তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক শেষে জাতীয় ঐক্যের ইঙ্গিত জামায়াত আমিরের
জাতীয় নির্বাচন-পরবর্তী রাষ্ট্র পরিচালনা ও জাতীয় ঐক্য গঠনের লক্ষ্যে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি বলেন, আগামী পাঁচ বছরে দেশ গঠনে বৃহত্তর ঐক্য কীভাবে সম্ভব, সে বিষয়ে দুই দলের মধ্যে খোলামেলা আলোচনা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে তারেক রহমানের সঙ্গে এক বিশেষ বৈঠকে মিলিত হন জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, নির্বাচন-পরবর্তী সরকার গঠনের আগে জাতীয় ঐক্যের ভিত্তিতে কীভাবে একসঙ্গে কাজ করা যায়, সে বিষয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে মতবিনিময় হয়েছে।
এর আগে ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে জামায়াতের একটি প্রতিনিধি দল সদ্যপ্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার শোক বইয়ে স্বাক্ষর করেন। এ সময় তারা তার রুহের মাগফেরাত কামনা করেন এবং পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।
বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক ভূমিকার কথা উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও নাগরিক অধিকার আদায়ের সংগ্রামে খালেদা জিয়া আজীবন ভূমিকা রেখেছেন। ইতিহাসে তিনি যে সম্মান নিয়ে বিদায় নিয়েছেন, তা তার প্রাপ্য ছিলো। জাতির জন্য নিঃস্বার্থ অবদান রাখলে যে কেউ এমন সম্মান অর্জন করতে পারেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
খালেদা জিয়ার চিকিৎসা প্রসঙ্গে ক্ষোভ প্রকাশ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তার বিদেশে উন্নত চিকিৎসার জন্য একাধিকবার আবেদন করা হলেও সময়মতো অনুমতি দেয়া হয়নি। অনুমতি পেতে দেরি হওয়ায় তার স্বাস্থ্যের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আগামীর রাজনীতি ও সরকার গঠন নিয়ে আলোচনার বিষয়ে জামায়াত আমির বলেন, দেশে একটি সুন্দর, গণতান্ত্রিক ও অংশগ্রহণমূলক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে নির্বাচনের পর এবং সরকার গঠনের আগেই আবারও বৈঠকে বসার বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত হয়েছে। তিনি জানান, শপথ গ্রহণের আগেই পরবর্তী বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে।
ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, অতীতে যেমন রাজপথে যুগপৎ আন্দোলনের মাধ্যমে গণতন্ত্রের দাবিতে একসঙ্গে লড়াই হয়েছে, ভবিষ্যতেও জাতির বৃহত্তর স্বার্থে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করা সম্ভব। আগামী পাঁচ বছরে দেশ ও জনগণের জন্য কীভাবে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা যায়, সে বিষয়েই মূলত আলোচনা হয়েছে।
নির্বাচন নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন যেন নির্বিঘ্ন, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ হয়—এটাই তাদের প্রত্যাশা। একটি কার্যকর ও গ্রহণযোগ্য গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় জামায়াত দৃঢ় প্রতিজ্ঞ এবং সে লক্ষ্যেই তারা রাজনৈতিক ঐক্যের বিষয়ে গুরুত্ব দিচ্ছে।
সবার দেশ/কেএম




























