কমিশনের বৈঠকে চার বিষয়ে দলগুলোর ঐকমত্য
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের দ্বিতীয় দফার আলোচনায় চারটি বিষয়ে বেশিরভাগ রাজনৈতিক দল একমত হয়েছে। সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ, সংসদের স্থায়ী কমিটি, নারী আসন বৃদ্ধি এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মেয়াদ ও কার্যপরিধি নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়।
ঢাকার বেইলী রোডে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে অংশ নেয় ৩০টি রাজনৈতিক দল। অধিকাংশ দলই প্রস্তাব করেছে, ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন করে অর্থ বিল, আস্থা ভোট এবং সংবিধান সংশোধন ব্যতীত অন্য সব বিষয়ে সংসদ সদস্যরা নিজস্ব মত অনুযায়ী ভোট দিতে পারবেন।
সংসদের স্থায়ী কমিটিতে বিরোধী দলের অংশগ্রহণ বাড়ানোর প্রস্তাব এসেছে। প্রস্তাবনায় বলা হয়, অন্তত ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ কমিটির সভাপতি বিরোধী দল থেকে আসা উচিত। কিছু দল স্বরাষ্ট্র, অর্থ, শিক্ষা ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত কমিটিগুলোর সভাপতিও বিরোধী দল থেকে করার প্রস্তাব দেয়।
নারী প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে, অধিকাংশ দল জাতীয় সংসদের নিম্নকক্ষে সংরক্ষিত নারী আসন ২৫ শতাংশ করার পক্ষে মত দেয়। কেউ কেউ সরাসরি ভোটে ১০০ নারী সদস্য নির্বাচনেরও প্রস্তাব দেয়।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে আলোচনায় কোনো দল বিরোধিতা করেনি। তবে মেয়াদ ও কাঠামো নিয়ে ভিন্নমত রয়েছে। বিএনপি তিন মাস, এনসিপি চার মাস এবং এবি পার্টি পাঁচ মাসের প্রস্তাব দেয়।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সংসদ সদস্যদের মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে। জাতীয় নিরাপত্তা ইস্যুতে দলীয় সিদ্ধান্ত মানার প্রস্তাবও দিয়েছে বিএনপি।
জামায়াতের নায়েবে আমীর সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, সংসদ সদস্যদের স্বাধীন মত প্রকাশের সুযোগ দিতে হবে। স্থায়ী কমিটির কমপক্ষে ৫০ শতাংশ বিরোধী দল থেকে হওয়া উচিত বলে মত দেন তিনি।
গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি বলেন, ৭০ অনুচ্ছেদ সংসদ সদস্যদের স্বাধীনতাকে হরণ করে। এটি ফ্যাসিবাদী ধারা বহন করে এবং বাতিল করা উচিত। তিনি জাতীয় নির্বাচনকে সংবিধান সংস্কার পরিষদের নির্বাচন হিসেবে বিবেচনার প্রস্তাব দেন।
ইসলামী আন্দোলনের মাওলানা গাজী আতাউর রহমান সংসদীয় কমিটিতে বিরোধী দলের ভূমিকা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নারী প্রতিনিধিত্বে প্রোপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন পদ্ধতির পক্ষে মত দেন।
আমার বাংলাদেশ পার্টির চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, অর্থ বিল, আস্থা ভোট ও সংবিধান সংশোধন ছাড়া অন্য বিষয়ে সংসদ সদস্যদের স্বাধীন ভোটাধিকার থাকা উচিত।
খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আহমদ আবদুল কাদের বলেন, কমিটিতে সভাপতি নিয়োগে অনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে হবে এবং নারী আসনেও অনুরূপ নিয়ম প্রযোজ্য হওয়া উচিত।
বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ। তিনি জানান, সব বিষয়ে একমত হওয়া সম্ভব নয়। যেসব বিষয়ে একমত হবে, সেগুলোই জাতীয় সনদে অন্তর্ভুক্ত হবে। জুলাইয়ের মধ্যে জাতীয় সনদের খসড়া চূড়ান্ত করার লক্ষ্য রয়েছে।
কমিশনের সদস্যদের মধ্যে ছিলেন বিচারপতি এমদাদুল হক, ড. বদিউল আলম মজুমদার, ড. ইফতেখারুজ্জামান ও মনির হায়দার প্রমুখ।
আলোচনায় অংশ নেয়া দলগুলোর মধ্যে রয়েছে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামি, গণসংহতি আন্দোলন, এনসিপি, এবি পার্টি, গণফোরাম, সিপিবি, বাসদ, এলডিপি, জাসদ, জাকের পার্টি, খেলাফত মজলিস, ইসলামী আন্দোলনসহ মোট ৩০টি রাজনৈতিক দল।
সবার দেশ/কেএম




























