জাতীয় স্মৃতিসৌধে তারেক রহমানের শ্রদ্ধা
জাতির সূর্যসন্তান বীর শহীদদের স্মরণে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) রাত ১০টা ৪ মিনিটে তিনি জাতীয় স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে প্রবেশ করেন। দীর্ঘ নির্বাসিত জীবন শেষে দেশে ফিরে স্বাধীনতার শহীদদের প্রতি তার এ শ্রদ্ধা নিবেদন রাজনৈতিক অঙ্গনে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।
এর আগে নিয়ম অনুযায়ী বিকেলেই তারেক রহমানের পক্ষে জাতীয় স্মৃতিসৌধে ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন করেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা। তারেক রহমানের সরাসরি আগমনকে ঘিরে সাভার-আশুলিয়া ছাড়াও দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী স্মৃতিসৌধ এলাকায় জড়ো হন। সকাল থেকেই তারা সেখানে অবস্থান নিয়ে অপেক্ষা করতে থাকেন, যা এলাকাজুড়ে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি করে।
যেকোনও ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়াতে এবং তারেক রহমানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জাতীয় স্মৃতিসৌধ এলাকায় নেয়া হয় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), আনসার বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি সাদা পোশাকের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়। পুরো এলাকা ছিলো নজরদারির আওতায়।
জাতীয় স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে আগে থেকেই উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-পরিবার কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবুসহ স্থায়ী কমিটির অন্যান্য সদস্য ও দলের শীর্ষ নেতারা। তারেক রহমান পৌঁছালে তারা তাকে স্বাগত জানান।
এর আগে বৃহস্পতিবার দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবন শেষে দেশে ফেরেন তারেক রহমান। দেশে ফেরার দিন রাজধানীর পূর্বাচলের ৩০০ ফিট এলাকায় বিএনপির পক্ষ থেকে আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি অংশ নেন। সেখানে নেতাকর্মীদের উদ্দেশে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যও দেন তিনি। পরে তিনি অসুস্থ মা ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে দেখতে এভারকেয়ার হাসপাতালে যান এবং সেখান থেকে গুলশানের বাসভবনে ফেরেন।
শুক্রবার বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটের দিকে তারেক রহমান তার বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পিতার কবর জিয়ারতের পর তিনি সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধের উদ্দেশ্যে রওনা হন।
দীর্ঘ সময় পর দেশের মাটিতে ফিরে স্বাধীনতার বীর শহীদদের প্রতি তারেক রহমানের এ শ্রদ্ধা নিবেদন বিএনপির রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনার ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন দলটির নেতাকর্মীরা। জাতীয় স্মৃতিসৌধে তার উপস্থিতি ঘিরে আবেগ, প্রত্যাশা ও রাজনৈতিক কৌতূহল—সব মিলিয়ে রাতটি হয়ে ওঠে স্মরণীয়।
সবার দেশ/কেএম




























