এক মাসে কেজিতে বেড়েছে ২৫০ টাকা
শুল্ক কমলেও খেজুরের দাম লাগামহীন
পবিত্র রমজান মাস শুরুর আগেই খেজুরের বাজারে অস্থিরতা চরমে পৌঁছেছে। সরকার আমদানি শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ করলেও তার সুফল মিলছে না বাজারে। বরং গত এক মাসে জাতভেদে প্রতি কেজি খেজুরের দাম বেড়েছে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা পর্যন্ত। নিম্নআয়ের মানুষের জন্য জনপ্রিয় সাধারণ মানের খেজুরের দামও কেজিতে বেড়েছে প্রায় ১০০ টাকা।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, রাজধানীর বিভিন্ন খুচরা বাজারে বহুল বিক্রিত জাহিদী খেজুর এখন বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৩২০ থেকে ৩৫০ টাকায়। এক মাস আগে যা ছিল ২৫০ টাকার মধ্যে। অর্থাৎ কেজিতে বেড়েছে ৭০ থেকে ১০০ টাকা।
উন্নতমানের ইরানি মরিয়ম খেজুর বিক্রি হচ্ছে ১২০০ থেকে ১৪০০ টাকায়, যা এক মাস আগে ছিল ১০০০ থেকে ১১৫০ টাকা। কেজিতে বেড়েছে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা। কালমি মরিয়ম খেজুর এক মাস আগে ৭০০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন তা ৯০০ টাকা। সুক্কারি খেজুরের দামও ২০০ টাকা বেড়ে কেজিতে ৮০০ টাকায় উঠেছে।
এছাড়া আজুয়া, বরই, দাবাস, মাবরুম, মেডজুল ও আম্বারাসহ প্রায় সব ধরনের খেজুরের দাম মাসের ব্যবধানে ১০০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বর্তমানে আজুয়া বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ৯৫০ টাকা, বরই ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকা, দাবাস ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকা, মাবরুম ৯০০ থেকে ১২০০ টাকা, মেডজুল ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকা এবং আম্বারা ৮৫০ থেকে ৯৫০ টাকায়।
পাইকারি-খুচরা দামে বড় ফারাক
পাইকারি বাজার ও খুচরা বাজারের দামে বড় ধরনের পার্থক্য দেখা গেছে। ঢাকার বাদামতলী পাইকারি বাজারে ৫ কেজি জাহিদী খেজুর বিক্রি হচ্ছে ১০০০ থেকে ১২০০ টাকায়, অর্থাৎ কেজি প্রতি ২০০ থেকে ২৪০ টাকা। অথচ খুচরা বাজারে তা বিক্রি হচ্ছে ৩২০ থেকে ৩৫০ টাকায়।
একইভাবে ৫ কেজি ইরানি মরিয়ম পাইকারিতে ৫০০০ থেকে ৬২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, অর্থাৎ কেজি ১০০০ থেকে ১২৪০ টাকা। কালমি মরিয়ম ৫ কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩৪০০ থেকে ৩৫০০ টাকায়, যা কেজি ৬৮০ থেকে ৭০০ টাকা। কিন্তু খুচরা বাজারে এসব পণ্যের দাম আরও ১৫০ থেকে ২০০ টাকা বেশি নেয়া হচ্ছে।
ব্যবসায়ীদের বক্তব্য
মানিকনগরের মুন্না এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মহসিন মোল্লা বলেন, এক মাসের ব্যবধানে প্রায় সব ধরনের খেজুরের দাম ১০০ টাকার ওপরে বেড়েছে। সরকার শুল্ক কমালেও বাজারে সিন্ডিকেট ভাঙতে পারেনি। আমরা বেশি দামে কিনলে কম দামে বিক্রি করবো কীভাবে?
অন্যদিকে বাদামতলী পাইকারি বাজারের সেসার্স আর এন এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. এমদাদুল করিম বলেন, গত এক মাসে কিছুটা দাম বেড়েছে, তবে গত বছরের তুলনায় এখনও কম রয়েছে। আমদানিকারকদের দাবি, সৌদি আরব, ইরানসহ উৎপাদক দেশগুলোতে দাম বেশি থাকায় আমদানিতে খরচ বেড়েছে। ফলে পাইকারিতেও দাম বাড়াতে হচ্ছে। তবে তিনি আশা প্রকাশ করেন, গত বছরের তুলনায় এবারও ক্রেতারা তুলনামূলক কম দামে খেজুর কিনতে পারবেন।
রমজানকে সামনে রেখে চাহিদা বাড়ার সুযোগে দাম বাড়ছে কিনা—এ প্রশ্ন এখন সাধারণ ভোক্তাদের মধ্যে। শুল্ক কমানোর পরও বাজারে তার প্রতিফলন না থাকায় কার্যকর তদারকি ও বাজার নিয়ন্ত্রণের দাবি জোরালো হচ্ছে।
সবার দেশ/কেএম




























