হাদি হত্যাকারীদের পালাতে সহায়তাকারী ফিলিপ সাংমা পশ্চিমবঙ্গে গ্রেফতার
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডের অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ ও আলমগীর হোসেনকে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশে সহায়তার অভিযোগে ফিলিপ সাংমা নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের বিশেষ টাস্কফোর্স। তিনি বাংলাদেশের নাগরিক বলে জানা গেছে।
শনিবার (১৪ মার্চ) পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার শান্তিপুর এলাকার কাছ থেকে তাকে আটক করা হয়।
সূত্র জানিয়েছে, ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট এলাকার বাসিন্দা ফিলিপ সাংমাকে আটকের বিষয়টি পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ কোলকাতায় অবস্থিত বাংলাদেশ উপহাইকমিশন কোলকাতাকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ফিলিপ সাংমাকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বীকার করেছেন যে, ফয়সাল করিম মাসুদ ও আলমগীর হোসেনকে মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে ভারতে ঢুকতে সহায়তা করেছিলেন। পরে বাংলাদেশে গ্রেফতার এড়াতে তিনিও অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেন।
গ্রেফতারের পর তাকে আদালতে হাজির করা হলে পুলিশ হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
এর আগে গত সপ্তাহে হাদি হত্যা মামলার অন্যতম প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও আলমগীর হোসেনকে বাংলাদেশ সীমান্তসংলগ্ন পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁ এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। পরে বিধাননগর মহকুমা আদালত তাদের ১৪ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন।
২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজের কিছুক্ষণ পর রাজধানীর পল্টন এলাকার কালভার্ট রোডে রিকশায় থাকা অবস্থায় ওসমান হাদিকে গুলি করে দুর্বৃত্তরা। মাথায় গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর পাঠানো হয়। সেখানে ছয় দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর তার মৃত্যু হয়।
হামলার ঘটনায় পুলিশ ফয়সাল করিম ও আলমগীরকে হামলাকারী হিসেবে চিহ্নিত করলেও দীর্ঘদিন তারা পলাতক ছিলেন। পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, হামলার দিনই তারা ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালিয়ে যান।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, সীমান্ত পারাপারের পরিকল্পনা আগে থেকেই করা ছিলো। এতে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন যুবলীগের নেতা তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পী জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সীমান্তে দালালদের সহায়তায় ফয়সাল ও আলমগীরকে ভারতে পার করে দেয়া হয়।
পরে অভিযান চালিয়ে ফিলিপ সাংমার দুই সহযোগীকেও গ্রেফতার করা হয়। তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, ফয়সাল ও আলমগীরকে সীমান্ত পার করানোর পর টেলিভিশনের খবর দেখে তারা বুঝতে পারেন, ঢাকায় বড় ধরনের হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে তারা পালিয়ে এসেছে। এরপর ফিলিপ সাংমাকে সতর্ক করা হলে তিনিও আত্মগোপনে চলে যান।
হাদি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এ পর্যন্ত ভারতে ফিলিপসহ তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতার হওয়া ফয়সাল ও আলমগীরকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
এ হত্যাকাণ্ডের মামলায় দেশে এখন পর্যন্ত ১২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা সবাই অভিযোগপত্রভুক্ত আসামি। তাইজুলসহ আরও দুজন এখনও পলাতক।
গত ৭ জানুয়ারি এ মামলায় ১৭ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দেয় গোয়েন্দা পুলিশ। তবে মামলার বাদী ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের নারাজি জানালে আদালত মামলাটি অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেন। বর্তমানে মামলাটির তদন্ত করছে পুলিশের বাংলাদেশ অপরাধ তদন্ত বিভাগ।
সবার দেশ/কেএম




























