দাবি যুক্তরাষ্ট্রের
মার্কিন ডেলটা ফোর্স স্ত্রীসহ মাদুরোকে তুলে এনেছে
লাতিন আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় সরাসরি সামরিক অভিযান চালিয়ে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া অ্যাডেলা ফ্লোরেসকে আটক করে দেশটির বাইরে সরিয়ে নেয়া হয়েছে—এমন দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে বলা হয়েছে, এ অভিযান পরিচালনা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের অভিজাত সামরিক ইউনিট ডেলটা ফোর্স।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজকে দেয়া তথ্য অনুযায়ী, রাজধানী কারাকাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় একযোগে হামলা চালিয়ে মাদুরো দম্পতিকে আটক করা হয়। অভিযানের পুরো দায়িত্বে ছিলো মার্কিন সেনাবাহিনীর ডেলটা ফোর্স, যা যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সন্ত্রাসবিরোধী ও বিশেষ অভিযান পরিচালনাকারী ইউনিট হিসেবে পরিচিত।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই ভেনেজুয়েলায় হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। নিজের মালিকানাধীন সোশ্যাল মিডিয়া ট্রুথ সোশালে দেয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলায় বড় পরিসরে একটি সফল সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছে। সে অভিযানে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে তার স্ত্রীসহ আটক করে দেশটির বাইরে নিয়ে আসা হয়েছে।
ট্রাম্প আরও জানান, এ অভিযানটি মার্কিন আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে পরিচালিত হয়েছে। অভিযানের বিস্তারিত তথ্য পরে জানানো হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি জানান, স্থানীয় সময় শনিবার বেলা ১১টায় ফ্লোরিডার মার-এ-লাগোতে একটি সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে বিস্তারিত বক্তব্য দেবেন।
এর আগে ভেনেজুয়েলা সরকার এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে অভিযোগ করে জানায়, যুক্তরাষ্ট্র দেশটির একাধিক রাজ্যে সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। কারাকাসের পক্ষ থেকে এ হামলাকে সরাসরি সামরিক আগ্রাসন হিসেবে আখ্যা দেয়া হয়।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভেনেজুয়েলা সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী রাজধানী কারাকাসের পাশাপাশি মিরান্ডা, আরাগুয়া ও লা গুয়াইরা রাজ্যেও হামলা চালানো হয়েছে। একই সঙ্গে ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়, ভেনেজুয়েলার তেল ও খনিজ সম্পদ দখলের উদ্দেশ্যেই এইসামরিক আক্রমণ চালানো হয়েছে। তবে দেশটির সরকার হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, সে লক্ষ্য কখনোই বাস্তবায়ন হতে দেওয়া হবে না।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো দেশজুড়ে জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন বলে জানানো হয়। নিরাপত্তা জোরদারে সেনাবাহিনী ও প্রতিরক্ষা বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়েছে।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) তথ্য অনুযায়ী, কারাকাসে একের পর এক বিস্ফোরণের খবর আসার কিছুক্ষণ আগেই মার্কিন ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) ভেনেজুয়েলার আকাশসীমা ব্যবহার না করার নির্দেশ দেয়। এফএএ একে চলমান সামরিক তৎপরতার সঙ্গে যুক্ত বলে উল্লেখ করেছে। এ নিষেধাজ্ঞা জারির পরই রাজধানীতে অন্তত সাতটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।
উল্লেখ্য, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই মাদুরোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে মাদক পাচার ও অবৈধ অভিবাসনে সহায়তার অভিযোগ করে আসছেন। ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, যেকোনও সামরিক পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য হচ্ছে মাদক চোরাচালান বন্ধ করা। অন্যদিকে মাদুরো বরাবরই দাবি করে আসছেন, যুক্তরাষ্ট্র আসলে ভেনেজুয়েলাকে নিয়ন্ত্রণে নিতে চায় এবং তাদের মূল লক্ষ্য দেশটির বিপুল জ্বালানি ও প্রাকৃতিক সম্পদ।
২০২৪ সালের নির্বাচনে মাদুরোর বিজয়কে যুক্তরাষ্ট্র স্বীকৃতি দেয়নি, যা দুই দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনাকে আরও তীব্র করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সূত্র: বিবিসি
সবার দেশ/কেএম




























