Sobar Desh | সবার দেশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ২১:৫২, ৬ মার্চ ২০২৬

খুররমশাহর-৪

ইরানি এক ক্ষেপণাস্ত্রেই ‘৮০’ ওয়ারহেড, বিভ্রান্ত ইসরায়েল

ইরানি এক ক্ষেপণাস্ত্রেই ‘৮০’ ওয়ারহেড, বিভ্রান্ত ইসরায়েল
ছবি: সংগৃহীত

ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই নতুন করে আলোচনায় এসেছে ইরানের শক্তিশালী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ‘খুররমশাহর-৪’। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তাদের ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ ফোর’-এর একটি ধাপে এ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ইসরায়েলের ভেতরে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে।

শুক্রবার ইরানি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, এ হামলার প্রধান লক্ষ্য ছিলো ইসরায়েলের বাণিজ্যিক কেন্দ্র তেল আবিব। বিশেষ করে বেন গুরিয়ন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং ইসরায়েলি বিমান বাহিনীর ২৭ নম্বর স্কোয়াড্রন ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয় বলে দাবি করা হয়েছে।

আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ইয়া হাসান ইবনে আলী’ সাংকেতিক নামে পরিচালিত অভিযানে খুররমশাহর-৪ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয় এবং তা নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছে।

ইরান আরও দাবি করেছে, ইসরায়েলের বহুস্তরবিশিষ্ট অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে ব্যর্থ হয়েছে। ড্রোন ও ভারী ক্ষেপণাস্ত্রের সমন্বিত হামলায় তেল আবিবের নিরাপত্তা বলয় ভেদ করা সম্ভব হয়েছে বলেও তাদের দাবি।

তবে এসব দাবির বিষয়ে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

ইরানের তৈরি খুররমশাহর-৪, যা ‘খাইবার’ নামেও পরিচিত, প্রথম প্রকাশ্যে আনা হয় ২০২৩ সালে। দেশটির অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজ অর্গানাইজেশনের দীর্ঘ গবেষণার ফল হিসেবে তৈরি এ ক্ষেপণাস্ত্রকে মাঝারি পাল্লার ব্যালিস্টিক মিসাইল হিসেবে বিবেচনা করা হলেও এর ক্ষমতা অনেক উন্নত বলে দাবি করা হয়।

প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, প্রায় সাড়ে ১৩ মিটার দীর্ঘ এ ক্ষেপণাস্ত্রের ওজন প্রায় দেড় থেকে দুই টন। এটি সর্বোচ্চ প্রায় তিন হাজার কিলোমিটার দূরত্বে আঘাত হানতে সক্ষম। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ইসরায়েলের যেকোনও স্থানে লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ করা সম্ভব।

এ ক্ষেপণাস্ত্রটির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এর অত্যন্ত দ্রুতগতি। উৎক্ষেপণের পর এটি শব্দের গতির প্রায় ১৬ গুণ (ম্যাক ১৬) গতিতে ছুটতে পারে বলে দাবি করা হয়। এছাড়া মাত্র ১৫ মিনিটের প্রস্তুতিতেই এটি উৎক্ষেপণ করা সম্ভব।

খুররমশাহর-৪ ক্ষেপণাস্ত্রের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো মাল্টিপল ওয়ারহেড বহনের সক্ষমতা। একটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রায় ১ হাজার ৮০০ কেজি পর্যন্ত বিস্ফোরক বহন করতে পারে। লক্ষ্যবস্তুর কাছাকাছি পৌঁছালে এ বিস্ফোরক প্রায় ৮০টি ছোট ওয়ারহেডে বিভক্ত হয়ে বিস্তৃত এলাকায় আঘাত হানতে পারে বলে দাবি করা হয়, যা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করে।

এদিকে আইআরজিসি আরও দাবি করেছে, তারা বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েতে অবস্থিত অন্তত ২০টি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতেও হামলা চালিয়েছে। তেহরানের দাবি, ওই হামলার পর কিছু মার্কিন সেনা তাদের ঘাঁটি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে বেসামরিক স্থাপনায় আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন।

তবে যুক্তরাষ্ট্র বা সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পক্ষ থেকে এসব দাবির স্বাধীন কোনও নিশ্চিত তথ্য এখনও পাওয়া যায়নি।

সবার দেশ/কেএম

শীর্ষ সংবাদ:

নিজ নামে স্কুলের নামকরণ বন্ধে শাহে আলমের চিঠি
চীনা জে-১০সিই কিনছে বাংলাদেশ, উদ্বিগ্ন ভারত
আওয়ামী লীগ এখন রাজনীতিতে অপ্রাসঙ্গিক: আসিফ মাহমুদ
বিতর্কের মুখে ‘সীমান্ত’ ও ‘দিগন্ত’ নাম বদলানোর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
বিএনপির ছত্রছায়ায় আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা জামিন পাচ্ছে: নাসীরুদ্দিন পাটওয়ারী
কবি আল মুজাহিদীর মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক
ফিফার পাওয়ার র‍্যাংকিংয়ে শীর্ষে মেসি, বিশ্বকাপে দুর্দান্ত হ্যাটট্রিক
ইরান যুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্র এখন আরও দুর্বল: ওবামা
পুলিশের পোশাকে ফের পরিবর্তন
পুরোনো ভিডিও দিয়ে নোয়াখালীতে মিছিলের গুজব ছড়াচ্ছে আ.লীগ: পুলিশ
ভিভাটেক ২০২৬: দশক পূর্তির উৎসবে ভবিষ্যৎ প্রযুক্তির রূপরেখা
নাইজারের বিমানবন্দরে ভয়াবহ জঙ্গি হামলা, নিহত ৩৫
যুক্তরাষ্ট্রে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের গাড়িতে গুলি, নিহত ১
ডেভিডের হ্যাটট্রিকে কাতারকে গুঁড়িয়ে দিলো কানাডা
শান্তিচুক্তির জন্য মরিয়া ছিলেন ট্রাম্প: মোজতবা খামেনি