নোবেল পুরস্কার ঘোষণা আগামী সপ্তাহে: ইতিহাস, প্রক্রিয়া ও বিতর্ক
আগামী সপ্তাহ থেকে শুরু হচ্ছে এবারের নোবেল পুরস্কারের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা। সোমবার (৭ অক্টোবর) চিকিৎসা বা শারীরবিদ্যা শাখার নোবেল দিয়ে শুরু হবে সপ্তাহব্যাপী আয়োজন। এরপর প্রতিদিন বিভিন্ন শাখার বিজয়ীদের নাম প্রকাশ করা হবে।
এক সপ্তাহ পর অর্থনীতিতে নোবেলজয়ীদের নাম ঘোষণার মধ্য দিয়ে শেষ হবে এবারের আনুষ্ঠানিকতা।
প্রতি বছর চিকিৎসা বা শারীরবিদ্যা, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, সাহিত্য, শান্তি ও অর্থনীতিসহ ছয়টি ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে দেয়া হয় নোবেল পুরস্কার। প্রতিটি পুরস্কারের অর্থমূল্য ১ কোটি ১০ লাখ সুইডিশ ক্রোনা (প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার)। তবে নোবেল শুধু আর্থিক পুরস্কার নয়, এটি বিজয়ীকে এনে দেয় এমন এক মর্যাদা ও বিশ্বব্যাপী পরিচিতি, যা অধিকাংশ বিজ্ঞানী, সাহিত্যিক বা নেতার জন্য আজীবনের স্বপ্ন।
আলফ্রেড নোবেলের উত্তরাধিকার
ডিনামাইটের আবিষ্কারক, সুইডিশ রসায়নবিদ ও উদ্যোক্তা আলফ্রেড নোবেলই এ পুরস্কারের প্রবর্তক। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে তিনি সিদ্ধান্ত নেন, তার সম্পদ মানবকল্যাণে অসাধারণ অবদান রাখা ব্যক্তিদের স্বীকৃতির জন্য ব্যয় হবে। সে অনুযায়ী ১৯০১ সালে প্রথমবার নোবেল পুরস্কার দেয়া হয় পদার্থবিদ্যা, রসায়ন, চিকিৎসা, সাহিত্য ও শান্তি শাখায়।
নোবেল শুধু বিজ্ঞানীই ছিলেন না; তিনি কবিতা ও নাটক লিখতেন এবং তরুণ বয়সে রাশিয়ান, ফরাসি, ইংরেজি ও জার্মানসহ একাধিক ভাষায় কথা বলতে পারতেন। অস্ত্র প্রযুক্তি থেকে বিপুল সম্পদ অর্জন করলেও, পরবর্তী সময়ে শান্তিবাদী অস্ট্রিয়ান কর্মী বার্থা ভন সাটনারের প্রভাবে শান্তি পুরস্কারের শাখা যুক্ত করেন।
কারা দেয় নোবেল পুরস্কার?
আলফ্রেড নোবেল তার উইলে নির্ধারণ করেছিলেন কোন প্রতিষ্ঠান কোন শাখার পুরস্কার প্রদান করবে।
- পদার্থবিদ্যা ও রসায়ন: রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সেস
- সাহিত্য: সুইডিশ একাডেমি
- শারীরবিদ্যা বা চিকিৎসা: সুইডেনের ক্যারোলিনস্কা ইনস্টিটিউট মেডিকেল ইউনিভার্সিটি
- শান্তি: নরওয়ের নোবেল কমিটি (নরওয়ের পার্লামেন্ট নিয়োগ দেয়)
- অর্থনীতি (১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠিত): রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সেস
নোবেল শান্তি পুরস্কার নরওয়ের হাতে কেন দেয়া হয়েছিলো তা স্পষ্ট নয়, তবে ধারণা করা হয় নোবেলের সময়ে সুইডেন-নরওয়ে রাজনৈতিকভাবে একীভূত থাকায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিলো।
বিখ্যাত ও বিতর্কিত নোবেল
নোবেলজয়ীদের তালিকায় আছেন আইনস্টাইন, মেরি কুরি, নীলস বোর, আর্নেস্ট হেমিংওয়ে, আলবেয়ার কামু, নেলসন ম্যান্ডেলা, মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র, মুহাম্মদ ইউনূস ও মাদার তেরেসার মতো দিকপালরা।
তবে বিতর্কও কম নয়। ১৯৪৯ সালে চিকিৎসায় নোবেল পান এগাস মনিজ, বর্তমানে অগ্রহণযোগ্য ঘোষিত লোবোটমি পদ্ধতির জন্য। শান্তি পুরস্কারে হেনরি কিসিঞ্জার, ইয়াসির আরাফাত, ইয়িৎসহাক রবিন ও শিমন পেরেসকে পুরস্কার দেয়াও ব্যাপক সমালোচিত হয়েছিলো। এছাড়া ১৯৪৮ সালে মহাত্মা গান্ধীকে পুরস্কার না দেয়াকে ইতিহাসের বড় এক অবহেলা হিসেবে ধরা হয়।
নোবেল উৎসব
প্রতি বছর ১০ ডিসেম্বর, আলফ্রেড নোবেলের মৃত্যুদিবসে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেয়া হয়। শান্তি পুরস্কার দেয়া হয় অসলোতে, আর বাকি সব পুরস্কার সুইডিশ রাজার হাত থেকে স্টকহোম কনসার্ট হলে।
পরে স্টকহোম সিটি হলে প্রায় ১ হাজার ৩০০ অতিথির জন্য আয়োজন করা হয় জমকালো নোবেল ভোজভোজের। বিশ্বের শীর্ষ শেফরা মাসের পর মাস মেনু প্রস্তুত করেন। গত বছর পরিবেশন করা হয়েছিলো লাভেজ-ভর্তি ছাগলের দুধের চিজ, চিকেন কুইনেল, মিসো-গ্লেজড সেলারিয়াক, বাঁধাকপি, বেকড অ্যাপল টেরিন ও ব্রাউন বাটার কেক।
সূত্র : রয়টার্স
সবার দেশ/কেএম




























