কর্ণফুলীর জমি লিজ বিতর্ক
চট্টগ্রাম পোর্ট চেয়ারম্যানসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল
চট্টগ্রাম পোর্ট অথরিটির চেয়ারম্যানসহ পাঁচ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। কর্ণফুলী নদীর জরিপভুক্ত জমি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনকে লিজ দেয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় এ রুল জারি করা হয়।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি)বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মোহাম্মদ আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। একই সঙ্গে ফিরিঙ্গিবাজার মৌজার বি আর এস দাগ নম্বর ৬০১-এর সংশ্লিষ্ট জমি সংক্রান্ত সব ধরনের কার্যক্রমের ওপর স্থিতাবস্থা জারি করা হয়েছে।
মামলার বিবরণে জানা যায়, কর্ণফুলী নদী রক্ষায় এইচআরপিবি (হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ) দায়ের করা এক জনস্বার্থ মামলায় হাইকোর্ট আগেই একাধিক নির্দেশনা দেন। ওই রায়ে জরিপ অনুযায়ী কর্ণফুলী নদীর সীমানা সংরক্ষণ, নদীর পাড়ের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং জলাধার সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী নদীর অবস্থান অক্ষুণ্ন রাখার নির্দেশ দেয়া হয়। আদালত স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, নদীর স্বীকৃত জায়গা অন্য কোনো কাজে ব্যবহার করা যাবে না।
অভিযোগ উঠেছে, এসব নির্দেশনা উপেক্ষা করে চট্টগ্রাম পোর্ট অথরিটি ফিরিঙ্গিবাজার মৌজার বিএস ৬০১ দাগের কিছু জমি, যা সরকারি জরিপে নদী হিসেবে চিহ্নিত, তা চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনকে লিজ দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে এইচআরপিবির পক্ষ থেকে আদালত অবমাননার আবেদন করা হয়।
আবেদনে বলা হয়, আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও নদীর অংশ লিজ দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া সরাসরি আদালত অবমাননার শামিল। শুনানি শেষে হাইকোর্ট চট্টগ্রাম পোর্ট অথরিটির চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান, প্রশাসন বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান, মেম্বার (ফাইন্যান্স) মোহাম্মদ শহিদুল আলম, মেম্বার (ইঞ্জিনিয়ারিং) কমোডর কাউসার রশিদ এবং সম্পত্তি বিভাগের সহকারী ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ রায়হান উদ্দিনের বিরুদ্ধে রুল জারি করেন। তাদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে, কেন আদালত অবমাননার দায়ে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে না।
শুনানিতে এইচআরপিবির পক্ষে সিনিয়র অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ আদালতকে জানান, এর আগেও কর্ণফুলী নদীর জমি লিজ দেওয়ার ঘটনায় আদালত চট্টগ্রাম পোর্ট চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে রুল জারি করেছিলেন এবং স্থিতাবস্থা আদেশ দিয়েছিলেন। তবুও একই ধরনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে, যা আদালতের নির্দেশের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
এ মামলায় আবেদনকারী ছিলেন অ্যাডভোকেট মো. সারোয়ার আহাদ চৌধুরী ও অ্যাডভোকেট এখলাস উদ্দিন ভূঁইয়া। বাদীপক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ।
কর্ণফুলী নদীকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে দখল, ভরাট ও অবৈধ স্থাপনা নিয়ে নানা অভিযোগ রয়েছে। সর্বশেষ এ আদেশের মাধ্যমে নদীর স্বীকৃত সীমানা রক্ষায় আদালত আবারও কঠোর অবস্থান নিলেন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
সবার দেশ/কেএম




























