সামান্তা শারমিনের হুঁশিয়ারি
জামায়াতের সঙ্গে জোট এনসিপির জন্য হবে আত্মঘাতী
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নীতিনির্ধারণী মহলে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোট গঠন নিয়ে শুরু হওয়া অস্থিরতা এবার প্রকাশ্যে এলো। দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন কড়া ভাষায় সতর্ক করে বলেছেন, জামায়াতের সঙ্গে আসন সমঝোতা বা জোট করলে এনসিপিকে এর জন্য ‘কঠিন মূল্য’ চুকাতে হবে।
রোববার (২৮ ডিসেম্বর) নিজের ফেসবুক হ্যান্ডেলে দেয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি এ অবস্থান ব্যক্ত করেন।
সামান্তা শারমিনের বক্তব্যের প্রধান দিকগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
আদর্শিক বৈপরীত্য ও ঝুঁকির শঙ্কা
সামান্তা শারমিন মনে করেন, জামায়াতে ইসলামী কোনো নির্ভরযোগ্য রাজনৈতিক মিত্র নয়। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এনসিপির রাষ্ট্রকল্প, রাজনৈতিক দর্শন ও মূলনীতি জামায়াতের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা। বিচার নিশ্চিত করা, রাষ্ট্র সংস্কার এবং গণপরিষদ নির্বাচনের মাধ্যমে ‘সেকেন্ড রিপাবলিক’ বা দ্বিতীয় প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠার যে লক্ষ্য নিয়ে এনসিপি গঠিত হয়েছে, তার সঙ্গে জামায়াতের অবস্থানের মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। এ তিনটি বিষয়ে অভিন্ন অবস্থান ছাড়া কোনও রাজনৈতিক মিত্রতা সম্ভব নয় বলে তিনি দাবি করেন।
পূর্বের প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এর আগে জামায়াত যখন পিআর (আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব) পদ্ধতির দাবি তুলে সংসদীয় সংস্কার বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করেছিলো, তখন এনসিপির আহ্বায়ক নিজেই ঘোষণা দিয়েছিলেন—সংস্কারের বিপক্ষে থাকা কোনও দলের সঙ্গে জোট হবে না। সে সময় সারা দেশে ৩০০ আসনে একক প্রার্থী দিয়ে স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করার ঘোষণাও দেয়া হয়েছিলো। সামান্তা শারমিনের মতে, এখন জামায়াতের সঙ্গে জোটের পথে হাঁটা মানে দলের সে মূল নীতি থেকে বিচ্যুত হওয়া।
বিএনপি বনাম জামায়াত নয়, একক শক্তির ওপর জোর
নিজের ফেসবুক পোস্টে সামান্তা শারমিন পরিষ্কার করেন যে, জামায়াতের সঙ্গে জোটের বিরোধিতা করা মানেই বিএনপির পক্ষে অবস্থান নেয়া নয়। বরং বিএনপি বা জামায়াত—যেকোনও পক্ষের সঙ্গেই নির্বাচনি জোট গঠন করাকে তিনি দলের জন্য নীতিগত পরাজয় হিসেবে দেখছেন। তিনি মনে করেন, এনসিপিকে তার নিজস্ব শক্তিতেই ময়দানে থাকা উচিত।
এনসিপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল
উল্লেখ্য যে, জামায়াতের সঙ্গে জোটের সম্ভাবনা নিয়ে এনসিপির ভেতরে বড় ধরনের মেরুকরণ তৈরি হয়েছে। গতকাল শনিবার দলটির ৩০ জন কেন্দ্রীয় নেতা আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের কাছে জোটের বিরোধিতা করে আনুষ্ঠানিক চিঠি দিয়েছেন। এর মধ্যেই জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়কের এমন কঠোর বক্তব্য দলটির ভবিষ্যৎ নির্বাচনি কৌশলে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
সবার দেশ/কেএম




























