Sobar Desh | সবার দেশ সবার দেশ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০০:৪১, ২ ডিসেম্বর ২০২৫

আপডেট: ০০:৪১, ২ ডিসেম্বর ২০২৫

শুধু অধস্তন নয়, দায় নেবে ঊর্ধ্বতনও

গুমের সাজা যাবজ্জীবন, হতে পারে মৃত্যুদণ্ড

গুমের সাজা যাবজ্জীবন, হতে পারে মৃত্যুদণ্ড
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো গুম প্রতিরোধ ও বিচারের জন্য বিশেষ আইন কার্যকর হলো। ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ’ এর গেজেট সোমবার (১ ডিসেম্বর) রাতে প্রকাশ করেছে আইন, বিচার ও সংসদ মন্ত্রণালয়। এ আইনে গুম প্রমাণিত হলে সর্বনিম্ন সাজা যাবজ্জীবন এবং সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি গুমের ঘটনায় অপরাধীকে ৫০ লাখ থেকে ১ কোটি টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড দেয়ার বিধানও যুক্ত করা হয়েছে।

অধ্যাদেশে গুমকে জামিন অযোগ্য ও আপস-অযোগ্য অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। দেশে জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে গঠিত হবে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার ট্রাইব্যুনাল’, যেখানে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের তদন্ত প্রতিবেদন ভিত্তি করে সরাসরি বিচার শুরু করা যাবে। অভিযোগ গঠনের পর ১২০ কার্যদিবসের মধ্যেই বিচার শেষ করার নির্দেশও এতে যুক্ত হয়েছে।

গেজেট অনুযায়ী, কাউকে গ্রেফতার বা আটক করার পর সে বিষয়ে অস্বীকার করলে, বা তার অবস্থান গোপন করে আইনি সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত করলে তা গুম হিসেবে গণ্য হবে। এ অপরাধে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি যাবজ্জীবন বা ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা জরিমানার মুখোমুখি হবেন।

গুমের ফলে ভুক্তভোগীর মৃত্যু হলে, বা গুমের পাঁচ বছর পরও জীবিত বা মৃত অবস্থায় উদ্ধার সম্ভব না হলে, দায়ীদের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ ১ কোটি টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে। এছাড়া প্রমাণ নষ্ট করা, গোপন আটক কেন্দ্র তৈরি বা ব্যবহার করলেও সাত বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।

অধ্যাদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—অধস্তন সদস্যদের মতো একই শাস্তির আওতায় আসবেন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বা কমান্ডাররাও। অর্থাৎ গুমের নির্দেশ, অনুমতি, পৃষ্টপোষকতা বা তদারকিতে ব্যর্থতা প্রমাণিত হলে, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাও মূল অপরাধীর মতোই দণ্ড পাবেন। এমনকি তিনি সরাসরি অংশ না নিলেও অবহেলা বা নিয়ন্ত্রণ ব্যর্থতার দায়ও তার ওপর বর্তাবে।

পলাতক আসামির অনুপস্থিতিতেও মামলার বিচার সম্পন্ন করা যাবে এবং গুম হওয়া ব্যক্তির সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা ও হস্তান্তর বিষয়ে পৃথক ধারা রাখা হয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে গুমের অভিযোগ আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্র ছিল। বিশেষ করে ক্ষমতাচ্যুত সরকারের পতনের পর গোপন আটককেন্দ্র থেকে নিখোঁজদের ফেরত আসার ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও স্পষ্ট করে তোলে। এরপর গত ২৯ আগস্ট বাংলাদেশ কোনোরূপ শর্ত ছাড়া আন্তর্জাতিক গুমবিরোধী সনদে যুক্ত হয়। নতুন এ অধ্যাদেশ সে সনদ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এ আইনের প্রয়োগ ভবিষ্যতে রাষ্ট্র ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জবাবদিহির কাঠামো কতটা পরিবর্তন করবে—সব নজর এখন সেদিকেই।

সবার দেশ/কেএম

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ