কারাগার থেকে পালানো কয়েদি রিম্পা গ্রেফতার
গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া নারী কয়েদি মোছা. রিম্পা (২১) অবশেষে গ্রেফতার হয়েছেন। কারাগার থেকে পালানোর তিন দিন পর রোববার (১৯ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)।
বিষয়টি নিশ্চিত করে কারা অধিদফতরের এআইজি (প্রিজন্স) জান্নাতুল ফরহাদ জানান, পলাতক কয়েদিকে শনাক্ত, অবস্থান নির্ণয় এবং গ্রেফতারের পুরো প্রক্রিয়ায় প্রিজন্স ইন্টেলিজেন্স ইউনিট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গ্রেফতাতারের পর র্যাব রিম্পাকে কোনাবাড়ি থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করবে। পরে আদালতে হাজির করা হলে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী তাকে পুনরায় কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগারে পাঠানো হবে।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগার থেকে পালিয়ে যান রিম্পা। এ ঘটনায় শুক্রবার গাজীপুরের কোনাবাড়ি থানায় কারা কর্তৃপক্ষ মামলা দায়ের করে এবং তার সন্ধানে ব্যাপক অভিযান শুরু হয়।
কারাগার সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সময় প্রায় ৪০ জন নারী বন্দিকে দিয়ে কারাগারের ভেতরে ইট বহনের কাজ করানো হচ্ছিলো। দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের তদারকির ঘাটতির সুযোগে রিম্পা অফিস ভবনের পাশের দেয়ালের কার্নিশ বেয়ে সীমানা প্রাচীর টপকে পালিয়ে যান।
ঘটনার পরপরই কারা কর্তৃপক্ষ ও কারা গোয়েন্দা ইউনিট কারাগারের ভেতর ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক তল্লাশি চালায়। তবে প্রথমদিকে তার কোনও সন্ধান মেলেনি। পরে কারাগারের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে নিশ্চিত হওয়া যায় যে তিনি সীমানা প্রাচীর টপকে পালিয়ে গেছেন। এরপর গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হলে রোববার মোহাম্মদপুর থেকে তাকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়।
এদিকে বন্দি পালানোর ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে তিনজন মেট্রন ও চারজন নারী কারারক্ষীকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে কারা কর্তৃপক্ষ। বরখাস্ত হওয়া তিন মেট্রন হলেন লায়লা আনজুমান সুমি, মেরিনা ও রেহেনা। এছাড়া নারী কারারক্ষী শায়লা, শারমিন, জেমি ও আসমাকেও সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
জানা গেছে, রিম্পা মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার রায়পুর এলাকার বাসিন্দা এবং মো. হাসানের মেয়ে। ঢাকার ধানমন্ডি থানার একটি সিআর মামলায় তিন মাসের সাজাপ্রাপ্ত হয়ে তিনি কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগারে বন্দি ছিলেন।
ঘটনার পর বন্দি পালানোর কারণ, নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে কারা কর্তৃপক্ষ পৃথক তদন্ত কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
সবার দেশ/কেএম




























