জনগণই বিএনপির শক্তি: তারেক রহমান
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, বাংলাদেশের মালিক জনগণ এবং জনগণই বিএনপির শক্তির একমাত্র উৎস। সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঠাকুরগাঁওয়ে বিএনপির দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।
তিনি অভিযোগ করেন, গত ১৫ বছরে আওয়ামী লীগ সরকার দেশে গণতন্ত্র ধ্বংস করেছে এবং রাজনৈতিক দলগুলোর জবাবদিহি নষ্ট করেছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে ব্যবহার করে গুম-খুন চালিয়েছে, লাখো গায়েবি মামলা দিয়ে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের হয়রানি করেছে। তারেকের ভাষ্যে, গত তিনটি জাতীয় নির্বাচনে প্রায় তিন কোটি নতুন ভোটার ভোট দেয়ার সুযোগ পাননি, ফলে ভোটব্যবস্থা পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে।
তারেক রহমান বলেন, ক্ষমতায় টিকে থাকতে সরকার শিশু ও শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষকে গুলি করে হত্যা করেছে। দেশের অর্থনীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও কর্মসংস্থানের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাত ধ্বংস হয়েছে। মেগা প্রকল্পের নামে হয়েছে মেগা দুর্নীতি।
তিনি বলেন, মতের ভিন্নতা গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। রাজনৈতিক দলগুলো জনগণের সামনে তাদের নীতি ও পরিকল্পনা উপস্থাপন করবে, জনগণই বেছে নেবে কাকে ক্ষমতার দায়িত্ব দেয়া হবে। তারেক সতর্ক করে বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো যদি জনগণকে বাদ দিয়ে নিজেরাই সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে দেশে অরাজকতা তৈরি হবে এবং পালিয়ে যাওয়া স্বৈরাচাররা ফেরার সুযোগ পাবে।
অন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত রিফর্ম কমিটি প্রসঙ্গে তিনি জানান, প্রায় সব গণতান্ত্রিক দল এতে অংশ নিয়েছে। কিছু বিষয়ে একমত হলেও কিছু বিষয়ে ভিন্নতা রয়েছে, যা গণতন্ত্রে স্বাভাবিক। যেখানে মতভিন্নতা আছে, সেখানকার সিদ্ধান্ত জনগণের ওপর ছেড়ে দিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, দেশের বিরুদ্ধে কোনো ষড়যন্ত্র সফল হবে না। অর্থনীতি পুনর্গঠন থেকে শুরু করে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও কর্মসংস্থান সংস্কারের মাধ্যমে সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে বিএনপি বদ্ধপরিকর।
আসন্ন জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে তারেক বলেন, এ নির্বাচন যতটা সহজ মনে হচ্ছে, ততটা সহজ নাও হতে পারে। দিন যত যাচ্ছে, সে আশঙ্কা বাস্তবে পরিণত হচ্ছে। এজন্য নেতাকর্মীদের সতর্ক থেকে শপথ নিতে হবে।
এর আগে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। উপস্থিত ছিলেন দলের ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু এবং সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুল হাবিব দুলু। দীর্ঘ সাত বছর আট মাস পর আয়োজিত এ সম্মেলনে জেলার পাঁচ উপজেলা ও তিন পৌরসভার ৮০৮ জন কাউন্সিলর ভোট দিয়ে জেলা নেতৃত্ব নির্বাচন করবেন।
সবার দেশ/কেএম




























