Sobar Desh | সবার দেশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৮:৫৯, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫

বৃষ্টি ও অনাহারে বিপর্যস্ত হাজারো মানুষ

আফগানিস্তানে ভয়াবহ ভূমিকম্পে নিহত ২২০০ ছাড়াল

আফগানিস্তানে ভয়াবহ ভূমিকম্পে নিহত ২২০০ ছাড়াল
ছবি: সংগৃহীত

আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলে আঘাত হানা ভয়াবহ ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২ হাজার ২০০ ছাড়িয়েছে। গত রোববার গভীর রাতে পাকিস্তান সীমান্তবর্তী দুর্গম পার্বত্য এলাকায় রিখটার স্কেলে ৬.০ মাত্রার এই ভূমিকম্প আঘাত হানে, যা কয়েক দশকের মধ্যে আফগানিস্তানের সবচেয়ে ভয়াবহ ভূমিকম্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

তালেবান সরকারের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, কুনার প্রদেশে সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সেখানে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ২০৫ এবং আহত হয়েছে ৩ হাজার ৬৪০ জন। নানগারহার ও লাগমান প্রদেশে আরও ১২ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে এবং শত শত মানুষ আহত হয়েছে।

তালেবান সরকারের উপ-প্রবক্তা হামদুল্লাহ ফিত্রাত জানিয়েছেন, ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে শত শত মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, তবে উদ্ধার তৎপরতা এখনো চলছে।

বৃষ্টি ও দুর্ভোগে অসহায় মানুষ

ভূমিকম্পের পর চার দিন পার হলেও কুনারের শেল্ট গ্রামের কৃষক খান জামান হানাফির মতো অনেকেই ভেবেছিলেন দুঃস্বপ্ন শেষ হয়েছে। কিন্তু এরপরই নেমেছে অবিরাম বৃষ্টি। তিনি জানান, সরকার ও সাহায্য সংস্থাগুলো তাদের গ্রামকে ভুলে গেছে। বৃষ্টির কারণে খোলা মাঠে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন তারা। বর্তমানে তিনি তার পরিবার নিয়ে ভুট্টাক্ষেতে অবস্থান করছেন।

সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত কুনারের দুর্গম এলাকায় প্রবেশের সীমাবদ্ধতা এবং বারবার আফটারশকের কারণে ত্রাণকাজে বড় বাধা তৈরি হয়েছে। পাহাড়ি রাস্তায় ভূমিধসের ঝুঁকি বাড়ায় সড়ক যোগাযোগও প্রায় বিচ্ছিন্ন।

খোলা আকাশের নিচে শত শত পরিবার

কুনারের নুরগাল জেলায় শত শত মানুষ খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাচ্ছেন। ধ্বংসস্তূপ থেকে প্লাস্টিক ও কাপড়ের টুকরো জোগাড় করে অস্থায়ী আশ্রয় গড়ে তুলেছেন অনেকে। মাজার দারার খোলা প্রান্তরে শত শত ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার জড়ো হয়েছে, কিন্তু খাদ্যের সংকট ভয়াবহ।

৪৮ বছর বয়সী জাহির খান সাফি বলেন,

গতকাল কিছু মানুষ খাবার এনেছিলো, সবাই ছুটে গিয়েছিল। মানুষ না খেয়ে আছে, আমরা অনেকদিন ধরে কিছু খাইনি।

অতীতের যোদ্ধাদের পথ আজ মৃত্যুপুরী

এ উপত্যকাগুলো একসময় পাকিস্তানের সঙ্গে যোদ্ধাদের চলাচল ও চোরাচালানের জন্য পরিচিত ছিলো। পাহাড়ের গায়ে গড়ে ওঠা মাটির ঘরগুলো একটার ওপর আরেকটা সাজানো থাকায় ভূমিকম্পে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এখন সে পাহাড়ি গ্রামগুলোতে মৃত্যু ও অনাহারের ছায়া নেমে এসেছে।

চলমান এ মানবিক বিপর্যয়ে আন্তর্জাতিক ত্রাণ সহায়তা শুরু হলেও দুর্গম অঞ্চলগুলোতে এখনো ত্রাণ পৌঁছানো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সবার দেশ/কেএম

সর্বশেষ