Sobar Desh | সবার দেশ সবার দেশ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০০:৪৬, ১৯ আগস্ট ২০২৬

ড. ইউনূসকে নিয়ে হাসিনাকে আগেই সতর্ক করেছিলেন মনিরুল

ড. ইউনূসকে নিয়ে হাসিনাকে আগেই সতর্ক করেছিলেন মনিরুল
ছবি: সংগৃহীত

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে সরকার গঠনের একটি সম্ভাব্য পরিকল্পনা ২০২৩ সালেই তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে জানানো হয়েছিলো বলে দাবি করেছেন পুলিশের সাবেক বিশেষ শাখা (এসবি) প্রধান মনিরুল ইসলাম। তার ভাষ্য, ২০২৩ সালের মার্চে দেয়া একটি বিস্তারিত গোয়েন্দা প্রতিবেদনে সম্ভাব্য সরকার কাঠামো, সম্ভাব্য ব্যক্তিদের নাম এবং রাজনৈতিক পরিবর্তনের একটি রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছিলো। পরে ২০২৪ সালে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর ওই প্রতিবেদনে থাকা অনেক ব্যক্তিই উপদেষ্টা, কমিশনের চেয়ারম্যান বা সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পান বলে দাবি করেন তিনি।

সাংবাদিক মাসুদা ভাট্টির ইউটিউব চ্যানেলে দেয়া এক সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন মনিরুল ইসলাম। সাক্ষাৎকারে তিনি ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের আগে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর পাওয়া তথ্য, সম্ভাব্য রাজনৈতিক পরিকল্পনা, ড. ইউনূসের নেতৃত্বে সরকার গঠনের আশঙ্কা এবং তথাকথিত ‘ডিপস্টেট’-এর ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত বক্তব্য দেন।

মনিরুল বলেন, ২০২৩ সালের মার্চে তিনি যে প্রতিবেদন দিয়েছিলেন, তাতে ২০২৪ সালে একটি নতুন সরকার গঠিত হতে পারে—এমন একটি পূর্বাভাস ছিলো। সেখানে সম্ভাব্য সরকারে কারা থাকতে পারেন, তাদের কয়েকজনের নামও উল্লেখ করা হয়েছিলো।

তার দাবি, পরবর্তী সময়ে ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ থাকা অনেক ব্যক্তি অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা হয়েছেন। কেউ কেউ বিভিন্ন কমিশনের চেয়ারম্যান, চেয়ারপারসন বা সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পেয়েছেন। এমনকি কয়েকজন সংবাদপত্রের সম্পাদকের নামও প্রতিবেদনে ছিলো বলে জানান তিনি।

‘ইউনূস নিজেই ক্ষমতায় যেতে চাইবেন’

মনিরুল ইসলামের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই প্রতিবেদনটি তিনি সরাসরি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে দিয়েছিলেন। সাত-আট পৃষ্ঠার প্রতিবেদনটি গবেষণাপত্রের মতো করে তৈরি করা হয়েছিলো এবং শেখ হাসিনা সেটি পুরোপুরি পড়েছিলেন।

তিনি বলেন, প্রতিবেদনে ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে সরাসরি সরকারপ্রধান করার সম্ভাবনা নিয়ে তখনকার পরিস্থিতি বিবেচনা করা হয়েছিলো। তবে তার বয়সের কারণে তিনি নিজে দায়িত্ব নাও নিতে পারেন—এমন ধারণাও প্রতিবেদনে ছিলো। সে ক্ষেত্রে তার প্রতিনিধি হিসেবে কয়েকজনকে সামনে আনার সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করা হয়েছিলো।

মনিরুল বলেন, প্রতিবেদনটি পড়ার পর শেখ হাসিনা তাকে বলেছিলেন, তুমি জানো না ইউনূসের মতো লোভী লোক, ক্ষমতালোভী। উনি নিজেই হয়ে থাকবেন, উনি নিজেই হতে চাইবেন।

সাবেক এ এসবি প্রধান বলেন, তখন ড. ইউনূসের সঙ্গে তার ব্যক্তিগতভাবে কোনও পরিচয় ছিলো না। তার সঙ্গে কখনও দেখা বা কথা হয়নি। ফলে শেখ হাসিনার মন্তব্যে তিনি কিছুটা বিস্মিত হয়েছিলেন। তবে পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহের পর বারবার ওই কথাগুলো তার মনে হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

মনিরুলের ভাষ্য, শেখ হাসিনা তাকে বলেছিলেন, ড. ইউনূস সম্পর্কে তিনি যথেষ্ট জানেন না এবং ইউনূস ‘মরার আগের দিন পর্যন্ত ক্ষমতার লোভ ছাড়বেন না’। পরবর্তী সময়ে ড. ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের বিষয়টি সামনে আসার পর ওই মন্তব্যের সঙ্গে তিনি ঘটনাপ্রবাহের মিল খুঁজে পেয়েছেন বলে জানান।

ভিসা নিষেধাজ্ঞার আগেও সতর্কবার্তা

সাক্ষাৎকারে ২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নিষেধাজ্ঞা নিয়েও কথা বলেন মনিরুল ইসলাম। তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ভিসা নিষেধাজ্ঞা দেয়ার ঘোষণা করার কয়েক দিন আগেই তিনি এ বিষয়ে একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদন দিয়েছিলেন।

তিনি বলেন, ওই প্রতিবেদনে সম্ভাব্য পদক্ষেপের পাশাপাশি কোন কোন দেশ এর সঙ্গে যুক্ত হতে পারে, সে বিষয়েও তথ্য ছিলো। পরে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর-অক্টোবরের দিকে পুরোনো একটি ড্রাফট তিনি উদ্ধার করে দেখেন এবং তার দাবি অনুযায়ী, প্রতিবেদনের প্রায় ৯০ শতাংশ তথ্য পরবর্তী ঘটনার সঙ্গে মিলে যায়।

২০১৮ ও ২০২৩-এর আন্দোলন নিয়ে দাবি

মনিরুল ইসলাম দাবি করেন, আওয়ামী লীগ সরকারকে প্রচলিত রাজনৈতিক আন্দোলন বা নির্বাচনের মাধ্যমে সরিয়ে দেয়া কঠিন—এমন মূল্যায়নে কোনও কোনও শক্তি পৌঁছেছিলো। তার ভাষ্য, ২০১৮ সালের নির্বাচন থেকে এমন একটি ধারণা তৈরি হয় এবং পরে নিরাপদ সড়ক আন্দোলন ও কোটা আন্দোলনকে ‘টেস্ট কেস’ হিসেবে দেখা হয়েছিলো।

তার দাবি, এসব আন্দোলনের অভিজ্ঞতা থেকে একটি পক্ষ মনে করেছিলো, সরকার পরিবর্তনের জন্য ছাত্র ও তরুণদের ব্যবহার করা প্রয়োজন। তিনি এ প্রসঙ্গে ‘ডিপস্টেট’ শব্দটি ব্যবহার করেন এবং দাবি করেন, বিভিন্ন স্তরে থাকা কিছু ব্যক্তি ও গোষ্ঠী এ ধরনের পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত ছিলো।

তবে সাক্ষাৎকারে তিনি যে ‘ডিপস্টেট’-এর কথা বলেছেন, সেটিকে কোনো আনুষ্ঠানিক রাষ্ট্রীয় কাঠামো নয় বলেও উল্লেখ করেন। তার ভাষ্য, এটি এমন একটি অনানুষ্ঠানিক নেটওয়ার্ক, যার সঙ্গে রাষ্ট্রের বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিদের যোগাযোগ থাকতে পারে।

২৮ অক্টোবরের সমাবেশ নিয়ে মনিরুলের ব্যাখ্যা

মনিরুল ইসলাম বলেন, ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর বিএনপি-জামায়াতের সমাবেশকে কেন্দ্র করে একটি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা হয়েছিলো বলে পরবর্তী সময়ে তারা তথ্য-উপাত্ত মিলিয়ে দেখেছেন। কিন্তু ওই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চলে আসায় সে পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়নি বলে তার দাবি।

এরপর ২০২৪ সালের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়ে নতুন সরকার গঠিত হলে সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে এক ধরনের আত্মতুষ্টি বা অসতর্কতা তৈরি হয়েছিলো বলে মনে করেন তিনি।

মনিরুল বলেন, সরকারের ভেতরে এমন একটি ধারণা তৈরি হয়েছিলো যে আন্দোলন হলেও তা হয়তো আরও কয়েক বছর পর, সরকারের মেয়াদের শেষ দিকে হবে। ফলে ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে আন্দোলনের সম্ভাব্য ব্যাপকতা সম্পর্কে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অনেকের মধ্যে ছিলো না বলে তার দাবি।

৫ আগস্টের আগে সতর্কতা থাকলেও পতন ঠেকানো গেলো না কেনো

সাক্ষাৎকারে মনিরুল ইসলামকে প্রশ্ন করা হয়, এসবি যদি আগে থেকেই সরকার পতনের সম্ভাব্য পরিকল্পনার বিষয়ে তথ্য পেয়ে থাকে, তাহলে ৫ আগস্ট এত দ্রুত রাষ্ট্রীয় কাঠামো ভেঙে পড়লো কীভাবে?

জবাবে তিনি বলেন, এর পেছনে তিনি তথাকথিত ‘ডিপস্টেট’-এর প্রভাব দেখছেন। বিশেষ করে সেনাবাহিনীর ভেতরে একটি অংশের ভূমিকা ছিলো বলে দাবি করেন তিনি।

মনিরুলের ভাষ্য, সেনাবাহিনী বাংলাদেশের অন্যতম শক্তিশালী ও প্রাতিষ্ঠানিক সংগঠন। ৫ আগস্টের পর প্রশাসন ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বহু পর্যায়ে ব্যাপক পরিবর্তন হলেও তিন বাহিনীর প্রধানরা নিজ নিজ পদে বহাল ছিলেন। একইভাবে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মহাপরিচালকও দায়িত্বে ছিলেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি দাবি করেন, অবসরপ্রাপ্ত ও কর্মরত কর্মকর্তাদের একটি অংশের মধ্যে এমন একটি ‘মিনি ডিপস্টেট’ কাজ করতে পারে, যা সবসময় সরকারের পক্ষে কাজ করে না; কখনও সরকারের বিরুদ্ধেও ভূমিকা রাখতে পারে।

‘সেনাবাহিনীর একটি অংশ পেছন থেকে ছুরিকাঘাত করেছে’

৫ আগস্টের ঘটনাপ্রবাহ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে সাবেক এসবি প্রধান আরও বলেন, 

সরকারের পক্ষ থেকে আন্দোলন দমনের যে পরিকল্পনা ছিলো, সেনাবাহিনীর একটি অংশ সেটির পেছনে ‘ছুরিকাঘাত’ করেছে।

তার ভাষ্য, আন্দোলনের শেষ পর্যায়ে পরিস্থিতি দ্রুত সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার পেছনে শুধু রাজপথের আন্দোলন নয়, রাষ্ট্রীয় কাঠামোর ভেতরের বিভিন্ন পক্ষের অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ ছিলো।

তিনি আরও দাবি করেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ঘটনাপ্রবাহের আগে রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন স্তরে যে তথ্য ও সতর্কবার্তা ছিলো, তা যথাযথভাবে কাজে লাগানো হয়নি। নির্বাচন হয়ে যাওয়ার পর সরকার ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মধ্যে যে আত্মতুষ্টি তৈরি হয়েছিলো, সেটিও পরবর্তী সংকট মোকাবিলায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করেন তিনি।

তবে মনিরুল ইসলামের সাক্ষাৎকারে উঠে আসা ‘ডিপস্টেট’, রাজনৈতিক পরিকল্পনা এবং বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ভেতরের ভূমিকা নিয়ে করা দাবিগুলোর স্বাধীন কোনও প্রমাণ বা সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য সাক্ষাৎকারে উপস্থাপিত হয়নি। তার বক্তব্য মূলত সাবেক এসবি প্রধান হিসেবে নিজের পর্যবেক্ষণ, গোয়েন্দা প্রতিবেদন ও পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহের সঙ্গে সেগুলোর তুলনার ওপর ভিত্তি করে দেয়া হয়েছে।

সবার দেশ/কেএম

শীর্ষ সংবাদ:

পুলিশকে ‘ম্যানেজ’ করে মুক্ত হচ্ছেন নিষিদ্ধ আ.লীগ নেতারা!
হামে মৃত ৮২ শতাংশ শিশুই পায়নি পর্যাপ্ত বুকের দুধ
সাবেক প্রতিমন্ত্রী সতীশ চন্দ্র রায় আর নেই
কোলকাতার হোটেলে আগুনে ৯ বাংলাদেশির মৃত্যু
জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ পুলিশ: বরিশালের ডিআইজি
দীপু মনির স্বামী তৌফিক নেওয়াজ আর নেই
আজ থেকে নতুন পথচলা দুদকের
চীনে নেয়ার কথা বলে ভারতের কারাগারে ৪ বছর জামালপুরের সিরাজুল
ড. ইউনূসকে নিয়ে হাসিনাকে আগেই সতর্ক করেছিলেন মনিরুল
১০ লাখ টাকা চাঁদার দাবিতে রিসোর্ট দখল, ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে মামলা
তারেক রহমানের সফর নিয়ে ঢাকার শর্ত ’রূঢ় ও অহংকারী’: বীণা সিক্রি
নোবিপ্রবিতে ছাত্রদলের দু’গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ৫
২৫০ অবৈধ হাসপাতাল-ক্লিনিক বন্ধ করলো স্বাস্থ্য অধিদফতর
প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেননি কেউ, ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট
রাজধানীর যেসব রুটে চলবে ‘পিংক বাস’
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বসানো হয়েছে ৪৯০ এআই ক্যামেরা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ইমরান খানকে দ্রুত হাসপাতালে স্থানান্তরের দাবি পিটিআইয়ের
নারীদের জন্য চালু পিংক বাস, চলবে তিন শহরে
দুই দিনের সরকারি সফরে কাতারের উদ্দেশে পররাষ্ট্রমন্ত্রী