আবেগঘন মুহূর্ত ওসমানী মিলনায়তনে
জায়মার হাতে খালেদা জিয়ার স্বাধীনতা পুরস্কার
দেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২৬ প্রদান অনুষ্ঠানে আবেগঘন এক মুহূর্তের জন্ম দিলেন জায়মা রহমান। মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন প্রয়াত খালেদা জিয়ার পদক গ্রহণ করেন তার নাতনি জাইমা রহমান—নিজ বাবা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত থেকে।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিকেল ৪টায় রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের ১৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের হাতে স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২৬ তুলে দেন।
প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে স্বাধীনতা, গণতন্ত্র, নারী শিক্ষা ও দেশ গঠনে সার্বিক অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এ বছর স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। তার অনুপস্থিতিতে পরিবারের পক্ষ থেকে পদক গ্রহণ করেন জাইমা রহমান। অনুষ্ঠানে এ দৃশ্য উপস্থিত অতিথিদের মধ্যে আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করে।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, খালেদা জিয়ার বোন সেলিমা ইসলাম, স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য, বিচারপতি, তিন বাহিনীর প্রধান এবং ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মন্ত্রিপরিষদসচিব ড. নাসিমুল গনি।
খালেদা জিয়া ছাড়াও এ বছর স্বাধীনতা পুরস্কার পেয়েছেন আরও ১৪ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি। তাদের মধ্যে রয়েছেন মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য মেজর মোহাম্মদ আবদুল জলিল (মরণোত্তর), বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে অধ্যাপক জহুরুল করিম, সাহিত্যে আশরাফ সিদ্দিকী (মরণোত্তর), সংস্কৃতিতে হানিফ সংকেত, সংগীতে বশীর আহমেদ (মরণোত্তর), ক্রীড়ায় জোবেরা রহমান লিনু, সমাজসেবায় ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী (মরণোত্তর)সহ আরও অনেকে।
প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বাধীনতা পুরস্কার পেয়েছে পাঁচটি সংস্থা—ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ), এসওএস চিলড্রেনস ভিলেজ ইন বাংলাদেশ এবং গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র।
স্বাধীনতা পুরস্কার বাংলাদেশের সর্বোচ্চ জাতীয় ও রাষ্ট্রীয় সম্মাননা। ১৯৭৭ সাল থেকে প্রতিবছর স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে এ পুরস্কার প্রদান করা হচ্ছে। পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রত্যেক ব্যক্তি পান ৫ লাখ টাকা, ১৮ ক্যারেট মানের ৫০ গ্রাম স্বর্ণপদক, পদকের রেপ্লিকা এবং সম্মাননাপত্র।
উল্লেখ্য, জাইমা রহমান ব্যক্তিগতভাবে খালেদা জিয়াকে ‘দাদু’ বলে সম্বোধন করতেন। গত বছরের ডিসেম্বরে সোশ্যাল মিডিয়ায় দেয়া এক আবেগঘন পোস্টে তিনি ‘দাদু’কে স্মরণ করে তার আদর্শ অনুসরণের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছিলেন। বৃহস্পতিবারের এ পুরস্কার গ্রহণ সে আবেগময় সম্পর্ককেই নতুন করে সামনে নিয়ে এলো।
সবার দেশ/কেএম




























