আশুরা দিবসে শহীদদের জন্য দোয়া করুন, শোক নয়
ইসলামিক বিধান অনুযায়ী, মৃত ব্যক্তির আত্মীয়-স্বজনের জন্য তিন দিন পর্যন্ত শোক পালন করা বৈধ। তবে স্ত্রীর জন্য স্বামীর মৃত্যুতে চার মাস দশ দিন শোক পালন করা আবশ্যক। এর চেয়ে বেশি দিন শোক পালন করা ইসলামে অনুমোদিত নয়।
রাসূল (সা.) এর স্ত্রী উম্মে হাবিবা রাদিয়াল্লাহু আনহা তার পিতা আবু সুফিয়ানের মৃত্যুর পর বললেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মিম্বরে দাঁড়িয়ে বলতে শুনেছি যে, যে মহিলা আল্লাহ ও পরকালে ঈমান রাখে, সে মহিলার জন্য তার কোন আত্নীয়ের মৃত্যুতে তিন দিনের বেশী শোক পালন করা হালাল নয়। তবে বিধবা স্ত্রী তার স্বামীর মৃত্যুতে চার মাস দশদিন শোক পালন করবে।
ইমাম হাসান এবং ইমাম হোসাইন (রাঃ) ছিলেন হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর দৌহিত্র এবং হযরত আলী (রাঃ) ও ফাতেমা (রাঃ) এর পুত্র। মহররম মাসের ১০ তারিখে কারবালা নামক স্থানে ইয়াজিদ বাহিনীর হাতে ইমাম হোসাইন (রাঃ) শাহাদাতবরণ করেন। এ দিনটি মুসলিম বিশ্বে বিশেষভাবে শোকের দিন হিসেবে পালিত হয়।
আজ পবিত্র আশুরা মহরম মাসের ১০ তারিখ, এ দিনে বাংলাদেশের ধর্মপ্রাণ মানুষেরা দিবসটিকে স্বরণে রেখে মহান রাব্বুল আলামিনের কাছে কারবালা শহীদদের জন্য দোয়া করে থাকেন। কিন্তু আমাদের দেশে শিয়া মুসলিম সম্প্রদায়ের লোকেরা আজকের এ দিনে তাজিয়া মিছিল বের করে তাদের পছন্দনীয় সংস্কৃতিতে শোক পালন করেন।
শিয়া সম্প্রদায়ের সাথে তাল মিলিয়ে জ্ঞানের অজ্ঞতার জন্য কিছু মুসলিম ভাই বোনেরাও এ দিবসটিতে শিয়া অনুসারীদের অনুরূপ কাজকর্ম করে থাকেন, যা ইসলামী শরীয়তের দৃষ্টিতে বৈধ নয়। বৈধ নয় এ জন্য যে যেহেতু আল্লাহর রাসূল নিজে বলেছেন কোন মৃত ব্যক্তির জন্য তিন দিনের বেশি শোক পালন বৈধ নয় তাই ।
আরও পড়ুন <<>> প্রিয় কিছু ত্যাগ’ই হলো আসল কোরবান
যেখানে তিন দিনের বেশি শোক পালন বৈধ নয় সেখানে তাদের মৃত্যুর প্রায় ১৪০০ বছর পর শোক পালন করা কতটুকু বৈধ! এটা সজ্ঞান ব্যক্তি মাত্রই বুঝতে না পারার কোন কারণ নেই। আমাদের জন্য তাহলে আবশ্যক পালনীয় কোনটি?
আমরা শরীয়তের বিধান অনুযায়ী কোরআন ও হাদিসের নির্দেশনা পালন করে থাকি। তাই শিয়া সম্প্রদায় যে রূপ কাজ তাদের সংস্কৃতি অনুসারে করে থাকেন, এটার দায়ভার ওই সম্প্রদায়ের নিজেদের ওপর বর্তায় এবং সেজন্য তারা আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করবেন। কিন্তু শিয়া সম্প্রদায় ব্যতীত অন্য সকল মুসলিম আমরা যারা আছি, আমাদের জন্য তাদের মত কাজ করা সঙ্গত নয়। আশা করি মুসলিম ভাই-বোনেরা শরিয়তের বিধান সম্বন্ধে না জানলে হাক্কানি আলেম-ওলামাদের কাছ থেকে জেনে আমল করবেন। কারন আমাদের এমন কোন আমল করা ঠিক হবে না, যে আমলে সওয়াব হওয়ার পরিবর্তে গুনাহের ভাগীদার হতে হবে।
এ দিবসে মুসলমানদের শোক পালন না করে বরং হযরত ইমাম হোসাইন ইসলামকে সমুন্নত রাখার জন্য অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করে সত্যকে সমুন্নত রাখার জন্য নিজের জীবনকে উৎসর্গ করে দিয়েছেন, তার তার সেই মহান ত্যাগ স্মরণ করে আমাদেরও উচিত ইসলামী শরীয়তের বিধান সমূহ যথাযথভাবে পালনের মাধ্যমে মহান রাব্বুল আলামিনের সন্তুষ্টির চেষ্টা করা।
আসুন বর্তমান টালমাটাল বিশ্বে যেখানে চারদিকে যুদ্ধ পরিস্থিতি বহমান, মুসলমানদের বিরুদ্ধে অমুসলিম সম্প্রদায়ের আগ্রাসন ইত্যাদি চলমান। এমতাবস্থায় রাব্বুল আলামিনের কাছে আমাদের প্রার্থনা হোক- হে, আল্লাহ আমাদের সকলকে সঠিক বুঝ দিয়ে সঠিকভাবে সত্যিকারে ঈমানদার মুসলিমের মত কোরআন ও হাদিস অনুসারে সঠিক আমল করার মাধ্যমে সত্য ন্যায়ের পক্ষে অবিচল থাকার তৌফিক এনায়েত করুন, আমীন।
সবার দেশ/এফএস




























