জারার পর আরও ৩ এনসিপি নারী নেত্রীদের কণ্ঠে বিদ্রোহের সুর
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে পদত্যাগ করে ঢাকা-৯ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়ার ঘোষণা দিয়েছেন ডা. তাসনিম জারা। তার এ আকস্মিক প্রস্থানের রেশ কাটতে না কাটতেই দলটির আরও তিন শীর্ষ নারী নেত্রীর রহস্যময় ফেসবুক পোস্ট রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন, যুগ্ম সদস্যসচিব নুসরাত তাবাসসুম ও ডা. মাহমুদা মিতুর সোশ্যাল মিডিয়ায় স্ট্যাটাসগুলো দলটির অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও আদর্শিক সংকটের দিকেই ইঙ্গিত দিচ্ছে।
‘লড়াই ছাড়বো না’: সামান্তা শারমিন
এনসিপির অন্যতম নীতি নির্ধারক ও সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন তার পোস্টে লিখেছেন,
আমরা লড়াই ছাড়বো না। আল্লাহ সহায়।
তার এ সংক্ষিপ্ত কিন্তু শক্তিশালী বার্তাটি দলের বর্তমান অস্থির পরিস্থিতির মধ্যেও নিজের অবস্থানে অনড় থাকার সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে। অনেকে মনে করছেন, এটি দলের ভেতরকার একটি পক্ষকে দেয়া প্রচ্ছন্ন হুঁশিয়ারি।
‘কমিটমেন্ট ইজ কমিটমেন্ট’: নুসরাত তাবাসসুম
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম পরিচিত মুখ এবং এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব নুসরাত তাবাসসুম সরাসরি আদর্শিক বিচ্যুতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি লিখেছেন,
নীতির চাইতে রাজনীতি বড় নয়। কমিটমেন্ট ইজ কমিটমেন্ট।
জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোটে এনসিপির অংশগ্রহণের গুঞ্জন এবং ডা. জারার পদত্যাগের প্রেক্ষাপটে নুসরাতের এ পোস্টটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, নুসরাতসহ ৩০ জন নেতা এর আগেই জামায়াতের সঙ্গে জোট গঠনের বিরোধিতা করে চিঠি দিয়েছিলেন।
‘পশ্চিমা গং’ নিয়ে কঠোর বার্তা: ডা. মাহমুদা মিতু
এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব ও দক্ষিণাঞ্চলের সংগঠক ডা. মাহমুদা মিতু অন্যদের চেয়ে ভিন্ন এবং কঠোর ভাষায় একটি পোস্ট দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন,
এক পয়সা দিয়েও দেশি ভান ধরা পশ্চিমা গং বিশ্বাস করি না। এরচেয়ে যারা ওপেন বলে-কয়ে পশ্চিমা এজেন্ডার পক্ষ নেয় তাদের স্যালুট।
তার এ মন্তব্যটি দলের ভেতরের কোনও বিশেষ পক্ষ বা প্রবাস থেকে রাজনীতি নিয়ন্ত্রণকারী কোনও গোষ্ঠীর দিকে কি না, তা নিয়ে ব্যাপক জল্পনা চলছে।
এনসিপিতে কী ঘটছে?
একদিকে ডা. তাসনিম জারার পদত্যাগ ও স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া, অন্যদিকে জামায়াত জোটে যাওয়া নিয়ে ৩০ নেতার প্রকাশ্য বিদ্রোহ—সব মিলিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টি এখন বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে। বিশেষ করে নারী নেতৃত্বের এ ‘বিদ্রোহী’ বা ‘রহস্যময়’ অবস্থানগুলো দলটির ভবিষ্যৎ ঐক্যের ওপর বড় প্রশ্নবোধক চিহ্ন এঁকে দিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের ঠিক আগে আগে তরুণদের এ দলটিতে যে মেরুকরণ শুরু হয়েছে, তা ঢাকা-৯ সহ অন্যান্য আসনের নির্বাচনি সমীকরণকে জটিল করে তুলবে।
সবার দেশ/কেএম




























