জাপান সকারের অর্থায়নে পরিচালিত এ প্রকল্প
সচিব নয়, মধ্যম পর্যায়ের কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণে থাইল্যান্ড সফর
ইংরেজি শেখাতে ৩০০ জন সচিবকে থাইল্যান্ডে পাঠানো হচ্ছে—এমন একটি সংবাদ সম্প্রতি বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে জনমনে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করে। তবে সরকার স্পষ্ট করে জানিয়েছে, এ তথ্য সম্পূর্ণ ভ্রান্ত ও বিভ্রান্তিকর।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. মানসুর হোসেন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ ধরনের সংবাদকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আলোচিত প্রশিক্ষণ কর্মসূচিটি সচিবদের জন্য নয়। বরং এটি সরকারের মধ্যম পর্যায়ের কর্মকর্তাদের দক্ষতা বাড়ানোর একটি পরিকল্পিত উদ্যোগ। আন্তর্জাতিক মানের প্রশাসনিক সক্ষমতা, কূটনৈতিক দক্ষতা এবং নীতি প্রণয়নের দক্ষতা উন্নয়নের লক্ষ্যেই এ কর্মসূচি নেয়া হয়েছে।
‘স্ট্রেংদেনিং ইনস্টিটিউশনাল ক্যাপাসিটি অব বিয়াম ফর কনডাকটিং কোর কোর্সেস’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় তিনটি প্রধান কোর্স পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। এগুলো হলো—গভর্ন্যান্স, ফিন্যান্সিয়াল ম্যানেজমেন্ট ও পাবলিক প্রকিউরমেন্ট; নেগোসিয়েশন স্কিলস ও ইংলিশ প্রফিসিয়েন্সি; এবং পলিসি ফরম্যুলেশন, ই-গভর্ন্যান্স ও আইসিটি।
সরকার আরও জানায়, এ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি জাপান সরকারের ডিআরজিএসিএফ ফান্ডের অর্থায়নে পরিচালিত হবে। এতে বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব অর্থ ব্যয়ের কোনও বিষয় নেই। ফলে রাষ্ট্রীয় কোষাগারের অর্থ অপচয়ের যে অভিযোগ উঠেছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
এছাড়া সংবাদে প্রশিক্ষণের স্থান হিসেবে ‘পাতায়া’ উল্লেখ করা হলেও সেটিকেও ভুল দাবি করেছে মন্ত্রণালয়। জানানো হয়েছে, ব্যয় সাশ্রয়ের লক্ষ্যে ইউরোপের পরিবর্তে এশিয়ার কোনও দেশ—যেমন থাইল্যান্ড বা মালয়েশিয়ার স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশিক্ষণ আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে পাতায়ার মতো পর্যটনকেন্দ্রের নাম জুড়ে দিয়ে বিষয়টিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়।
সবশেষে মন্ত্রণালয় জানায়, প্রস্তাবটি এখনও জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)-এ অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়নি। অর্থাৎ এটি এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়, বরং প্রক্রিয়াধীন একটি উদ্যোগ।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মতে, পূর্ণাঙ্গ তথ্য যাচাই না করে এ ধরনের বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশ শুধু অযথা জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি করে না, বরং জনপ্রশাসন এবং বিয়াম ফাউন্ডেশনের মতো প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ন করে।
সবার দেশ/কেএম




























