এক জনের প্রার্থিতা বাতিল
তাসনিম জারাসহ ৫১ প্রার্থীর প্রার্থিতা ফিরে পেলো
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে ইচ্ছুকদের মনোনয়ন নিয়ে আপিল শুনানিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে আপিল করে ৫১ জন প্রার্থী তাদের প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন। বিপরীতে, রিটার্নিং কর্মকর্তা বৈধ ঘোষণা করেছিলেন—এমন একজন প্রার্থীর মনোনয়ন আপিলে বাতিল হয়েছে।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে মনোনয়নপত্র বাছাই সংক্রান্ত আপিল শুনানির প্রথম দিনে মোট ৭০টি আপিল আবেদনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ শুনানিতে চারজন নির্বাচন কমিশনার উপস্থিত ছিলেন।
নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদ জানান, প্রথম দিনের শুনানিতে মোট ৫২টি আপিল আবেদন মঞ্জুর করা হয়েছে। এর মধ্যে ৫১টি ক্ষেত্রে রিটার্নিং কর্মকর্তা কর্তৃক বাতিল করা মনোনয়ন পুনর্বহাল করা হয়েছে। অপরদিকে, ১৫টি আপিল আবেদন নামঞ্জুর করা হয়েছে, ফলে ওই প্রার্থীদের ক্ষেত্রে রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্ত বহাল থাকছে। এছাড়া শুনানিতে অনুপস্থিত থাকায় দুইটি আবেদন স্বয়ংক্রিয়ভাবে নামঞ্জুরের তালিকায় পড়েছে। তিনটি আপিল আবেদন পরবর্তী সিদ্ধান্তের জন্য মুলতবি রাখা হয়েছে।
আপিল মঞ্জুর হওয়ায় জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হামিদুর রহমান আযাদ এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী তাসনিম জারাসহ মোট ৫১ জন প্রার্থী পুনরায় নির্বাচনে অংশ নেয়ার সুযোগ পেলেন। এর আগে রিটার্নিং কর্মকর্তারা তাদের মনোনয়নপত্র বাতিল করেছিলেন।
অন্যদিকে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী সৈয়দ এ কে একরামুজ্জামানের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছিলেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। তবে সে সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে করা আপিল নির্বাচন কমিশনে গৃহীত হওয়ায় তার প্রার্থিতা বাতিল হয়ে যায়। ফলে নির্বাচনী মাঠ থেকে ছিটকে পড়লেন তিনি।
এ ছাড়া যাদের আপিল আবেদন নামঞ্জুর করা হয়েছে, সে ১৫ জন প্রার্থীর ক্ষেত্রে রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্ত বহাল থাকায় তাদের প্রার্থিতা আর ফিরে আসেনি।
নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, এবারের ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে স্বতন্ত্র ও দলীয় মিলিয়ে আড়াই হাজারেরও বেশি মনোনয়নপত্র জমা পড়ে। ৩০ ডিসেম্বর থেকে ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে রিটার্নিং কর্মকর্তারা ৭২৩ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করেন। এতে প্রাথমিকভাবে বৈধ প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়ায় ১ হাজার ৮৪২ জন।
তফশিল অনুযায়ী, আপিল নিষ্পত্তির পর প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ জানুয়ারি। ওই দিনই চূড়ান্তভাবে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সংখ্যা জানা যাবে। পরদিন ২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হবে এবং ২২ জানুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হবে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে ভোটগ্রহণ।
সবার দেশ/কেএম




























