দেড় যুগের নির্বাসন শেষ
বীরের বেশে জন্মভূমিতে তারেক রহমান
দীর্ঘ ১৭ বছরের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে প্রিয় জন্মভূমি বাংলাদেশে পা রেখেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আজ বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে তাকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের নিয়মিত বাণিজ্যিক ফ্লাইট বিজি-২০২ (বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার) ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সফলভাবে অবতরণ করে। তার সঙ্গে দেশে ফিরেছেন সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান এবং কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান।
অবতরণ ও অভ্যর্থনা
বিমানটি রানওয়ে স্পর্শ করার পরপরই রানওয়েতে উপস্থিত বিএনপির শীর্ষ নেতা ও উৎসুক জনতার মধ্যে আবেগের জোয়ার বয়ে যায়। বিমানবন্দরের রেড জোনে তারেক রহমানকে আনুষ্ঠানিকভাবে অভ্যর্থনা জানান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যরা। প্রায় ১৮ বছর পর দেশের মাটিতে পা রেখে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। এর আগে ফ্লাইটটি সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে সিলেটে যাত্রাবিরতি করে এবং বেলা ১১টা ১২ মিনিটে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে।
৩০০ ফিটে লাখো মানুষের জনসমুদ্র
তারেক রহমানের আগমনকে কেন্দ্র করে রাজধানীর ‘জুলাই ৩৬ এক্সপ্রেসওয়ে’ (৩০০ ফিট) এলাকায় স্মরণকালের বৃহত্তম গণসংবর্ধনার আয়োজন করা হয়েছে। তীব্র শীত ও কুয়াশা উপেক্ষা করে গত রাত থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা লক্ষ লক্ষ মানুষ সেখানে অবস্থান নিয়েছেন। ভোর হওয়ার সাথে সাথে মানুষের ঢল জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে। রাজধানীর অলিগলি থেকে ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে ‘তারেক রহমান আসছে, বাংলাদেশ হাসছে’ স্লোগানে মুখরিত করে নেতাকর্মীরা সংবর্ধনাস্থলের দিকে অগ্রসর হচ্ছেন।
দিনের পরবর্তী কর্মসূচি
বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে তারেক রহমান সরাসরি ৩০০ ফিট এলাকায় আয়োজিত গণসংবর্ধনা সমাবেশে যোগ দেবেন। সেখানে তিনি দীর্ঘ সময় পর দেশবাসীর উদ্দেশে গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ দেবেন। সমাবেশ শেষে তিনি সরাসরি এভারকেয়ার হাসপাতালে যাবেন তার গুরুতর অসুস্থ মা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে দেখতে। এরপর তার গুলশান অ্যাভিনিউয়ের ১৯ নম্বর রোডের নিজ বাসভবনে ফেরার কথা রয়েছে।
নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের এ ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে রাজধানীজুড়ে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বিমানবন্দর থেকে ৩০০ ফিট পর্যন্ত রাস্তায় কয়েক হাজার পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবক নিয়োজিত রয়েছেন। ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিয়ন্ত্রণে ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি চালানো হচ্ছে।
তারেক রহমানের এ স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে সারা দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন প্রাণের সঞ্চার হয়েছে। নেতাকর্মীদের মতে, তার এ ফেরা বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে এক নতুন মাত্রা যোগ করবে।
সবার দেশ/কেএম




























