Sobar Desh | সবার দেশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৫:৩৩, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

আদালতের রায়ে ধাক্কা

নতুন ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্কে সই ট্রাম্পের

নতুন ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্কে সই ট্রাম্পের
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বব্যাপী বাণিজ্যে একতরফাভাবে ভিন্ন ভিন্ন হারে শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তকে অবৈধ ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালত। প্রেসিডেন্ট Donald Trump–এর নেয়া সে সিদ্ধান্ত ফেডারেল আইন লঙ্ঘন করেছে বলে শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) এক ঐতিহাসিক রায়ে জানান বিচারকরা।

আদালতের পর্যবেক্ষণ, এ ধরনের একতরফা শুল্ক আরোপ যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি ও অর্থনীতিতে গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে। তবে রায়ের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পাল্টা পদক্ষেপ নেন ট্রাম্প। তিনি ঘোষণা দেন, ‘সেকশন ১২২’ নামে পরিচিত একটি আইনের আওতায় নতুন করে বিশ্বব্যাপী ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের নির্বাহী আদেশে সই করেছেন।

সোশ্যাল মিডিয়ায় দেয়া পোস্টে ট্রাম্প জানান, হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে বসেই তিনি এ আদেশে স করেছেন এবং এটি প্রায় তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হবে। নতুন শুল্ক আগামী মঙ্গলবার থেকে চালু হবে বলে জানানো হয়েছে।

হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা বলেন, যেসব দেশ ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পৃথক বাণিজ্য চুক্তি করেছে, তাদের ক্ষেত্রেও এ ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্ক প্রযোজ্য হবে। অর্থাৎ চুক্তিতে নির্ধারিত হারের পরিবর্তে তারা সেকশন ১২২ অনুযায়ী শুল্ক দেবে।

নতুন আদেশে কিছু খনিজ ও প্রাকৃতিক সম্পদ, সার, কমলা ও গরুর মাংসের মতো কৃষিপণ্য, ওষুধ, ইলেকট্রনিক পণ্য এবং নির্দিষ্ট কিছু গাড়িকে শুল্ক ছাড় দেয়া হয়েছে। তবে ছাড়ের তালিকা কতটা বিস্তৃত—তা নিয়ে স্পষ্টতা নেই। উত্তর আমেরিকান মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি ইউএসএমসিএ–এর আওতায় কানাডা ও মেক্সিকোর অধিকাংশ পণ্য এ শুল্ক থেকে অব্যাহতি পাবে।

এর আগে আদালত যে রায় দেন, তাতে বলা হয়—আইইইপিএ (International Emergency Economic Powers Act)–এর আওতায় প্রেসিডেন্ট যে শুল্ক আরোপ করেছিলেন, তা আইনসঙ্গত নয়। প্রধান বিচারপতি John Roberts–এর নেতৃত্বে ছয় বিচারক ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রায় দেন। তাদের মধ্যে ট্রাম্পের মনোনীত বিচারক Amy Coney Barrett ও Neil Gorsuch–ও ছিলেন। অন্যদিকে রক্ষণশীল বিচারক Clarence Thomas, Brett Kavanaugh ও Samuel Alito সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের বিরোধিতা করেন।

রায়ে আদালত উল্লেখ করেন, সংবিধান অনুযায়ী কর ও শুল্ক আরোপের ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে ন্যস্ত, প্রেসিডেন্টের নয়। শুল্কের মতো অস্বাভাবিক ক্ষমতা প্রয়োগ করতে হলে কংগ্রেসের স্পষ্ট অনুমোদন প্রয়োজন—কিন্তু ট্রাম্প তা দেখাতে পারেননি। আইইইপিএতে ‘নিয়ন্ত্রণ’ ও ‘আমদানি’ শব্দ থাকলেও এর মাধ্যমে সীমাহীন সময়ের জন্য যেকোনও দেশের ওপর যেকোনও হারে শুল্ক বসানোর ক্ষমতা প্রেসিডেন্টকে দেয়া হয়নি বলেও মন্তব্য করেন বিচারকরা।

মামলায় অংশ নেয়া অঙ্গরাজ্য ও ক্ষুদ্র ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের আইনজীবীরা যুক্তি দেন, সংশ্লিষ্ট আইনে ‘ট্যারিফ’ শব্দটিরই উল্লেখ নেই। তাদের দাবি, কংগ্রেস কখনও কর আরোপের ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের কাছে হস্তান্তর করতে চায়নি। আদালত এ যুক্তির প্রতি সমর্থন জানান।

রায়ের পর হোয়াইট হাউসে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ট্রাম্প বলেন, রিপাবলিকান প্রেসিডেন্টের মনোনীত বিচারকেরাই তার শুল্কনীতির বিপক্ষে ভোট দেয়ায় তিনি ‘ভীষণ লজ্জিত’। তার ভাষায়, সংশ্লিষ্ট বিচারকেরা ‘বোকা ও তোষামোদকারী’ এবং তাদের মধ্যে ‘দেশপ্রেমের অভাব’ রয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, এ রায়ে বিদেশি রাষ্ট্রগুলো সাময়িকভাবে উচ্ছ্বসিত হলেও তারা বেশিদিন আনন্দ করতে পারবে না।

এদিকে আদালতের সিদ্ধান্তে ওয়াল স্ট্রিটে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক প্রায় ০.৭ শতাংশ বেড়ে দিন শেষ করে। অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, আইইইপিএ–এর আওতায় আদায় করা বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার শুল্ক ফেরতের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেছেন, রায় মানেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে অর্থ ফেরত নয়; বিষয়টি দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে পারে এবং তা শেষ হতে কয়েক বছরও লাগতে পারে।

সব মিলিয়ে, আদালতের রায়ে ধাক্কা খেলেও ট্রাম্প প্রশাসন শুল্কনীতিতে পিছু হটছে না—বরং নতুন আইনি পথ ব্যবহার করে বৈশ্বিক বাণিজ্যে আবারও অনিশ্চয়তার আবহ তৈরি করেছে।

সূত্র: বিবিসি, রয়টার্স

সবার দেশ/কেএম

সর্বশেষ

শীর্ষ সংবাদ:

ফ্রান্সকে কাঁদিয়ে স্বপ্নের ফাইনালে স্পেন
নরসিংদীতে ২ মাসের শিশুর পা ভেঙ্গে দিলো আপন চাচি!
ফ্রান্সে বর্ণাঢ্য আয়োজনে পালিত হলো ‘ফেত নাসিওনাল’
বিরোধী দলকে সংবিধান সংশোধন কমিটিতে যোগ দেয়ার আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
দিল্লিতে বসে হুংকার দিয়ে লাভ নেই, ঢুকলেই গ্রেফতার: আইনমন্ত্রী
সংবিধানে গণভোট না থাকলে ২০২৬ সালে নির্বাচনও নেই: জামায়াত আমির
শিক্ষার্থীদের নিয়ে মন্তব্যে সংসদে দুঃখ প্রকাশ শিক্ষামন্ত্রীর
ফার্মের মুরগিরা রাস্তায় নেমেছিলো বলেই আপনারা মন্ত্রী: হাসনাত
হাসিনা দেশে ফিরলেই রায় কার্যকর: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
দেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে স্বৈরাচারকে বিদায় করেছে: প্রধানমন্ত্রী
বিএনপি কি একদলীয় শাসনের পথে?—প্রশ্ন আখতার হোসেনের
সংসদের ছাদ চুইয়ে পানি, আমার ঘরেও বাটি রাখতে হয়—ডেপুটি স্পিকার
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে সংবিধান সংশোধন কমিটি
মডেল মসজিদের নামে আওয়ামী লুটপাটের তদন্ত হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
২ কোটি টাকা চাঁদা না দেয়ায় ভাঙচুর-লুট
অভিনেত্রী শ্রাবন্তীর পিএস ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার
সাগরে ট্রলারডুবিতে চারজনের লাশ উদ্ধার, নিখোঁজ ১
আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড ম্যাচ ঘিরে ইতিহাসের উত্তাপ আবারও মাঠে