বিচার বিভাগীয় স্বাধীনতাই সংস্কারের লক্ষ্য: প্রধান বিচারপতি
প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ বলেছেন, আমাদের সংস্কার রোডম্যাপের মূল লক্ষ্য হলো বিচার বিভাগীয় স্বাধীনতা এবং একটি দক্ষ, কার্যকর বিচার ব্যবস্থা গড়ে তোলা। মঙ্গলবার (১০ জুন) রাতে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) আয়োজিত বার্ষিক ‘রুল অব ল’ সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে তিনি অনলাইনে যুক্ত হয়ে লিখিত বক্তব্যে এ কথা বলেন।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে আয়োজিত এ আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিচার বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেছেন। তিন দিনব্যাপী এ সম্মেলনের সমাপ্তি হবে বৃহস্পতিবার।
প্রধান বিচারপতি বলেন, ইউএনডিপির ২৫তম বার্ষিক আইনের শাসন ও মানবাধিকার সভায় উদ্বোধনী ভাষণ দেয়ার সুযোগ পেয়ে আমি সম্মানিত বোধ করছি। তিনি বিশ্বব্যাপী, আঞ্চলিক ও জাতীয় পর্যায়ে আইনের শাসন ও মানবাধিকার রক্ষায় সম্মিলিত প্রচেষ্টার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, ন্যায়বিচার ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় বিশ্ব সম্প্রদায়ের ঐক্যবদ্ধ হওয়া জাতিসংঘ সনদের কেন্দ্রবিন্দুতে নিহিত। বিচার বিভাগ শক্তিশালী ও স্বাধীন হওয়া অত্যন্ত কঠিন কাজ, তবে সে চ্যালেঞ্জ মেনে নিয়ে এ মিশন সফল করতে জাতিসংঘকে পাশে চাই।
বাংলাদেশের বিচার বিভাগের সংস্কার রোডম্যাপ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে পূর্ববর্তী সরকারের পতনের পর অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যাত্রা শুরু করে। সেই পটভূমিতে প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব গ্রহণ করে আমি বিচার বিভাগে একটি রূপান্তরমূলক সংস্কার এজেন্ডা হাতে নিই, যা ন্যায়বিচার পুনরুদ্ধারে আমার সংকল্পকে আরও দৃঢ় করেছে।
তিনি আরও বলেন, ৪২ লাখের বেশি মামলার জট, বিচার বিভাগের প্রতি জনগণের গভীর অবিশ্বাস এবং ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের মতো চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও আমি নিরুৎসাহিত হইনি। বরং, যারা ন্যায়বিচারের জন্য রাস্তায় নেমেছে, তাদের আকাঙ্ক্ষা ও দাবি পূরণের লক্ষ্যেই আমি এ ‘সংস্কার রোডম্যাপ’ ঘোষণা করেছি।
প্রধান বিচারপতি বলেন, সংবিধান এবং মানবাধিকারের অভিভাবক হিসেবে বিচার বিভাগকে সর্বপ্রথম স্বৈরাচারী নিয়ন্ত্রণ থেকে মুক্ত করতে হবে। এরপর এটি এমন একটি স্বাধীন ও বিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত করতে হবে, যা বিচারপ্রার্থীদের জন্য কার্যকর প্রতিকার নিশ্চিত করতে সক্ষম।
সবার দেশ/এফএস




























