বন্দর ধর্মঘটে ‘হার্ডলাইনে’ সরকার, জিম্মি করলে ছাড় নয়: উপদেষ্টা
চট্টগ্রাম বন্দরে চলমান শ্রমিক ধর্মঘটের ইস্যুতে সরকার কঠোর অবস্থানে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানিয়েছেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, বন্দর অচল করে ১৮ কোটি মানুষকে জিম্মি করার সুযোগ দেয়া হবে না।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
বিদেশি কোম্পানির কাছে বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে এবং চার দফা দাবিতে রোববার সকাল ৮টা থেকে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট শুরু করেন শ্রমিকরা।
উপদেষ্টা সাখাওয়াত হোসেন বলেন, কতিপয় লোক পুরো বন্দরকে জিম্মি করার চেষ্টা করছে। সামনে রোজা। বহির্নোঙরে ছোলা, ডাল, তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যবোঝাই জাহাজ পড়ে আছে। আমরা প্রতিনিয়ত নদীতে অভিযান চালাচ্ছি। ১৮ কোটি মানুষকে জিম্মি করা চলতে দেয়া যায় না।
তিনি জানান, সরকার ইতোমধ্যে কয়েকজনকে আটক করেছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। বাকিদেরও ধরা হবে,—যোগ করেন তিনি।
বন্দর কর্তৃপক্ষের দাবি, পরিস্থিতি স্বাভাবিক
অন্যদিকে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং শ্রমিক-কর্মচারীরা কাজে যোগ দিয়েছেন।
রোববার দুপুরে বন্দর ভবনের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এম মনিরুজ্জামান। এর আগে তিনি সকাল ১০টা থেকে প্রায় দুই ঘণ্টা কর্মকর্তা ও শ্রমিক-কর্মচারীদের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন।
বন্দর চেয়ারম্যান বলেন, কেউ যদি বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে।
তিনি আরও বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। আমি নিজেও পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিয়েছি। সবাইকে বলেছি ভোট দিতে হবে। একটি পক্ষ নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ করতে বন্দরে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে। কোনও অবস্থায় নির্বাচন বিঘ্নিত হতে দেয়া হবে না।
রমজান ও নির্বাচন সামনে রেখে বন্দরে অস্থিতিশীলতা তৈরি হলে বাজারে দ্রব্যমূল্যে প্রভাব পড়তে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
সবার দেশ/কেএম




























