নতুন দমননীতির উত্থান, এখনই প্রতিরোধ জরুরি: তারেক রহমান
দেশের রাজনীতিতে নতুন জালেম শক্তি মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, মুখোশ পাল্টালেও এ শক্তির চিন্তাধারা ও চরিত্র বদলায়নি। পুরনো দমননীতি নতুন রূপে আবার ফিরে আসছে।
বুধবার ৪ ফেব্রুয়ারি বরিশাল নগরীর বেলস পার্ক মাঠে বিএনপির নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ নারী ও পুরুষের যৌথ শ্রমে গড়ে উঠেছে। কৃষি থেকে শিল্প-কারখানা পর্যন্ত সর্বত্র নারীরা পুরুষের সঙ্গে সমানভাবে অবদান রাখছেন। তিনি গার্মেন্টস শিল্পের উদাহরণ দিয়ে বলেন, বৈশ্বিক পরিসরে বাংলাদেশের এ শিল্পের অবস্থানের পেছনে লাখো নারীর শ্রম ও ত্যাগ রয়েছে।
এ প্রেক্ষাপটে সাম্প্রতিক সময়ে নারীদের নিয়ে একটি রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতার বক্তব্যকে তিনি অশ্লীল ও নারীবিদ্বেষী আখ্যা দেন। তার অভিযোগ, যে শক্তি রাজনীতিতে নারীদের অপমান করে, তাদের হাতে রাষ্ট্রক্ষমতা গেলে দেশের ভবিষ্যৎ নিরাপদ থাকতে পারে না। তিনি বলেন, যারা মা-বোনদের সম্মান দিতে জানে না, তারা মানুষের আত্মসম্মান রক্ষা করবে এমন প্রত্যাশা করাই ভুল। এ ধরনের শক্তির কাছ থেকে বাংলাদেশ কখনোই প্রগতিশীল রাজনীতি, মানবিক রাষ্ট্রব্যবস্থা বা মর্যাদাপূর্ণ সামাজিক পরিবেশ পেতে পারে না।
বিএনপির চেয়ারম্যান আরও বলেন, নতুন জালেম শক্তির বিরুদ্ধে এখনই রুখে দাঁড়ানো জরুরি। কারণ নারীর মর্যাদা ক্ষুণ্ন করা শুধু নারীর বিরুদ্ধে নয়, তা সরাসরি রাষ্ট্র ও সমাজের বিরুদ্ধে আঘাত।
বক্তব্যের শুরুতে তিনি জুলাই আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, এ মঞ্চের সামনে এমন পরিবার বসে আছে, যাদের স্বজনরা গুম, খুন, নির্যাতন কিংবা শহীদ হয়েছেন। তাদের একমাত্র প্রত্যাশা ছিল দেশের মানুষের ভোটাধিকার ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা ফিরে আসা, যা গত ১৬ বছর ধরে কেড়ে নেওয়া হয়েছিল।
তারেক রহমান বলেন, গত ১৫ বছরের ইতিহাস জাতি ভুলে যায়নি। নিশিরাতের ভোট ও ডামি নির্বাচনের মাধ্যমে কীভাবে জনগণের রায়কে অপমান করা হয়েছে, তা সবার জানা। তবে ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে এ ব্যবস্থার কারিগররা টিকতে পারেনি এবং দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে।
তিনি বলেন, আজকের বাংলাদেশ আর তাদের নয়, এ বাংলাদেশ জনগণের। দেশ চলবে জনগণের রায়ের ভিত্তিতে। সে কারণেই আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি মানুষ তাদের পছন্দের প্রতিনিধি নির্বাচন করবে, যারা জনগণের কাছে জবাবদিহি করবে এবং জনগণের ইচ্ছা অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনা করবে।
৫ আগস্ট পরবর্তী পরিস্থিতি উল্লেখ করে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, পুরনো স্বৈরাচারী ভাষা ও অপমানের রাজনীতি বন্ধ হবে বলে আশা করা হয়েছিল, কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি। তিনি একটি রাজনৈতিক শক্তির বিষয়ে সতর্ক করে বলেন, যাদের মানুষ অন্য পরিচয়ে চেনে এবং যাদের নাম উচ্চারিত হলেই জনসভায় গুপ্ত শব্দটি ধ্বনিত হয়, এ গুপ্ত শক্তি সম্পর্কে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে এবং জনগণকেও নিরাপদে রাখতে হবে।
বরিশাল মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন দলের প্রার্থী জহির উদ্দিন স্বপন, আবুল হোসেন খান, রাজীব আহসান, ইসরাত জাহান ইলেন ভুট্টো, গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর, বিলকিস জাহান শিরিন, নুরুল ইসলাম মনি, মজিবর রহমান সারোয়ার, বিজেপির চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ, আহমেদ মঞ্জুর সুমন সোহেল, হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীরবিক্রম, অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদীন, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, বেগম সেলিম রহমানসহ জোটের বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের দিক থেকে এ বক্তব্যে সময়, স্থান, প্রেক্ষাপট ও রাজনৈতিক বার্তা সম্পূর্ণ রয়েছে। জনসমাবেশের আনুমানিক উপস্থিতি বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সংক্রান্ত কোনো তথ্য যুক্ত হলে প্রতিবেদনটি আরও পূর্ণাঙ্গ হতে পারত, তবে বক্তব্যভিত্তিক সংবাদ হিসেবে মৌলিক কোনো ঘাটতি নেই।
সবার দেশ/এফএস



























