Sobar Desh | সবার দেশ সবার দেশ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৭:৫৭, ৫ নভেম্বর ২০২৫

১৭ বছর পর ঐক্যের প্রতীকে ফিরলেন নির্বাচনে

বেগম খালেদা জিয়া: ভোটের মাঠের ‘অপরাজেয় নেত্রী’

বেগম খালেদা জিয়া: ভোটের মাঠের ‘অপরাজেয় নেত্রী’
ছবি: সবার দেশ

দীর্ঘ ১৭ বছর পর আবারও ভোটের মাঠে ফিরছেন বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি তিনটি আসনে প্রার্থী হচ্ছেন—ফেনী-১, দিনাজপুর-৩ ও বগুড়া-৭। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এ মনোনয়ন শুধু নির্বাচন নয়, বরং বিএনপির ভেতরে নতুন করে ঐক্য সৃষ্টির একটি বার্তা হিসেবেই এসেছে।

দলের উচ্চপর্যায়ের এক নেতা জানান, চেয়ারপারসনের প্রার্থী হওয়া মানে হলো, তিনি আবারও সরাসরি নির্বাচনী প্রক্রিয়ার অংশ হচ্ছেন। এতে দলীয় কর্মীদের মনোবল অনেক বেড়ে গেছে। নেতৃত্বের দিকনির্দেশনা এখন মাঠপর্যায়ে আরও কার্যকরভাবে পৌঁছাবে।

অজেয় খালেদা জিয়া: ভোটের মাঠে অপরাজিত ইতিহাস

বিএনপি নেতারা বলছেন, খালেদা জিয়া বাংলাদেশের নির্বাচনী ইতিহাসে এক ‘অপরাজিত প্রতীক’। ১৯৯১ সালে প্রথমবারের মতো নির্বাচনে অংশ নিয়ে তিনি পাঁচটি আসনেই বিপুল ভোটে জয়ী হন। সেগুলো ছিলো বগুড়া-৭, ঢাকা-৭, ঢাকা-৯, ফেনী-১ ও চট্টগ্রাম-৮।

এরপর ১৯৯৬ এবং ২০০১ সালের নির্বাচনেও তিনি সর্বাধিক পাঁচটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সবগুলোতেই জয় পান। সর্বশেষ ২০০৮ সালের নবম সংসদ নির্বাচনে তিনি বগুড়া-৬, বগুড়া-৭ ও ফেনী-১ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সবগুলোতেই বিজয়ী হন। নির্বাচনের ইতিহাসে তিনি একমাত্র নারী রাজনীতিক যিনি কখনও কোনও নির্বাচনে পরাজিত হননি।

নেতাকর্মীদের উচ্ছ্বাসে উৎসবমুখর পরিবেশ

বগুড়া, ফেনী ও দিনাজপুরে বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে এখন উৎসবের আমেজ। মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) বিকেলে বগুড়া-৭ আসনে দলের প্রার্থী হিসেবে খালেদা জিয়ার নাম ঘোষণার পর গাবতলী ও শাহজাহানপুরে তাৎক্ষণিক আনন্দ মিছিল ও সমাবেশ হয়।

ফেনীর ছাগলনাইয়ায় বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনগুলো কলেজ রোড থেকে আনন্দ মিছিল বের করে শহর প্রদক্ষিণ করে। দিনাজপুর-৩ (সদর) আসনে, যা খালেদা জিয়ার জন্মস্থান ও প্রয়াত বোন খুরশীদ জাহান হকের আসন ছিলো, সেখানেও আনন্দে মেতে উঠেছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা। শহরের গোর-এ শহীদ বড় ময়দান থেকে বিশাল মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা বের হয়, যা শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

এনসিপির শ্রদ্ধা প্রদর্শন: কোনও প্রতিদ্বন্দ্বী দেবে না

খালেদা জিয়াকে সম্মান জানিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ঘোষণা দিয়েছে, তার আসনগুলোতে তারা কোনও প্রার্থী দেবে না। এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, 

বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতির এক জীবন্ত প্রতীক। তাকে সম্মান জানাতেই আমরা তার আসনগুলোতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে বিরত থাকবো।

আপসহীন নেতৃত্বের চার দশকের যাত্রা

খালেদা জিয়া টানা ৪৫ বছর ধরে বিএনপির নেতৃত্বে আছেন। স্বামী ও দলের প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর তিনি রাজনীতিতে নামেন। এরশাদবিরোধী গণআন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে হয়ে ওঠেন জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রীয় চরিত্র।

১৯৯১ সালে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম নির্বাচিত নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ইতিহাস গড়েন তিনি। এরপর ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে আরও দুই দফা প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।

ওয়ান-ইলেভেন সরকারের সময় তাকে দুই ছেলেসহ কারাগারে পাঠানো হয়। পরবর্তী সময়ে স্বাস্থ্যগত কারণে তিনি রাজনীতি থেকে দূরে থাকলেও গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলনে তার অবস্থান ছিলো আপসহীন।

২০১৮ সালে মিথ্যা দুর্নীতির মামলায় সাজা হওয়ার পর খালেদা জিয়া প্রায় দুই বছর কারাবন্দি থাকেন। ২০২০ সালে করোনা মহামারির সময় শর্তসাপেক্ষে মুক্তি পেলেও বিদেশে চিকিৎসার অনুমতি পাননি। তবুও তার উপস্থিতি সবসময় বিএনপির রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলো।

ঐক্যের বার্তা

বিএনপির এক সিনিয়র নেতা বলেন, 

এ মনোনয়ন শুধু রাজনৈতিক কৌশল নয়, এটি প্রতীকীও। খালেদা জিয়া ঐক্যের বার্তা দিচ্ছেন—ভেতরে ভাঙন নয়, লড়াইয়ে একতা।

দলের তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত এক সুরে বলা হচ্ছে—

বেগম জিয়া ফিরেছেন, বিএনপি আবার মাঠে ফিরেছে।

সবার দেশ/কেএম

শীর্ষ সংবাদ:

পাঁচ অস্ত্রসহ গ্রেফতার লিটন গাজী সম্পর্কে সব জানালো পুলিশ সুপার
আনসার ভিডিপি ব্যাংকের ৯ কোটি টাকা আত্মসাৎ, ব্যবস্থাপক গ্রেফতার
লালমনিরহাটে স্বামী হত্যা মামলায় স্ত্রী ও পরকীয়া প্রেমিকের যাবজ্জীবন
ভোলাহাটে বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে কলেজ শিক্ষকের মৃত্যু
সৌদি আরবে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দালাল চক্রের খপ্পরে
বাংলাদেশ সীমান্তে পঁচছে ৩০ হাজার টন ভারতীয় পেঁয়াজ
সুদের টাকার জন্য নোয়াখালীতে ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যা, গ্রেফতার-১
ইমরান খান বেঁচে আছেন, দেশ ছাড়তে চাপ: পিটিআই
হাসিনা-রেহানা-টিউলিপের প্লট দুর্নীতি মামলার রায় আজ
শুরু হলো বিজয়ের মাস
বিডিআর হত্যাকাণ্ডে ভারত জড়িত
খালেদা জিয়ার খোঁজ নিতে হাসপাতালে জামায়াত সেক্রেটারি
স্কুল ভর্তির লটারি ১১ ডিসেম্বর
বিডিআরকে দুর্বল করে ক্ষমতা টিকিয়ে রাখাতেই পিলখানা হত্যাকাণ্ড
ছয় উপসচিবের দফতর পরিবর্তন