াত দাবি করেন, তার কথার অর্থ ভুলভাবে বোঝা হয়েছে; তবে তার আচরণে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করে মিস ইউনিভার্স সংগঠন।
সব মিলিয়ে ফাইনালের আগমুহূর্তে একের পর এক বিতর্কে সবচেয়ে জনপ্রিয় সৌন্দর্য প্রতিযোগিতাটির ওপর দৃষ্টি আরও বাড়ছে। আগামীকাল চূড়ান্ত মঞ্চে কে মুকুট পরবেন, তার সঙ্গে এখন নজর থাকবে নির্বাচনী প্রক্রিয়া ঘিরে চলমান বিতর্কের দিকেও।
সবার দেশ/কেএম




























