Sobar Desh | সবার দেশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ০০:১০, ২৩ মার্চ ২০২৬

আপডেট: ০০:১১, ২৩ মার্চ ২০২৬

ভিয়েতনামে বন্যা ও ভূমিধসে ৯০ প্রাণহানি, নিখোঁজ ১২

ভিয়েতনামে বন্যা ও ভূমিধসে ৯০ প্রাণহানি, নিখোঁজ ১২
ছবি: সংগৃহীত

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ ভিয়েতনাম-এ টানা ভারী বৃষ্টি, বন্যা ও ভূমিধসে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, অন্তত ৯০ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং এখনও ১২ জন নিখোঁজ রয়েছেন।

রোববার (২২ মার্চ) দেশটির পরিবেশ মন্ত্রণালয় জানায়, কয়েকদিন ধরে অব্যাহত ভারী বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের ফলে এ প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। বিশেষ করে দক্ষিণ-মধ্যাঞ্চলে পরিস্থিতি সবচেয়ে বেশি ভয়াবহ হয়ে উঠেছে।

অক্টোবরের শেষ দিক থেকে শুরু হওয়া টানা বৃষ্টিতে অঞ্চলটির জনজীবন কার্যত বিপর্যস্ত। কিছু এলাকায় গত এক সপ্তাহেই বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ১,৯০০ মিলিমিটার ছাড়িয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এ অঞ্চলটি কফি উৎপাদন ও পর্যটনের জন্য পরিচিত হওয়ায় অর্থনৈতিক ক্ষতিও ব্যাপক আকার ধারণ করেছে।

পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মধ্যাঞ্চলের পাহাড়ি জেলা ডাকলাক-এ ১৬ নভেম্বরের পর থেকে ৬০ জনের বেশি মানুষ মারা গেছেন। একই সঙ্গে ১০ হাজারেরও বেশি বাড়িঘর পানিতে তলিয়ে গেছে।

রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, দুর্গতদের উদ্ধারে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো থেকে মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়ার কাজ চলছে।

এদিকে উপকূলীয় শহর কুই নোন-এর একটি হাসপাতালে চরম খাদ্য সংকট দেখা দেয়। সেখানে চিকিৎসক ও রোগীরা টানা তিন দিন শুধুমাত্র নুডলস ও পানি খেয়ে ছিলেন। পরে উদ্ধারকারী দল সেখানে খাবার ও বিশুদ্ধ পানি পৌঁছে দেয়।

গত সপ্তাহে নাহা ট্রাং শহর পুরোপুরি প্লাবিত হয়। একই সময়ে জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র দা লাট-এর আশপাশে একাধিক ভয়াবহ ভূমিধসের ঘটনা ঘটে।

বন্যা ও ভূমিধসের কারণে দেশের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জাতীয় মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে, অনেক এলাকায় এখনও ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়নি।

বিদ্যুৎ ব্যবস্থাও বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। গত সপ্তাহে প্রায় ১০ লাখ মানুষ বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। এখনও ১ লাখ ২৯ হাজারের বেশি গ্রাহক বিদ্যুৎহীন অবস্থায় রয়েছেন।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, বন্যার কারণে পাঁচটি প্রদেশে প্রায় ৩৪৩ মিলিয়ন ডলারের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ৮০ হাজার হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়ে গেছে, যা খাদ্য নিরাপত্তার জন্যও বড় উদ্বেগ তৈরি করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে এমন চরম আবহাওয়া আরও ঘন ঘন দেখা দিচ্ছে, যা ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের দুর্যোগের আশঙ্কা বাড়াচ্ছে।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

সবার দেশ/কেএম

শীর্ষ সংবাদ:

তেল সংকট ও নিরাপত্তাহীনতায় বন্ধের পথে পেট্রোল পাম্প
ওসমান হাদি হত্যা: ইনকিলাব মঞ্চের ৬ দফা দাবি
রিয়ালের সঙ্গে ব্যবধান বাড়ালো বার্সেলোনা
ঈদ শেষে লন্ডনের পথে ডা. জুবাইদা রহমান
যুদ্ধ থামাতে ৬ শর্ত ইরানের
ইসরায়েলের অ্যারোস্পেস স্থাপনায় ইরানের হামলা
ফ্যাসিবাদের রাজনীতি আর চলবে না: জামায়াত আমির
ভিয়েতনামে বন্যা ও ভূমিধসে ৯০ প্রাণহানি, নিখোঁজ ১২
প্রেম নাকি পাসপোর্ট— মনিকার বিয়ে ঘিরে নেটদুনিয়ায় তোলপাড়
পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা হলেই হরমুজ বন্ধ— ইরানের কড়া হুঁশিয়ারি
ভারতে জেল খেটে দেশে ফিরলেন ৩৩ বাংলাদেশি
ইউরোপের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম ইরান: নেতানিয়াহু
চেলসির নারী দলে সুযোগ পেয়েও খেলেননি জাইমা রহমান: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী
২৪ ঘণ্টায় ১৫ জেলায় ঝরলো ৩২ প্রাণ—আহত শতাধিক
দক্ষিণ কোরিয়ার কারখানায় অগ্নিকাণ্ড, নিহত ১৪
সুদানের হাসপাতালে ভয়াবহ হামলায় নিহত ৬৪