Sobar Desh | সবার দেশ এম এম এ শাহজাহান


প্রকাশিত: ০১:৫১, ৮ জুন ২০২৫

আপডেট: ০১:৫৬, ৮ জুন ২০২৫

প্রিয় কিছু ত্যাগ’ই হলো আসল কোরবান

প্রিয় কিছু ত্যাগ’ই হলো আসল কোরবান
ছবি: সবার দেশ

আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্য ছাড়া অন্য কোন নিয়তে কোরবান দিলে কুরবান কবুল হবে না। অর্থাৎ কোরবান কবুল হওয়ার অন্যতম শর্ত হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন। শুধুমাত্র মুত্তাকী ব্যক্তিরাই আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করতে পারেন। কোরবান মানে হলো ত্যাগ, আপনার প্রিয় বস্তুটিকে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য কোরবান দেয়াই হচ্ছে কোরবানি। 

বর্তমান জামানায় আমাদের সবচেয়ে প্রিয় বস্তু হচ্ছে অর্থ, মানে টাকা, আর এ টাকা দিয়ে পশু ক্রয় করে অর্থাৎ অর্থ কোরবান দিয়েই আমরা কোরবানি করে থাকি। 

কোরবানি আমাদের প্রথম মানব আদম আঃ এর আমল থেকেই শুরু হয়েছে যেমন আমরা জানি যে, আদম ইসলামের দুই পুত্র হাবিল ও কাবিল তারা কোরবান দিয়েছিলেন। 

তখনকার কোরবানির নিয়ম ছিলো, কোরবানির পশুটি তারা উন্মুক্ত স্থানে রেখে দিবেন, যার কোরবান আল্লাহ কর্তৃক পছন্দ হতো, তা আসমান থেকে আগুনের কুন্ডুলি এসে কোরবানির পশুটিকে ভস্মীভূত করে দিতো, আর যার টি কবুল হবে না তারটি আগের অবস্থায় রয়ে যেতো। ইস্ এখন যদি সে আগের নিয়ম চলমান থাকতো, তাহলে বর্তমানে কোরবান দাতার কোরবানি কবুল হয়েছে কি হয়নি তা জনসমক্ষে প্রকাশ হয়ে যেতো। তাহলে সমাজে এক আশ্চর্যজনক অবস্থার সৃষ্টি হতো। কেনোনা, বর্তমানে  ক'জনই বা সৎ উপায়ে উপার্জন করে কোরবানি দেন! তাহলে তো অসৎ উপায়ে রোজকারকারী ব্যক্তির কোরবান কবুল হতো না এবং তা খোলা মাঠে পড়ে থাকতো।

এখনকার যুগে আমাদের চারিদিকের মানুষ যেভাবে উপার্জন করে তার মধ্যে  অসুদোপায় অবলম্বনকারী লোকের সংখ্যাই অনেক অনেক বেশি। যেমন রাজনীতিবিদরা চাঁদাবাজি করে উপার্জন করেন, সরকারি কর্মচারীরা অবৈধ লেনদেনের মাধ্যমে উপরি কামাই করেন, ব্যবসায়ীরা মাপে ওজনে কম দিয়ে, মিথ্যার প্রলোভনে, মজুতদারি করে এবং লোক ঠকিয়ে ব্যবসা করেন। অর্থাৎ সমাজের বেশিরভাগ লোকেই কম বেশি মানুষের অধিকার খর্ব করে উপার্জন করেন। বছর শেষে সে উপার্জন দিয়েই আবার কোরবানি দেন। 

অনেকে আবার লোক দেখানোর জন্য অনেক বেশি টাকার পশু কিনে কোরবানি দেন। এমনভাবে কোরবানি দিলে তো আল্লাহর কাছে তা গ্রহণীয় হওয়ার কোন কারণ দেখিনা। ফলে অনেকের কোরবানির পশুই আগুনে ভস্মীভূত হতো না, পশুগুলিকে উন্মুক্ত মাঠে পড়ে থাকতে দেখা যেতো। 

তাহলে কোরবানির পরে আমাদের কোরবানদাতা অনেকেরই জনসমক্ষে আসা বন্ধ হয়ে যেতো, লজ্জায় আমরা অন্যদের সামনে দাঁড়াতে পারতাম না । কেনোনা, তখন আমাদের অসৎ কামাইয়ের তথ্য জনতার কাছে প্রকাশ হয়ে যেতো। 

প্রিয় পাঠক, একবার ভাবুন তো তাহলে কি অবস্থা হতো? এটিই আল্লাহর ইচ্ছা, হয়তোবা শেষ নবীর উম্মতদের আল্লাহ জনসমক্ষে অসম্মানিত করতে চান না।  সেজন্যই হয়তো মহান রাব্বুল আলামিন  আমাদেরকে সুযোগ দিয়েছেন নিজেকে নিজে শোধরানোর জন্য। 

আরও পড়ুন <<>> বিনা পুঁজিতে লাভের কিচ্ছা, সদিচ্ছায় মুক্তি

কোরবানকারী ব্যক্তির তাকওয়ার মাত্রা হতে হবে অনেক ঊর্ধ্বমুখী, কারণ যার তাকওয়া যত বেশি, আল্লাহর কাছে তিনি বা সে তত বেশি নৈকট্য লাভকারী বান্দা। তাই কোরবান করার আগে আমাদের তাকওয়া অর্জন করা অতীব জরুরি। এখন তাকওয়া মানে কি, তাকওয়া মানে হলো ‘আল্লাহ ভীতি’। অর্থাৎ আল্লাহ আমাদেরকে যে আদেশ, নিষেধ করেছেন, তা তাঁরই আদেশ মাফিক তাঁর প্রেরিত রসূল শেষ নবী হযরত মুহাম্মাদ (স.) কর্তৃক নির্দেশিত উপায়ে যথাযথ ভাবে পালন করার মাধ্যমেই ‘তাকওয়া’ অর্জন করতে হয়। তাকওয়া অর্জনকারী ব্যক্তিকে মুত্তাকি বলা হয়। মুত্তাকি ব্যক্তির আমলই আল্লাহর কাছে গ্রহণীয় আমল। তাই আসুন আমরা আগে মুত্তাকী হই। 

কোরআন পাকে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেছেন যে, ‘তোমাদের কোরবানির পশুর রক্ত মাংস কিছুই আমার কাছে পৌঁছায় না, যা পৌঁছায় তা হলো তোমাদের নিয়ত। তাই কোরবান করার আগে আমাদের কতগুলো বিষয়ের প্রতি অত্যন্ত খেয়াল করতে হবে । প্রথমত আমাদের রুজি-রোজগার হালাল উপায়ে হতে হবে, সঠিক নিয়ত এবং আমাদের নিজেদেরকে সঠিক মাত্রার তাকওয়া অর্জন করে আল্লাহর নৈকট্য হাসিল করতে হবে। তখনই আমরা হব মুত্তাকী এবং আমাদের আমলে তখন আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য হবে আমরা কামিয়াব হবো এবং তার দয়া প্রাপ্ত হব ইনশাআল্লাহ। এ বছর মুসলিম উম্মার কুরবানী আল্লাহ কবুল করুন। 

আর আমরা যারা যারা বুঝতে পারি যে, আমাদের উপার্জন সঠিক পথে হয়নি, তারা নিজেদের বেঠিক পথের অর্থ উপার্জন করা কোরবান করে দেই, অর্থাৎ অসদুপায় ত্যাগ করি। এ ত্যাগ বা কোরবানিই হবে আমাদের আসল কোরবানি বা আসল ত্যাগ । আল্লাহ আমাদের সবাইকে কবুল করুন, আমিন।

লেখক: 
এম এম এ শাহজাহান, প্রকৌশলী 
মার্কেটিং অ্যাডভাইজার, ফাইন গ্রুপ।

শীর্ষ সংবাদ:

পাঁচ অস্ত্রসহ গ্রেফতার লিটন গাজী সম্পর্কে সব জানালো পুলিশ সুপার
আনসার ভিডিপি ব্যাংকের ৯ কোটি টাকা আত্মসাৎ, ব্যবস্থাপক গ্রেফতার
লালমনিরহাটে স্বামী হত্যা মামলায় স্ত্রী ও পরকীয়া প্রেমিকের যাবজ্জীবন
ভোলাহাটে বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে কলেজ শিক্ষকের মৃত্যু
সৌদি আরবে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দালাল চক্রের খপ্পরে
বাংলাদেশ সীমান্তে পঁচছে ৩০ হাজার টন ভারতীয় পেঁয়াজ
সুদের টাকার জন্য নোয়াখালীতে ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যা, গ্রেফতার-১
ইমরান খান বেঁচে আছেন, দেশ ছাড়তে চাপ: পিটিআই
হাসিনা-রেহানা-টিউলিপের প্লট দুর্নীতি মামলার রায় আজ
শুরু হলো বিজয়ের মাস
বিডিআর হত্যাকাণ্ডে ভারত জড়িত
খালেদা জিয়ার খোঁজ নিতে হাসপাতালে জামায়াত সেক্রেটারি
স্কুল ভর্তির লটারি ১১ ডিসেম্বর
বিডিআরকে দুর্বল করে ক্ষমতা টিকিয়ে রাখাতেই পিলখানা হত্যাকাণ্ড
ছয় উপসচিবের দফতর পরিবর্তন