Sobar Desh | সবার দেশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১:১৪, ৫ জুন ২০২৫

পেছনে কী কৌশল?

যুক্তরাষ্ট্রে ১২ দেশের নাগরিকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা

যুক্তরাষ্ট্রে ১২ দেশের নাগরিকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা
ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় নিরাপত্তার যুক্তি দেখিয়ে ১২টি দেশের নাগরিকদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ট্রাম্পের স্বাক্ষরিত এ নির্বাহী আদেশ ৯ জুন সোমবার থেকে কার্যকর হবে।

সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ দেশগুলোর তালিকায় রয়েছে: আফগানিস্তান, মিয়ানমার, চাদ, কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, ইরিত্র্রিয়া, হাইতি, ইরান, লিবিয়া, নিরক্ষীয় গিনি, সোমালিয়া, সুদান ও ইয়েমেন।

এছাড়া আরও সাতটি দেশের ওপর আংশিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে—যেমন: বুরুন্ডি, কিউবা, লাওস, সিয়েরালিওন, টোগো, তুর্কমেনিস্তান এবং ভেনেজুয়েলা।

হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অ্যাবিগেল জ্যাকসন বলেন, এটা কোনও সাধারণ নিষেধাজ্ঞা নয়, বরং যেসব দেশ নিরাপত্তা যাচাই-বাছাই ও পরিচয় নিশ্চিতকরণে ব্যর্থ, তাদের নাগরিকদের প্রবেশ ঠেকাতে আমরা বাধ্য হয়েছি।

পুরোনো ‘মুসলিম নিষেধাজ্ঞা’র ছায়া

বিশ্লেষকরা বলছেন, ২০১৭ সালে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে জারি হওয়া বিতর্কিত ‘মুসলিম ব্যান’-এর পুনরাবৃত্তি এ সিদ্ধান্ত। সে সময় পাঁচটি মুসলিমপ্রধান দেশসহ মোট সাত দেশের নাগরিকদের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল। শুরুতে ব্যাপক আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়লেও, ২০১৮ সালে সুপ্রিম কোর্ট ৫-৪ ভোটে তা বহাল রাখে, যা ট্রাম্পের প্রশাসনের বড় জয় হিসেবে ধরা হয়।

ট্রাম্প এবারও প্রায় একই কৌশল নিয়েছেন। তবে এবার আরও কয়েকটি আফ্রিকান ও ক্যারিবীয় দেশ এতে যুক্ত হওয়ায় এ নিষেধাজ্ঞার চরিত্র আরও বিস্তৃত এবং রাজনীতিকভাবে স্পর্শকাতর হয়ে উঠেছে।

শিক্ষার্থীদের ভিসা বন্ধ, হার্ভার্ডও বাদ নয়

এ নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন, যার ফলে হার্ভার্ডসহ দেশটির বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিদেশি শিক্ষার্থীদের নতুন করে ভিসা দেয়ার প্রক্রিয়াও স্থগিত করা হয়েছে। এটি মার্কিন শিক্ষা খাতে আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণকারীদের জন্য এক বড় ধাক্কা বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

নিরাপত্তার অজুহাত, বাস্তবে রাজনৈতিক কৌশল?

ট্রাম্প তার নিজস্ব সোশ্যাল মিডিয় 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ পোস্ট করা ভিডিওবার্তায় দাবি করেন, বিদেশি নাগরিকদের যথাযথ যাচাই না করেই প্রবেশের সুযোগ দেয়াই আমেরিকার জন্য বড় হুমকি। তিনি কলোরাডোতে সম্প্রতি এক বিদেশি নাগরিক কর্তৃক হামলার ঘটনাও তুলে ধরেন। তবে সে ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তি মিশরের নাগরিক হলেও মিশরের নাম এ নিষেধাজ্ঞার তালিকায় নেই।

বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, এটি একটি নির্বাচনি কৌশলের অংশ, যেখানে অভিবাসন বিরোধী অবস্থানকে উস্কে দিয়ে ট্রাম্প তার মূল ভোটব্যাংককে উজ্জীবিত রাখার চেষ্টা করছেন।

আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে সিদ্ধান্তটি

রয়টার্সের হোয়াইট হাউস প্রতিবেদক জেফ ম্যাসন বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের এমন নির্বাহী সিদ্ধান্ত আদালতে কতটা টিকবে, সেটিই এখন মূল প্রশ্ন। প্রথম মেয়াদেও এমন নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে বহু আইনি লড়াই হয়েছে। এবারও সে পথেই হয়তো হেঁটে চলবে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলো ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো।

তবে ট্রাম্প শিবির মনে করে, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার স্বার্থে প্রেসিডেন্টের এমন পদক্ষেপ নেয়ার পূর্ণ এখতিয়ার রয়েছে।

এ নিষেধাজ্ঞা কেবল নিরাপত্তাজনিত শঙ্কার নিরসন নয়, বরং এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে অভিবাসনবিরোধী রাজনীতি, মুসলিম এবং কৃষ্ণাঙ্গপ্রধান দেশগুলোর নাগরিকদের টার্গেট করা এবং আসন্ন নির্বাচনের আগে কট্টর সমর্থকদের খুশি রাখা। যে কারণে এ সিদ্ধান্ত শুধু আমেরিকার বৈদেশিক নীতি নয়, বরং বিশ্ব রাজনীতির দৃষ্টিতে এক বহুমাত্রিক বিতর্কে পরিণত হতে চলেছে।

সবার দেশ/কেএম

শীর্ষ সংবাদ:

পাঁচ অস্ত্রসহ গ্রেফতার লিটন গাজী সম্পর্কে সব জানালো পুলিশ সুপার
আনসার ভিডিপি ব্যাংকের ৯ কোটি টাকা আত্মসাৎ, ব্যবস্থাপক গ্রেফতার
লালমনিরহাটে স্বামী হত্যা মামলায় স্ত্রী ও পরকীয়া প্রেমিকের যাবজ্জীবন
ভোলাহাটে বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে কলেজ শিক্ষকের মৃত্যু
সৌদি আরবে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দালাল চক্রের খপ্পরে
বাংলাদেশ সীমান্তে পঁচছে ৩০ হাজার টন ভারতীয় পেঁয়াজ
সুদের টাকার জন্য নোয়াখালীতে ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যা, গ্রেফতার-১
ইমরান খান বেঁচে আছেন, দেশ ছাড়তে চাপ: পিটিআই
হাসিনা-রেহানা-টিউলিপের প্লট দুর্নীতি মামলার রায় আজ
শুরু হলো বিজয়ের মাস
বিডিআর হত্যাকাণ্ডে ভারত জড়িত
খালেদা জিয়ার খোঁজ নিতে হাসপাতালে জামায়াত সেক্রেটারি
স্কুল ভর্তির লটারি ১১ ডিসেম্বর
বিডিআরকে দুর্বল করে ক্ষমতা টিকিয়ে রাখাতেই পিলখানা হত্যাকাণ্ড
ছয় উপসচিবের দফতর পরিবর্তন