১২০ বছরের বৃদ্ধ ইদ্রিস শেখের গ্রেফতার নিয়ে বিভ্রান্তি
সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া কয়েকটি ছবিতে দাবি করা হয়েছে, প্রায় ১২০ বছর বয়সী একজন বৃদ্ধকে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। তবে অনুসন্ধানে জানা গেছে, এ দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর।
রিউমর স্ক্যানারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ছবির বৃদ্ধের নাম ইদ্রিস শেখ। তিনি ২০০৩ সালের একটি হত্যা মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। ওই মামলায় ২০১৫ সালে তার বিরুদ্ধে ১০ বছরের কারাদণ্ডের রায় দেয়া হয়।
রিভার্স ইমেজ সার্চে দেখা যায়, প্রচারিত ছবিগুলো গত ২৯ জুলাই আদালতে হাজির হওয়া শতবর্ষী ইদ্রিস শেখের একটি ভিডিও থেকে নেয়া। ভিডিওটিতে দেখা যায়, লাঠি হাতে আদালতে প্রবেশ করছেন ইদ্রিস শেখ এবং প্রিজন ভ্যানে বাবাকে দেখে কান্নায় ভেঙে পড়ছেন তার ছেলে বাবুল শেখ।
বাবুল শেখ সাংবাদিকদের বলেন, তার বাবার বয়স ১২০ বছর। তিনি আরও জানান, বহু বছর আগে তাদের এলাকায় এক খুনের মামলায় ইদ্রিস শেখকে জড়ানো হয়েছিলো এবং সে মামলার বোঝা এখনও টেনে বেড়াচ্ছেন তিনি।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০০৩ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি মাদারীপুরের রাজৈরের শেখেরটেক এলাকায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে সৈয়দ আলী ও সুলেমান মোল্লা নিহত হন। এ ঘটনায় দায়ের হওয়া হত্যা মামলায় ইদ্রিস শেখসহ ৩০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন হয়। ২০১৫ সালে আদালত রায়ে চারজনকে মৃত্যুদণ্ড, একজনকে যাবজ্জীবন এবং ইদ্রিস শেখসহ নয়জনকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেন।
অতএব, ইদ্রিস শেখের কারাগারে থাকার ঘটনা ২০০৩ সালের হত্যা মামলার রায়ের ফল। তাকে ছাত্র আন্দোলনের ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে—এমন দাবি সম্পূর্ণ গুজব ও বিভ্রান্তিকর।
সবার দেশ/কেএম




























