Sobar Desh | সবার দেশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৩:১৭, ৩০ নভেম্বর ২০২৫

ইন্দোনেশিয়ায় বন্যায় মৃত্যু ৪৪২—ক্ষুধায় খাবার-পানি চুরি বাসিন্দাদে

ইন্দোনেশিয়ায় বন্যায় মৃত্যু ৪৪২—ক্ষুধায় খাবার-পানি চুরি বাসিন্দাদে
ছবি: সংগৃহীত

ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপে ভয়াবহ বন্যায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৪২ জনে। নিখোঁজ রয়েছেন আরও শত শত মানুষ, আহত ও বাস্তুচ্যুত হয়েছেন লক্ষাধিক। পানিবন্দি, বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন এলাকায় ক্ষুধা-তৃষ্ণায় টিকে থাকার জোরালো চেষ্টায় অনেক বাসিন্দা বাধ্য হয়ে খাবার ও পানি চুরি করছে—রোববার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় কর্মকর্তারা।

প্রায় এক সপ্তাহ আগে শুরু হওয়া প্রবল বর্ষণ ও আকস্মিক প্লাবনে ভূমিধসের সৃষ্টি হয়, ভেঙে যায় সড়ক ও ব্রিজ। বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে সুমাত্রার বিশাল অংশ। জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার হিসেবে শুধু তিন প্রদেশ—উত্তর সুমাত্রা, পশ্চিম সুমাত্রা ও আচেহ—মিলে নিখোঁজের সংখ্যা ৪০২। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ২ লাখ ৯০ হাজারেরও বেশি মানুষ।

উদ্ধার তৎপরতা ব্যাহত হচ্ছে প্রতিকূল আবহাওয়া ও ভারী যন্ত্রপাতির অভাবে। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত উত্তর সুমাত্রার সিবোলগা এবং মধ্য তাপানুলির এলাকায় ত্রাণ পৌঁছাচ্ছে ধীরগতিতে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওচিত্রে দেখা গেছে, হাঁটুসমান পানিতে দাঁড়িয়ে মানুষ দোকানের ভাঙা দরজা ঠেলে খাবার, পানি, ওষুধ ও গ্যাস সংগ্রহের চেষ্টা করছে। কেউ কেউ ভেঙে পড়া রাস্তা, কাচ ও ধ্বংসস্তূপ মাড়িয়ে পৌঁছেছে কনভিনিয়েন্স স্টোরে।

লুটপাটের ঘটনাকে মানবিক সংকটের ফল বলে বিবেচনা করছেন সংশ্লিষ্টরা। উত্তর সুমাত্রার পুলিশের মুখপাত্র ফেরি ওয়ালিনতুকান জানান—লজিস্টিক সহায়তা পৌঁছানোর আগেই লোকজন খাবার সংগ্রহে দোকানে হানা দেয়। অনেকেই জানত না ত্রাণ পৌঁছাবে কি না, তারা আশঙ্কায় ছিলো—খাবার না পেলে হয়তো আর বাঁচা যাবে না।

ক্যাবিনেট সচিব টেডি ইন্দ্রা উইজায়ার তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনার পরদিনই রাজধানী জাকার্তা থেকে ১১টি হেলিকপ্টার পাঠানো হয় ত্রাণ ও সরবরাহ বিতরণে। তবে অনিশ্চিত আবহাওয়া ও ঝড়ো বাতাসের কারণে আকাশপথে অভিযান বারবার থেমে যাচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় সামরিক বাহিনীর মাধ্যমে আকাশ থেকে খাবার ও পানি ফেলার ভিডিওও প্রকাশ করেছে সরকার। ইতোমধ্যে চারটি নৌবাহিনীর জাহাজও ত্রাণ সহায়তায় বন্দরে নোঙর করেছে।

ধ্বংসস্তূপে এখনও নিখোঁজ মানুষদের সন্ধান চলছে। বন্যার পানি নামলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন উদ্ধারকর্মীরা।

সূত্র : অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস

সবার দেশ/কেএম