Sobar Desh | সবার দেশ সবার দেশ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৪:২১, ১৪ মার্চ ২০২৬

ধর্মীয় নেতাদের মাসিক সম্মানী প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধন

নাগরিক শক্তিশালী হলেই শক্তিশালী হবে রাষ্ট্র: প্রধানমন্ত্রী 

নাগরিক শক্তিশালী হলেই শক্তিশালী হবে রাষ্ট্র: প্রধানমন্ত্রী 
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীতে ধর্মীয় নেতাদের সম্মানী কার্যক্রম উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, নাগরিকদের দুর্বল রেখে কোনও রাষ্ট্র কখনও শক্তিশালী হতে পারে না। তিনি বলেন, একটি দেশের প্রকৃত শক্তি নির্ভর করে তার নাগরিকদের আর্থিক, সামাজিক ও নৈতিক শক্তির ওপর। তাই ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।

শনিবার (১৪ মার্চ) সকাল ১০টায় রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমসহ বিভিন্ন ধর্মের ধর্মীয় নেতাদের মাসিক সম্মানী প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি বলেন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন মানুষের জীবনে আর্থিক স্বাচ্ছন্দ্য আনতে পারে, তবে একটি মানবিক সমাজ গড়ে তুলতে শুধু অর্থনৈতিক উন্নয়ন যথেষ্ট নয়। ধৈর্য, সততা, কৃতজ্ঞতা, সহনশীলতা, উদারতা এবং মানবিক মূল্যবোধ সমাজকে সুস্থ ও স্থিতিশীল করে তোলে। এসব গুণাবলি গড়ে তুলতে ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ধর্ম মানুষকে নৈতিকতা, দায়িত্ববোধ ও মানবিকতার শিক্ষা দেয়। তিনি পবিত্র হাদিসের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, যার মধ্যে আমানতদারি নেই এবং যে অন্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে না, সে প্রকৃত অর্থে ইমানদার নয়। একইভাবে যে ব্যক্তি তার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে না, তার কোনও ধর্মীয় মূল্যবোধও থাকে না।

তিনি আরও বলেন, সমাজে প্রতিহিংসা ও সহিংসতা দূর করতে ধর্মীয় শিক্ষার ইতিবাচক ভূমিকা রয়েছে। ধর্ম মানুষকে সহনশীলতা, শান্তি এবং পারস্পরিক সম্মানবোধ শেখায়, যা একটি সুস্থ সমাজ গঠনের জন্য অপরিহার্য।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানান, দেশে বর্তমানে প্রায় সাড়ে তিন লাখ মসজিদ রয়েছে। এসব মসজিদকে শুধু ইবাদতের স্থান হিসেবে নয়, বরং ধর্মীয়, সামাজিক ও নৈতিক শিক্ষার কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার সুযোগ রয়েছে।

তিনি অতীতের উদ্যোগগুলোর কথা স্মরণ করে বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় দেশে ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিলো। পরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সরকার মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম চালু করেছিলো, যা সমাজে ধর্মীয় শিক্ষা ও নৈতিক মূল্যবোধ ছড়িয়ে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলো।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারও সে ধারাবাহিকতা বজায় রেখে ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের জন্য সম্মানী প্রদান কর্মসূচি চালু করেছে এবং তাদের দক্ষতাকে রাষ্ট্রীয় উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি জানান, এ কর্মসূচির প্রথম ধাপে পাইলট প্রকল্প হিসেবে দেশের চার হাজার ৯০৮টি মসজিদ, ৯৯০টি মন্দির এবং ১৪৪টি বৌদ্ধ বিহারের মোট ১৬ হাজার ৯৯২ জন ধর্মীয় নেতাকে মাসিক সম্মানী দেয়া হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে দেশের সব ধর্মীয় নেতাকে এ কর্মসূচির আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

এছাড়া প্রতিটি জেলার আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত বৈঠকে একজন ইমাম, খতিব বা ধর্মীয় প্রতিনিধিকে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়েও সরকার ভাবছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে ধর্মীয় সম্প্রীতির ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান—সবাই মিলে এ দেশ। পারস্পরিক সম্মান ও সহযোগিতার মধ্য দিয়ে সবাইকে একসঙ্গে এগিয়ে যেতে হবে। কোনও অপশক্তি যেনো মানুষের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করতে না পারে সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি নিরাপদ, সহনশীল এবং মানবিক রাষ্ট্র গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য।

সবার দেশ/কেএম

জনপ্রিয়

শীর্ষ সংবাদ:

এই দামি বালিশ জাদুঘরে রাখা উচিত: প্রধানমন্ত্রী
অন্তর্বর্তী সরকারের চেয়ে এখন অপরাধ বেড়েছে: হাসনাত আবদুল্লাহ
মার্কিন চুক্তি অন্য দেশের সঙ্গে তুলনা করে দেখুন: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
‘এনসিপি বসন্ত’ চলমান
বিদ্যুতের দাম বাড়তে পারে ১৭-২১ শতাংশ
আমি হারিনি, পদত্যাগও করবো না: মমতা
নোয়াখালীতে ছাত্রদলের কমিটি বাতিলের দাবিতে আবারও বিক্ষোভ
এক ইঞ্চি মাটিও ছাড়বো না: শুভেন্দুকে নাজিম উদ্দীন আলম
চোরাই কাপড় যুবদল নেতার গোডাউনে, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা গ্রেফতার
পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন-পরবর্তী উগ্রবাদী বিজেপির সহিংসতা
শ্রীলঙ্কাকে টপকে টি-টোয়েন্টি র‍্যাঙ্কিংয়ে আটে বাংলাদেশ
বীরগঞ্জে জমি দখলের অভিযোগ, প্রবাসী পরিবারের আর্তনাদ
রাতেও বাড়ছে মেট্রোরেলের সময়, কমছে ট্রেনের ব্যবধান
বাংলাদেশে ক্যাম্পাস খুলতে চায় ইউনিভার্সিটি অব ক্যানবেরা
পশ্চিমবঙ্গে ‘পুশ ইন’ হলে ব্যবস্থা নেবে বাংলাদেশ: পররাষ্ট্রমন্ত্রী