Sobar Desh | সবার দেশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৬:২৭, ২১ ডিসেম্বর ২০২৫

আরএসএফ-এর নারকীয় তান্ডব

সুদানে নৃশংসতায় লাখো শরণার্থী পালিয়ে বেড়াচ্ছে

সুদানে নৃশংসতায় লাখো শরণার্থী পালিয়ে বেড়াচ্ছে
ছবি: সংগৃহীত

সুদানের গৃহযুদ্ধে উত্তর দারফুরের গুরুত্বপূর্ণ শহর আল ফাশিরের পতন দেশটিতে এক ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের সৃষ্টি করেছে। গত ২৬ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে দীর্ঘ ১৮ মাসের অবরোধের পর আধাসামরিক বাহিনী র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ) শহরটি দখল করে নেয়। এর ফলে অঞ্চলটিতে সেনাবাহিনী ও তাদের মিত্রদের শেষ শক্তিশালী ঘাঁটির পতন ঘটে, যা এখন আরএসএফ-এর একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণে। শহরটি দখলের পরপরই সেখানে শুরু হয় নজিরবিহীন হত্যাযজ্ঞ ও নৃশংসতা।

জাতিসংঘ ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা জানিয়েছে, আল ফাশিরে প্রবেশের পর আরএসএফ সদস্যরা গণহারে বেসামরিক নাগরিকদের হত্যা, ধর্ষণ এবং ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেয়ার মতো মানবতাবিরোধী অপরাধে লিপ্ত হয়েছে। বিশেষ করে আল সউদি মেটারনিটি হাসপাতালে চালানো হামলাটি বিশ্ববিবেককে স্তম্ভিত করে দিয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)-এর তথ্য অনুযায়ী, ওই হাসপাতালে ৪৬০ জনেরও বেশি রোগী ও তাদের স্বজনদের গুলি করে হত্যা করেছে আরএসএফ সদস্যরা। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, শহরটি এখন এক বিশাল 'কসাইখানায়' পরিণত হয়েছে এবং পথে পথে লাশের স্তূপ পড়ে থাকতে দেখা গেছে।

শহরটি পতনের পর সেখান থেকে প্রায় ১ লাখ মানুষ প্রতিবেশী দেশ শাদের দিকে পালিয়ে গেছে। তবে আশঙ্কাজনক তথ্য হলো, আল ফাশিরের অন্তত ১ লাখ ৫০ হাজার বাসিন্দার কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, শহরটির বিশাল এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে এবং আরএসএফ প্রমাণ লোপাটের জন্য মৃতদেহগুলো গণকবর দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এদিকে, জীবন বাঁচাতে যারা সীমান্ত পাড়ি দিয়ে শাদের পূর্ব দিকের শরণার্থী শিবিরগুলোতে আশ্রয় নিয়েছেন, তাদের অবস্থাও অত্যন্ত শোচনীয়। ওউর কাসোনি শিবিরে এখন ১ লাখের বেশি শরণার্থী মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন, যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। ২০ বছর আগে ২০০৪ সালের দারফুর গণহত্যার সময় স্থাপিত এ শিবিরে এখন তিল ধারণের জায়গা নেই। বিশুদ্ধ পানি, খাদ্য ও ওষুধের চরম সংকটে সেখানে প্রতিদিন শিশুদের মৃত্যু হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থাগুলো এ পরিস্থিতিকে ২০২৫ সালের 'সবচেয়ে অবহেলিত সংকট' হিসেবে অভিহিত করেছে।

শরণার্থীদের করুণ অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিতে গিয়ে এক পা হারানো আলী ইসহাক জানান, আরএসএফ-এর হাত থেকে বাঁচতে তারা রাতের অন্ধকারে বাদুড়ের মতো পালিয়ে বেরিয়েছেন। কারণ দিনের আলোতে ধরা পড়লে নিশ্চিত মৃত্যু অনিবার্য। সুদানের এ গৃহযুদ্ধে এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা ৪০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে এবং প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে, যা বর্তমান বিশ্বের বৃহত্তম মানবিক সংকট হিসেবে দেখা দিয়েছে।

সবার দেশ/কেএম

শীর্ষ সংবাদ:

পিরোজপুরে গর্ত খুঁড়তে গিয়ে মাটি ধসে ২ শ্রমিকের মৃত্যু
দর্শনা সীমান্তে ‘পুশইন’, নারী ও শিশুসহ আটক ১০
লক্ষ্মীপুরে ধর্ষণের অভিযোগ, যুবদল নেতার বিরুদ্ধে মামলা
প্রেমের টানে টাঙ্গাইলে চীনা স্কুলশিক্ষক
যুক্তরাষ্ট্রে রাসায়নিক ট্যাংক বিস্ফোরণে নিহত বেড়ে ১১
৪০০ টাকায় কেনা চামড়া বিক্রি ১৫০ টাকায়
মে মাসে মব সহিংসতায় সর্বোচ্চ ৩২ মৃত্যু: এমএসএফ
প্রাণনাশের শঙ্কায় ঈদে বাড়ি যাননি এনসিপি নেত্রী বর্ষা
জাতিসংঘের সর্বোচ্চ সম্মানে ভূষিত হচ্ছেন ৬ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী
জ্বালানি তেলের নতুন দাম, লিটারপ্রতি বাড়লো ৫ টাকা
জিয়াউর রহমান ও বাংলাদেশ একে অপরের পরিপূরক: মির্জা ফখরুল
দুঃসংবাদ পিছু ছাড়ছেনা জ্যাকলিনের!
সামনে চ্যালেঞ্জিং সময়, দায়িত্বশীল না হলে দেশের ক্ষতি হবে: প্রধানমন্ত্রী
পিএসজির শিরোপা উদযাপন ঘিরে ফ্রান্সজুড়ে তাণ্ডব
জঙ্গল সলিমপুরে সন্ত্রাসীদের ঠাঁই হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
দিল্লিতে পাঁচতলা ভবন ধস, ধ্বংসস্তূপের নিচে শতাধিক শিক্ষার্থী