হরমুজ আগে, পারমাণবিক পরে
ইরানের শর্ত মেনেই চুক্তি করছে যুক্তরাষ্ট্র!
বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তার কেন্দ্রবিন্দু হরমুজ প্রণালী ঘিরে সংকট সমাধানকে অগ্রাধিকার দিয়ে ইরানের শর্তেই আলোচনার গতিপথ নির্ধারিত হচ্ছে কি না—এ প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গনে।
সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে দেখা যাচ্ছে, প্রথমে যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখতে নৌবাহিনীর বিশেষ এসকর্ট কার্যক্রম শুরু করলেও মাত্র একদিনের ব্যবধানে তা স্থগিত করা হয়। পরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, কয়েকটি দেশের অনুরোধ এবং ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য সমঝোতায় অগ্রগতির কারণেই এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ঘোষণা দেন, চলমান সামরিক অভিযান ‘এপিক ফিউরি’ সমাপ্ত হয়েছে এবং এখন লক্ষ্য একটি সমঝোতা স্মারক (মেমোরেন্ডাম) তৈরি করা, যা ভবিষ্যৎ আলোচনার ভিত্তি হবে।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, ইরান দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনায় প্রথমে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও হরমুজ সংকট সমাধানকে অগ্রাধিকার দিতে চাইছে, আর পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা পরে করার প্রস্তাব দিয়েছে। এখন সে অবস্থানই আলোচনায় প্রাধান্য পাচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।
মধ্যস্থতায় সক্রিয় ভূমিকা রাখছে পাকিস্তান। দেশটির প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ জানিয়েছেন, এ কূটনৈতিক উদ্যোগ একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তির পথ খুলে দিতে পারে। সৌদি আরবের ভূমিকার কথাও আলোচনায় এসেছে।
তবে পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি স্থিতিশীল নয়। যুদ্ধবিরতির মধ্যে থেকেও উভয় পক্ষের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলার অভিযোগ উঠছে, যদিও বড় ধরনের সংঘাতে তা রূপ নেয়নি বলে দাবি যুক্তরাষ্ট্রের।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান অবস্থায় সীমিত একটি সমঝোতার সম্ভাবনা থাকলেও হরমুজ সংকট, আঞ্চলিক যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি—সব ইস্যু একসঙ্গে চূড়ান্ত সমাধানে পৌঁছানো এখনও বেশ কঠিন।
সব মিলিয়ে, আলোচনার গতি বাড়লেও কোন ইস্যু আগে সমাধান হবে—হরমুজ না পারমাণবিক কর্মসূচি—সে প্রশ্নেই এখন কূটনৈতিক অঙ্গন বিভক্ত।
সূত্র: আল-জাজিরা
সবার দেশ/কেএম




























