শান্তি, পুনরুদ্ধার ও সংস্কারের গল্প
অন্তর্বর্তী সরকারের এক বছরের ১২ সাফল্য
অন্তর্বর্তী সরকারের এক বছর পূর্তি উপলক্ষে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম একটি পোস্টে সরকারের ১২টি উল্লেখযোগ্য অর্জনের তালিকা প্রকাশ করেছেন। ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকারের যাত্রা শুরুর পর নানা চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে সরকার যে অগ্রগতি করেছে, তা তুলে ধরা হয়েছে এ তালিকায়।
১. শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরে এসেছে
জুলাই বিপ্লবের পর দেশে ফিরে এসেছে শান্তি ও শৃঙ্খলা। প্রতিশোধ নয়, বরং পুনর্মিলনের পথে জাতিকে পরিচালিত করেছে বর্তমান সরকার। নৈতিক নেতৃত্ব দিয়েছেন অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
২. অর্থনীতিতে দৃশ্যমান পুনরুদ্ধার
খাদ্য মূল্যস্ফীতি অর্ধেকে নেমে এসেছে, সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি নেমেছে ৩৫ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে। রেমিট্যান্সে রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে, রফতানি বেড়েছে ৯ শতাংশ। বহু বছর পর ডলারের বিপরীতে টাকার মান বেড়েছে, ব্যাংক খাতেও ফিরেছে স্থিতিশীলতা।
৩. বাণিজ্য ও বিনিয়োগে এগিয়ে যাওয়া
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শুল্ক আলোচনায় সফলতা এসেছে। সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ দ্বিগুণ হয়েছে। চীনা বিনিয়োগকারীদের আগ্রহও বেড়েছে। হানদা গ্রুপের ২৫ কোটি ডলারের বিনিয়োগ সৃষ্টি করেছে ২৫ হাজার কর্মসংস্থান।
৪. গণতান্ত্রিক সংস্কার ও জুলাই সনদ
৩০টির বেশি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ঐক্য গড়ে উঠেছে। গঠিত হয়েছে সংস্কার কমিশন। জুলাই সনদ গণতন্ত্র রক্ষায় ভবিষ্যতের সুরক্ষাকবচ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
৫. হত্যাযজ্ঞের বিচার প্রক্রিয়া শুরু
জুলাই-আগস্টের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে ইতোমধ্যেই চারটি প্রধান বিচার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। শেখ হাসিনার বিচারও শুরু হয়েছে, যা জবাবদিহির নতুন দৃষ্টান্ত।
৬. নির্বাচন ঘিরে সুস্পষ্ট পরিকল্পনা
২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের ঘোষণা এসেছে। প্রবাসী, নারী ও নতুন ভোটারদের অন্তর্ভুক্তির প্রতিশ্রুতি, নিরাপদ নির্বাচনের জন্য নিরাপত্তা বাহিনীর বড়সড় পরিকল্পনা চলছে।
৭. প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনগত সংস্কার
বিচার বিভাগে স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে নিয়োগে পরিবর্তন এসেছে। পুলিশের বিরুদ্ধে হয়রানি ঠেকাতে বডিক্যাম ও মানবাধিকার সেল চালু করা হয়েছে। নতুন আইনে গ্রেপ্তারের ১২ ঘণ্টার মধ্যে পরিবারের কাছে তথ্য পৌঁছানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
৮. সাংবাদিকতা ও ইন্টারনেট স্বাধীনতা
সাইবার নিরাপত্তা আইন বাতিল করা হয়েছে। সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহার হয়েছে। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ইন্টারনেট অধিকার মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।
৯. বৈদেশিক নীতিতে নতুন ভারসাম্য
একক নির্ভরতা পরিহার করে বৈচিত্র্যময় কূটনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বাণিজ্য ও স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন খাতে সম্পর্ক সুদৃঢ় হয়েছে। সার্ক ও আসিয়ানের দিকেও নজর দেওয়া হয়েছে।
১০. প্রবাসী ও শ্রমিকদের অধিকারে অগ্রগতি
আরব আমিরাত ও মালয়েশিয়ায় ভিসা পুনরায় চালু হয়েছে। অনিবন্ধিত শ্রমিকদের বৈধতা দেয়া হয়েছে। জাপান, ইতালি, দক্ষিণ কোরিয়া ও সার্বিয়ায় নতুন করে শ্রমিক পাঠানোর উদ্যোগ চলছে।
১১. শহীদ ও আহতদের সহায়তা
৭৭৫ শহীদ পরিবারের জন্য সঞ্চয়পত্র ও আর্থিক ভাতা প্রদান করা হয়েছে। প্রায় ১৩,৮০০ আহত বিপ্লবীর জন্য বরাদ্দ হয়েছে ১৫৩ কোটি টাকা। গুরুতরদের বিদেশে চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
১২. সমুদ্র অর্থনীতি ও অবকাঠামো উন্নয়ন
বঙ্গোপসাগরকে জাতীয় সম্পদ ঘোষণা করে ‘জলভিত্তিক অর্থনীতি’ গড়ে তোলার উদ্যোগ শুরু হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যকারিতা বেড়েছে, গভীর সমুদ্রমুখী শিল্প ও মৎস্য প্রকল্পে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চলছে।
এ এক বছরে সরকারের যাত্রা ছিলো দায়িত্বশীলতা, জবাবদিহি ও সংস্কারের দিকে। শফিকুল আলমের মতে, এ অগ্রগতিই আগামী নির্বাচন ও দীর্ঘমেয়াদি গণতান্ত্রিক শাসনের ভিত্তি গড়ে তুলবে।
সবার দেশ/কেএম




























