ইরানি জাহাজে গুলি, ওয়াশিংটন–তেহরান নতুন করে মুখোমুখি
ওমান উপসাগরে ইরানি পতাকাবাহী একটি পণ্যবাহী জাহাজে গুলি চালানোর ঘটনাকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। রোববার (১৯ এপ্রিল) সংঘটিত এ ঘটনার পর পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।
বার্তা সংস্থা এএফপির তথ্য অনুযায়ী, ইরানের অভিযোগ—মার্কিন নৌবাহিনীর একটি ডেস্ট্রয়ার তাদের জাহাজকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। তেহরানের দাবি, জাহাজটি আন্তর্জাতিক জলসীমায় চলাচল করছিলো এবং মার্কিন নৌ অবরোধ এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলো।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ভিন্ন। মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জাহাজটিকে একাধিকবার থামার নির্দেশ দেয়া হলেও তা উপেক্ষা করা হয়। এরপর বাধ্য হয়েই ব্যবস্থা নেয়া হয় বলে দাবি তাদের।
এ ঘটনায় ইরানের সামরিক বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড সেন্টার খাতাম আল-আম্বিয়ার এক মুখপাত্র তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, এ হামলাকে ‘সশস্ত্র জলদস্যুতা’ হিসেবে দেখা হচ্ছে এবং এর জবাব দেয়া হবে। তার ভাষায়, ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সশস্ত্র বাহিনী খুব শিগগিরই প্রতিশোধ নেবে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ৮ এপ্রিল থেকে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি যুক্তরাষ্ট্র নিজেই লঙ্ঘন করেছে।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোশ্যাল মিডিয়ায় দেয়া এক পোস্টে দাবি করেন, ইরানি জাহাজটি থামার নির্দেশ অমান্য করেছিলো। ফলে মার্কিন গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার USS Spruance জাহাজটির ইঞ্জিনরুম লক্ষ্য করে গুলি চালায়, যাতে সেটি থেমে যায়।
মার্কিন পক্ষ জানিয়েছে, বর্তমানে জাহাজটি তাদের মেরিন সেনাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। জাহাজটিতে কী ধরনের পণ্য ছিলো, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এ ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনাকে আরও উসকে দিতে পারে। বিশেষ করে সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সরবরাহের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এ অঞ্চলে এমন সংঘর্ষ আন্তর্জাতিক পর্যায়েও উদ্বেগ তৈরি করতে পারে।
সবার দেশ/কেএম




























