দাফনের সিদ্ধান্ত নেন মেজর মোজাফফর
পাহাড় থেকে শহীদ জিয়ার লাশ ফেলার নির্দেশ
১৯৮১ সালের ৩০ মে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের পর তার লাশ পাহাড় থেকে ফেলে দেয়ার নির্দেশ দেয়া হলেও শেষ পর্যন্ত সে নির্দেশ বাস্তবায়ন করেননি মেজর মোজাফফর। বরং তিনি গোপনে জানাজা শেষে জিয়াসহ তিনজন সামরিক কর্মকর্তাকে একসঙ্গে দাফন করেন। ১৯৯৪ সালে প্রকাশিত অনুসন্ধানী ধারাবাহিকের তৃতীয় কিস্তিতে উঠে এসেছে এমন দাবি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৩০ মে সকাল পর্যন্ত চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে নিহতদের লাশ ঘটনাস্থলেই পড়ে ছিলো। এ সময় কর্নেল মতিউর মেজর মোজাফফরকে রাঙামাটার কোনও পাহাড় থেকে প্রেসিডেন্ট জিয়ার লাশ ফেলে দেয়ার নির্দেশ দেন। যুক্তি হিসেবে বলা হয়, দাফন করা হলে তিনি জাতীয় বীর হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারেন।
নির্দেশ পাওয়ার পর মেজর মোজাফফর সার্কিট হাউসে গিয়ে প্রেসিডেন্ট জিয়াসহ নিহতদের লাশ সংগ্রহ করেন। বিছানার চাদর ও সেনাবাহিনীর গ্রাউন্ডশিটে লাশগুলো মুড়িয়ে একটি পিকআপে তোলা হয়। এরপর বহরটি রাঙ্গুনিয়ার দিকে রওনা দেয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, পথিমধ্যে অতীতের কয়েকটি ঘটনার কথা স্মরণ করেন মেজর মোজাফফর। ১৯৭৬ সালে কর্নেল ফারুক-রশীদের বিদ্রোহ পরিস্থিতি এবং ১৯৭৭ সালের অভ্যুত্থানচেষ্টার সময় তিনি প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। সে স্মৃতিই তার সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলে।
শেষ পর্যন্ত কর্নেল মতিউরের নির্দেশ অমান্য করে কাপ্তাই সড়কের পাথরঘাটা এলাকায় একটি স্থান নির্বাচন করেন তিনি। স্থানীয় এক মাদ্রাসার ইমামকে ডেকে এনে জানানো হয়, পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি বাহিনীর হামলায় তিন সামরিক কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন এবং তাদের দাফন করা হবে।
এরপর জানাজা শেষে একটি বড় কবরে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, লেফটেন্যান্ট কর্নেল আহসান এবং ক্যাপ্টেন হাফিজের লাশ একসঙ্গে দাফন করা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, এসব তথ্য ১৯৯৪ সালে প্রকাশিত অনুসন্ধানী ধারাবাহিক প্রতিবেদনের বর্ণনার ওপর ভিত্তি করে প্রকাশিত। এগুলো ঐতিহাসিক বর্ণনা ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি; স্বাধীনভাবে সব তথ্য যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
সবার দেশ/কেএম




























