কড়া নিরাপত্তা ও সমাবেশ নিষেধাজ্ঞা
দ্বিতীয় দিনের কর্মবিরতিতে অচল চট্টগ্রাম বন্দর
চট্টগ্রাম বন্দরে শ্রমিক–কর্মচারীদের ঘোষিত কর্মবিরতি দ্বিতীয় দিনে গড়িয়েছে। রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রম কার্যত বন্ধ রয়েছে। সকাল ৮টা থেকে শ্রমিকেরা বন্দরের বাইরে বিক্ষোভের চেষ্টা করলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থান নেয়।
কর্মবিরতি ও সম্ভাব্য আন্দোলন ঘিরে বন্দর এলাকায় কড়া নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। রোববার ভোর থেকেই সেনাবাহিনীসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অবস্থান নেন। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) আগেই আগামী এক মাসের জন্য বন্দর এলাকায় সব ধরনের সভা–সমাবেশ নিষিদ্ধ করে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, বন্দরের ৪ নম্বর গেটে পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। গেটের বাইরে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল, স্কপসহ বিভিন্ন ট্রেড ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা অবস্থান নিলেও তারা কাজে যোগ না দেয়ায় বন্দরে কোনও ট্রাক বা লরি প্রবেশ করতে পারছে না। এর ফলে আমদানি–রফতানি কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রোববার বন্দরের সব ধরনের অপারেশনাল কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও প্রশাসনিক কার্যক্রম সীমিত আকারে চলছে। বন্দর এলাকায় ভেতরে কোনো বিক্ষোভ বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছে।
এদিকে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের নেতারা রোববার বেলা সাড়ে ১১টা থেকে নগরীর আগ্রাবাদ এলাকায় কালো পতাকা মিছিল বের করার ঘোষণা দিয়েছেন। শনিবার থেকেই সংগঠনটি এ কর্মসূচি পালন করে আসছে। তাদের সঙ্গে স্কপসহ বিভিন্ন ট্রেড ইউনিয়নের নেতারাও সংহতি জানিয়েছেন।
এর আগে সিএমপি কমিশনার হাসিব আজিজ স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ১ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে ২ মার্চ পর্যন্ত বারেক বিল্ডিং মোড়, নিমতলা মোড়, ৩ নম্বর জেটি গেট, কাস্টমস মোড় ও সল্টগোলা ক্রসিংসহ বন্দর এলাকার গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সভা–সমাবেশ নিষিদ্ধ থাকবে। চট্টগ্রাম বন্দরকে ‘কী পয়েন্ট ইনস্টলেশন (কেপিআই)’ উল্লেখ করে বলা হয়, প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ পণ্যবাহী যান চলাচলের কারণে এসব এলাকায় যানজটমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বন্দর এলাকায় সভা–সমাবেশের ফলে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়ে আমদানি–রফতানি কার্যক্রম ব্যাহত হয়, যা জাতীয় অর্থনীতি ও নিরাপত্তার জন্য ক্ষতিকর। এ কারণে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ অধ্যাদেশ, ১৯৭৮–এর ২৯ ও ৩০ ধারার ক্ষমতাবলে অস্ত্র, লাঠি, বিস্ফোরক দ্রব্য বহনসহ সব ধরনের জমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬–এ অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের নির্বাচনি প্রচারণা এ নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবে।
সূত্র জানায়, নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দেয়ার উদ্যোগ এবং আদালতের রায়ের প্রতিবাদে বন্দর শ্রমিক–কর্মচারীরা এ কর্মবিরতি ও ‘শাটডাউন’ কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। কর্মবিরতির কারণে সম্ভাব্য রাজস্ব ক্ষতি নিরূপণ এবং দায়ীদের চিহ্নিত করতে ছয় সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।
এ ছাড়া আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়ার অভিযোগে চার কর্মচারীকে ঢাকার পানগাঁও আইসিটি বন্দরে বদলি করা হয়েছে। অফিস চলাকালে আন্দোলনে অংশ নেয়া কর্মকর্তা–কর্মচারীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
সিএমপির বন্দর জোনের উপকমিশনার আমিরুল ইসলাম বলেন, বন্দর এলাকায় ১৪৪ ধারা কার্যকর রয়েছে। যেকোনও ধরনের কর্মসূচি ও জমায়েত নিষিদ্ধ। আমরা সতর্ক অবস্থানে আছি, যাতে বন্দরের কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখা যায়।
সবার দেশ/কেএম




























