চাঁদাবাজিকে ‘সমঝোতা’ বলা একে বৈধতা দেয়ার শামিল: তাসনিম জারা
সড়ক পরিবহন খাতে চাঁদা আদায়কে ‘সমঝোতা’ বা ‘অলিখিত বিধি’ হিসেবে বর্ণনা করায় তীব্র সমালোচনা করেছেন সাবেক এনসিপি নেতা ও ঢাকা–৯ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. তাসনিম জারা।
বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি বলেন, মন্ত্রী যেটিকে সমঝোতা বলছেন, তা বাস্তবে চালকদের ওপর চাপিয়ে দেয়া একটি অবৈধ পদ্ধতি। নির্দিষ্ট রুটে গাড়ি চালাতে গেলে চালকদের বাধ্যতামূলকভাবে নির্দিষ্ট সংগঠন বা গোষ্ঠীকে অর্থ প্রদান করতে হয়। এ ধরনের অনিয়মকে ‘সমঝোতা’ হিসেবে তুলে ধরলে তা কার্যত অবৈধ লেনদেনকে বৈধতার আড়াল দেয়।
এর আগে সড়ক পরিবহন ও যোগাযোগ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম সংবাদ সম্মেলনে বলেন, মালিক ও শ্রমিক সমিতি নির্দিষ্ট হারে যে অর্থ সংগ্রহ করে তা তাদের কল্যাণে ব্যয় হয় এবং এটি অনেকটা অলিখিত বিধির মতো। কাউকে জোর করে টাকা দিতে বাধ্য করা হলে সেটিকেই তিনি চাঁদা হিসেবে বিবেচনা করেন।
ডা. তাসনিম জারা এ বক্তব্যের সমালোচনা করে বলেন, সড়কে আদায় হওয়া অর্থ সরাসরি সাধারণ মানুষের ওপর প্রভাব ফেলে। বাসভাড়া বৃদ্ধি এবং পণ্য পরিবহনের অতিরিক্ত খরচের কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বেড়ে যায়, যার চূড়ান্ত বোঝা বহন করতে হয় যাত্রী ও ভোক্তাদের।
আরও পড়ুন <<>> সমঝোতায় নেয়া টাকা চাঁদা নয়: সড়ক পরিবহন মন্ত্রী
তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, মন্ত্রী নিজেই বলেছেন ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে আধিপত্য বদলায়—এতে কি ধরে নিতে হবে যে এ অর্থ আদায়ের সঙ্গে রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতার সম্পর্ক রয়েছে? বিষয়টি নিয়ে স্বচ্ছ ব্যাখ্যা দেয়ার আহ্বান জানান তিনি।
ডা. জারা সমাধান হিসেবে বলেন, মালিক বা শ্রমিক সমিতির কল্যাণ তহবিলের জন্য অর্থ প্রয়োজন হলে তা আনুষ্ঠানিক ও স্বচ্ছ পদ্ধতিতে আদায় করা উচিত। ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে বা বার্ষিক নিবন্ধন ফি’র সঙ্গে যুক্ত করে অর্থ সংগ্রহের প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি।
সাথে তিনি দাবি করেছেন, সড়ক থেকে আদায় হয়া বিপুল অর্থের পূর্ণাঙ্গ অডিট প্রকাশ করা উচিত। এ অর্থ প্রকৃতপক্ষে কার কল্যাণে ব্যয় হচ্ছে—সাধারণ শ্রমিক-চালকদের জন্য, নাকি কোনও বিশেষ গোষ্ঠীর স্বার্থে—এটি জনগণের সামনে তুলে ধরা জরুরি।
ডা. তাসনিম জারা বলেন, সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করাই সরকারের দায়িত্ব। অনিয়মকে ‘অলিখিত বিধি’ হিসেবে স্বীকৃতি দিলে তা জনমনে হতাশা তৈরি করবে।
সবার দেশ/কেএম




























