পুলিশের হাতে সোপর্দ
গাইবান্ধায় জাল নোটসহ প্রতারক চক্রের সদস্যকে জনতার মারধর
গাইবান্ধা সদর উপজেলার কামারজানি হাটের ৩ নং গোঘাট এলাকায় ১ হাজার ও ৫ শত টাকার নকল নোট লেনদেনের অভিযোগে রিয়াজুল ইসলাম (৪৫) নামের এক ব্যক্তিকে আটক করেছে স্থানীয় জনতা। মারধরের পরে তাকে স্থানীয় জনতা ও প্রশাসনের সহযোগিতায় পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে।
আজ শুক্রবার (৬ মার্চ) দুপুরের দিকে কামারজানি হাট ও বাজার এলাকায় জাল টাকা ব্যবহার করার সময় বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে আসে। সন্দেহ হলে তাকে আটক করে স্থানীয়রা।
জানা গেছে, আটক রিয়াজুল ইসলাম এর বাড়ী ঝালকাঠি সদর উপজেলায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুরে কামারজানি বাজারের ইসলাম বস্ত্রালয় থেকে একটি গামছা কিনে রিয়াজুল ১ হাজার টাকার একটি নোট দেন। দোকানির সন্দেহ হলে নোটটি যাচাই করা হয়। এ সময় স্থানীয় লোকজন বাজার সড়ক এলাকা থেকে তাকে আটক করেন।
এ ছাড়া বাজারের একটি পানের দোকান ও মুল বাজার থেকে একটু দূরে মাস্টারবাড়ী সংলগ্ন প্রধান সড়কের পাশে একটি মুদি দোকানের মালিক লাবলু মিয়ার দোকানে নিত্য প্রয়োজনীয় মালামাল কেনাকাটার সময় তিনি ১ হাজার টাকার জাল নোট ব্যবহার করেন বলে দোকানি অভিযোগ করেন। পরে তার মানিব্যাগ তল্লাশি করে ১ হাজার টাকার পাঁচটি জাল নোটসহ মোট ৫ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। এরপর তাকে স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে গাইবান্ধা সদর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
গাইবান্ধা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ১ হাজার টাকার ৫টি নোট, মোট পাঁচ হাজার টাকার জাল নোটসহ রিয়াজুলকে আটক করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, আসন্ন ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে বাজারে জাল টাকার ছড়াছড়ি বেড়ে যেতে পারে, সে লক্ষ্যে গাইবান্ধা জেলা পুলিশ ব্যবসায়ী এবং জনসাধারণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির প্রক্রিয়া চলমান এবং জাল টাকার বিস্তার রোধে গোয়েন্দা কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।
এরই ধারাবাহিকতায় আজ (৬ মার্চ) শুক্রবার জেলার সদর থানা পুলিশ খবর পায় যে জাল টাকার একটি চক্র সদর থানার কামারজানি ইউনিয়নের গোঘাট গ্রামে কামারজানি বাজারে দোকানে জাল টাকা দিয়ে পণ্য কেনার চেষ্টা করছে।
খবর পাওয়ার পর পুলিশ তৎক্ষণাৎ উক্ত ঘটনাস্থলে যায় এবং উপস্থিত জনসাধারণের সহায়তায় জাল টাকা চক্রের একজনকে পাঁচটি এক হাজার টাকার জাল নোটসহ গ্রেফতার করে।
উক্ত অভিযানের সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে চক্রের অপর সদস্য মোঃ জাহাঙ্গীর আলম কৌশলে এলাকা ত্যাগ করে।
উল্লেখ্য যে আসন্ন ঈদকে কেন্দ্র করে জাল টাকার চক্র প্রতিরোধে গাইবান্ধা জেলা পুলিশ দৃঢ় প্রতিজ্ঞ এবং তাদের নিয়মিত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে ।
এ চক্রের পলাতক সদস্যদের গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে। তারা যাতে পালিয়ে না যেতে পারে। এছাড়াও জেলার মুলহোতাদের খুজে বের করতে পুলিশের বিশেষ কার্যক্রম চলমান থাকবে।
ওসি আরও জানান, এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
সবার দেশ/কেএম




























