ট্রাম্পের সুনজরে বাংলাদেশ, নেই ভারত
মার্কিন সরকারের অভিবাসী কল্যাণ ও সহায়তা সুবিধা গ্রহণকারী দেশগুলোর তালিকায় বাংলাদেশের নাম থাকলেও সেখানে নেই ভারতের নাম। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত ৪ জানুয়ারি এ সংক্রান্ত একটি তালিকা প্রকাশ করেন, যা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে।
বার্তা সংস্থা পিটিআইয়ের বরাতে দ্য হিন্দু জানিয়েছে, ‘ইমিগ্রান্ট ওয়েলফেয়ার রিসিপিয়েন্ট রেটস বাই কান্ট্রি অব অরিজিন’ শিরোনামের এ তালিকায় বিশ্বজুড়ে প্রায় ১২০টি দেশ ও অঞ্চল অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তালিকায় দেখানো হয়েছে, কোন দেশের কত শতাংশ অভিবাসী পরিবার যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি কল্যাণ ও সহায়তা সুবিধা গ্রহণ করে। তবে এ তালিকায় ভারতের নাম নেই, যা বিশেষভাবে নজর কেড়েছে।
ট্রাম্প তার মালিকানাধীন সোশ্যাল মিডিয়া ট্রুথ সোশ্যালে একটি চার্ট শেয়ার করে এ তথ্য প্রকাশ করেন। চার্ট অনুযায়ী, বাংলাদেশের অভিবাসী পরিবারগুলোর মধ্যে ৫৪ দশমিক ৮ শতাংশ বিভিন্ন ধরনের সরকারি সহায়তা গ্রহণ করে। পাকিস্তানের ক্ষেত্রে এ হার ৪০ দশমিক ২ শতাংশ, নেপালে ৩৪ দশমিক ৮ শতাংশ, চীনে ৩২ দশমিক ৯ শতাংশ, ইসরাইল ও ফিলিস্তিন অঞ্চলের ক্ষেত্রে ২৫ দশমিক ৯ শতাংশ এবং ইউক্রেনের ক্ষেত্রে ৪২ দশমিক ৭ শতাংশ। এছাড়া এশিয়ার অনির্দিষ্ট বা শ্রেণিবদ্ধ নয় এমন অঞ্চলের অভিবাসীদের মধ্যে ৩৮ দশমিক ৮ শতাংশ পরিবার সহায়তা পায়।
তথ্য-উপাত্তে আরও উঠে এসেছে, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বৃহত্তর জাতিগত গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে ভারতীয়-আমেরিকানদের গড় পারিবারিক আয় সবচেয়ে বেশি। পিউ রিসার্চ সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয়-আমেরিকানরা যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় বৃহত্তম এশীয় বংশোদ্ভূত জনগোষ্ঠী, যা দেশটির মোট এশীয় জনগোষ্ঠীর প্রায় ২১ শতাংশ।
২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয়দের নেতৃত্বাধীন পরিবারগুলোর বার্ষিক গড় পারিবারিক আয় ছিলো ১ লাখ ৫১ হাজার ২০০ ডলার। একই সময়ে সব এশীয়-নেতৃত্বাধীন পরিবারের গড় আয় ছিলো ১ লাখ ৫ হাজার ৬০০ ডলার। ভারতীয় অভিবাসী পরিবারের প্রধানদের ক্ষেত্রে গড় আয় আরও বেশি, প্রায় ১ লাখ ৫৬ হাজার ডলার। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেয়া ভারতীয় পরিবারের প্রধানদের গড় আয় ছিলো ১ লাখ ২০ হাজার ২০০ ডলার।
পিউ রিসার্চ সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে ১৬ বছর বা তার বেশি বয়সী ভারতীয়-আমেরিকানদের গড় বার্ষিক ব্যক্তিগত আয় ছিলো ৮৫ হাজার ৩০০ ডলার, যা যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত সমগ্র এশীয় জনগোষ্ঠীর গড় ব্যক্তিগত আয় ৫২ হাজার ৪০০ ডলারের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
বিশ্লেষকদের মতে, এ আয়সংক্রান্ত বাস্তবতার কারণেই ট্রাম্প প্রশাসনের প্রকাশিত অভিবাসী সহায়তা তালিকায় ভারতের নাম না থাকা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সবার দেশ/কেএম




























