নেপালের বন্যার ভয়াবহতা, প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা
আকস্মিক বন্যায় বিপর্যস্ত নেপাল। বুধবার (২৬ আগষ্ট) সকালে তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকায় হঠাৎ বন্যার পানি, কাদা ও পাথরের স্রোত নেমে এসে নুয়াকোট, ধাদিংসহ আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে। মুহূর্তের মধ্যে তলিয়ে গেছে ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট ও বিভিন্ন স্থাপনা। কোথাও বাড়িঘর কাদার নিচে চাপা পড়েছে, কোথাও আবার পাহাড় থেকে নেমে আসা বিশাল পাথরের স্তূপ জমেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায়, বন্যার পর পুরো এলাকা যেনো ধূসর কাদার সাগরে পরিণত হয়েছে। কোথাও শুধু মন্দিরের চূড়া, কোথাও দোতলা বাড়ির সামান্য অংশ, আবার কোথাও কাদার স্তূপের মধ্যে পড়ে থাকা যানবাহন ও গাছপালা দেখা যাচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা দীপিকা জানান, বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তিনি বাড়ির উঠানে বাসনপত্র পরিষ্কার করছিলেন। হঠাৎ বাড়ির দিকে বন্যার পানি ও কাদার প্রবল স্রোত ধেয়ে আসতে দেখে তিনি পরিবারের সদস্যদের সতর্ক করেন। পরে সবাই দ্রুত বাড়ির ছাদে আশ্রয় নেন।
দীপিকা বলেন, ছাদে উঠে প্রাণে বাঁচলেও নিচতলা পুরোপুরি কাদায় ঢেকে গেছে। ঘরের আসবাবপত্রসহ প্রয়োজনীয় কোনও জিনিসই উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। এমনকি পান করার জন্য রাখা পানির কলসটিও কয়েক ফুট কাদার নিচে চাপা পড়ে গেছে। ফলে বন্যার পর তাদের কাছে পান করার মতো এক গ্লাস পানিও অবশিষ্ট নেই।
বন্যার ভয়াবহতার আরেকটি চিত্র পাওয়া গেছে ২৪ বছর বয়সী শ্রমিক বিবেক কুমালের ঘটনায়। বন্যার সময় তিনি একটি নির্মাণাধীন বাড়ির পাশে শৌচাগারের গর্ত খুঁড়ছিলেন। হঠাৎ সহকর্মীরা তাকে দ্রুত সরে যেতে বলেন। গর্ত থেকে উঠে দৌড়ে নিরাপদ স্থানে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন তিনি। এর মধ্যেই পানির বিশাল স্রোত তাকে ভাসিয়ে নিয়ে যায়।
সৌভাগ্যক্রমে একটি আমগাছে আটকে গিয়ে প্রাণে বেঁচে যান বিবেক। তবে পানির তীব্র স্রোত ও পাথরের আঘাতে তার ডান পায়ে গুরুতর আঘাত লাগে।
চীনের সীমান্তবর্তী এলাকার বিভিন্ন ভিডিওতেও বন্যার ভয়াবহতার চিত্র উঠে এসেছে। ভিডিওতে দেখা যায়, জীবন বাঁচাতে মানুষ ছোটাছুটি করছেন। মুহূর্তের মধ্যে পানি, কাদা ও পাথরের প্রবল স্রোত ঘরবাড়ি ও যানবাহন ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। অনেক স্থানে মানুষকে আতঙ্কে নিরাপদ আশ্রয়ের দিকে ছুটতে দেখা যায়।
এদিকে বন্যার সময় নদী পার হওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে স্রোতে পড়ে যায় ১১ বছর বয়সী স্কুলছাত্রী রিহানা লামিছানে। স্রোতের ধাক্কায় তার বুক ও পায়ে আঘাত লাগে। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
মেয়েকে নিরাপদে ফিরে পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন রিহানার মা। তবে আকস্মিক এ বন্যায় স্থানীয়দের মধ্যে এখনও আতঙ্ক বিরাজ করছে। বহু পরিবার ঘরবাড়ি হারিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে রয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা ও ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে নেপালের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোর বন্যার ভয়াবহতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। কাদা, পানি ও পাথরের স্রোতে একের পর এক স্থাপনা চাপা পড়ায় দুর্গত এলাকায় উদ্ধার তৎপরতাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
সূত্র: এনডিটিভি
সবার দেশ/কেএম




























