ইরানে হামলা নিয়ে ক্ষোভে ফুঁসছে মার্কিন জনমত
ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক সামরিক হামলাকে কেন্দ্র করে খোদ যুক্তরাষ্ট্রের জনমনে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। বহু মার্কিন নাগরিক এই যুদ্ধকে ‘অপ্রয়োজনীয়’ এবং ‘কাণ্ডজ্ঞানহীন আগ্রাসন’ বলে অভিহিত করছেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানে প্রকাশিত এক জনমত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এমন প্রতিক্রিয়া।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে চালানো সামরিক হামলার ঘটনায় শত শত বেসামরিক নাগরিকের প্রাণহানির পাশাপাশি কয়েকজন মার্কিন সেনার মৃত্যুর খবর সামনে আসার পর সাধারণ মার্কিনিদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ আরও বাড়তে শুরু করেছে।
নিউইয়র্কের ব্রুকলিন এলাকার ৪১ বছর বয়সী ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মেগ এ হামলাকে মানবিক বিপর্যয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, রমজান মাস মুসলিমদের জন্য বিশেষ সময় হলেও ঠিক এ সময়েই এমন ধ্বংসাত্মক হামলা চালানো অত্যন্ত বেদনাদায়ক। তার ভাষায়, আমার অনেক মুসলিম বন্ধু আছে। এ সময়টায় এমন সহিংসতা আমাদের সবার মন ভেঙে দিয়েছে।
ইরানের রাজধানী তেহরানে জন্ম নেয়া এবং বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী ৬৬ বছর বয়সী অবসরপ্রাপ্ত হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ইরাজ রোশান মনে করেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সুস্পষ্ট কোনও কৌশল নেই। তার মতে, কেবল আকাশপথে হামলা চালিয়ে বা সীমিত সামরিক অভিযানে এ ধরনের সংঘাতের সমাধান সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, আয়াতুল্লাহদের প্রতি আমার কোনও সমর্থন নেই, কিন্তু এভাবে যুদ্ধ জেতা যায় না। স্থলবাহিনী পাঠানো বা স্থানীয়দের সম্পৃক্ত করা ছাড়া এ যুদ্ধের কোনও বাস্তব সমাধান দেখা যাচ্ছে না। এতে অকারণে অনেক তরুণ আমেরিকানকে এমন এক যুদ্ধে ঠেলে দেয়া হচ্ছে, যার কোনও সুস্পষ্ট গন্তব্য নেই।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতির সমালোচনাও করেছেন অনেকেই। নর্থ ক্যারোলাইনার ৭৪ বছর বয়সী বাসিন্দা বার্ব বলেন, এ যুদ্ধ ইরানি জনগণের কল্যাণের জন্য নয়, বরং ক্ষমতা প্রদর্শনের রাজনীতির অংশ।
টেক্সাসের ১৮ বছর বয়সী তরুণ শ্রীরাম শানমুগাম উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, এ সংঘাত ভবিষ্যতে আরেকটি দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের দিকে নিয়ে যেতে পারে। তার আশঙ্কা, এ পরিস্থিতি যেন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নতুন কোনো ইরাক যুদ্ধ বা আফগানিস্তানের মতো পরিণতি ডেকে না আনে।
ওয়াশিংটনের এক সমাজকর্মীও এ যুদ্ধের সমালোচনা করে বলেন, দেশে যখন আবাসন সংকট, বেকারত্ব এবং স্বাস্থ্যসেবার ঘাটতির মতো সমস্যা বাড়ছে, তখন সরকার বিপুল অর্থ ও সামরিক শক্তি বিদেশি যুদ্ধে ব্যয় করছে।
অনেক মার্কিন নাগরিকের মতে, এ সংঘাত শুধু মধ্যপ্রাচ্যেই মানবিক বিপর্যয় ডেকে আনবে না, বরং যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ সংকট ও রাজনৈতিক বিভাজনও আরও তীব্র করে তুলতে পারে।
সবার দেশ/কেএম




























