কারাগারেও প্রাণ গেলো অভিযুক্ত ব্যবসায়ীর
রংপুরে বিষাক্ত মদপানে মৃত্যু মিছিল, সংখ্যা বেড়ে ৮
রংপুরে নেশার উদ্দেশ্যে রেন্টিফাইড স্পিরিট পান করে মৃত্যুর ঘটনা আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। নতুন করে আরও একজনের মৃত্যু হওয়ায় এ ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ জনে। সর্বশেষ মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) রাতে মাদক ব্যবসায়ী সন্দেহে গ্রেফতার জয়নুল আবেদীন রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে মারা যান।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মৃতদের মধ্যে বদরগঞ্জ উপজেলার ৪ জন, রংপুর সদর উপজেলার ৩ জন এবং মেট্রোপলিটন হাজিরহাট থানা এলাকার একজন রয়েছেন। নিহতরা হলেন—আমিরুল, সোহেল, জেন্দার আলী, রাশেদুল ইসলাম, মালেক মিয়া, জয়নুল আবেদীন, মানিক চন্দ্র রায় ও উলিয়ার রহমান।
ঘটনার সূত্রপাত হয় গত রোববার রংপুর সদর উপজেলার শ্যামপুর হাট এলাকায়। অভিযোগ রয়েছে, ওই এলাকার মাদক ব্যবসায়ী জয়নুল আবেদীনের কাছ থেকে বিষাক্ত রেন্টিফাইড স্পিরিট কিনে তা পান করেন বদরগঞ্জ উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের বসন্তপুর গ্রামের আমিরুল ইসলামের ছেলে আলমগীর হোসেন, একই উপজেলার পূর্ব শিবপুর গ্রামের মৃত রফিকুল ইসলামের ছেলে সোহেল মিয়াসহ আরও কয়েকজন।
ওই রাতেই বদরগঞ্জে আমিরুল ও সোহেলের মৃত্যু হয়। একই সময় সদর উপজেলার সাহপুর এলাকার শহিদার রহমানের ছেলে জেন্দার আলী মারা যান। পরে সদর উপজেলার রাশেদুল ইসলাম নামে আরও একজনের মৃত্যু হয়। সোমবার বদরগঞ্জে মালেক মিয়া নামের আরেক ব্যক্তির মৃত্যু হয়। সর্বশেষ মঙ্গলবার রাতে রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে মারা যান গ্রেফতারকৃত জয়নুল আবেদীন।
এছাড়া মেট্রোপলিটন হাজিরহাট থানা এলাকার মানিক চন্দ্র রায় রেন্টিফাইড স্পিরিট পান করে মারা যান। এসব ঘটনায় বিভিন্ন থানায় পৃথক পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে অন্তত একজনের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়।
এদিকে এলাকাবাসী জানিয়েছে, সদর উপজেলার চন্দপাট ইউনিয়নের বসন্তপুর গ্রামের উলিয়ার রহমান ওই রাতে স্পিরিট পান করে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ওই রাতেই সেখানে তার মৃত্যু হয়। তবে এ ঘটনায় পুলিশের কাছে তথ্য গোপন করে লাশ গোপনে দাফন করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে এ মৃত্যুর তথ্য পুলিশের আনুষ্ঠানিক রেকর্ডে নেই।
বদরগঞ্জ থানার ওসি হাসান জাহিদ সরকার জানান, মাদক ব্যবসায়ী সন্দেহে গ্রেফতার জয়নাল আবেদীন কারাগারে মারা গেছেন। তার থানার আওতাধীন এলাকায় মোট চারজনের মৃত্যুর তথ্য তারা পেয়েছেন।
রংপুর কোতোয়ালী থানার ওসি আব্দুল গফুর এবং হাজিরহাট থানার ওসি আজাদ রহমান জানান, লাশগুলো ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং প্রতিটি ঘটনায় পৃথক মামলা দায়ের হয়েছে।
রংপুরের পুলিশ সুপার মারুফাত হোসাইন বলেন, স্থানীয় এক শ্রেণির হোমিওপ্যাথিক চেম্বার থেকে মাদক ব্যবসায়ীরা এসব ওষুধ ও স্পিরিট সংগ্রহ করে থাকে বলে প্রাথমিকভাবে তথ্য পাওয়া গেছে। এরই মধ্যে নগরীর একটি হোমিওপ্যাথিক চেম্বারে গোয়েন্দা পুলিশ ও মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর যৌথ অভিযান চালিয়েছে। আমরা বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছি। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সবার দেশ/কেএম




























