মুস্তাফিজ ইস্যুতে ভারতই বিব্রতকর পরিস্থিতির জন্য দায়ী: শশী থারুর
ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) থেকে বাংলাদেশের তারকা পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেয়ার ঘটনায় ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্কের মধ্যে যে নতুন অস্বস্তি তৈরি হয়েছে, তার দায় ভারতীয় কর্তৃপক্ষের ওপরই চাপিয়েছেন ভারতের কংগ্রেস নেতা শশী থারুর। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, এ লজ্জাজনক ও বিব্রতকর পরিস্থিতি ভারত নিজেরাই ডেকে এনেছে।
সোশ্যাল মিডিয়া এক্সে দেয়া এক পোস্টে শশী থারুর লেখেন,
এতে আশ্চর্যের কিছু নেই। এ লজ্জা আমরা নিজেরাই ডেকে এনেছি। তার এ মন্তব্য দ্রুতই দুই দেশের গণমাধ্যম ও রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দেয়।
মুস্তাফিজকে আইপিএল থেকে বাদ দেয়ার সিদ্ধান্তকে অপ্রয়োজনীয় ও অযৌক্তিক উল্লেখ করে শশী থারুর ইনডিয়ান এক্সপ্রেসকে বলেন, বাংলাদেশ পাকিস্তান নয়। বাংলাদেশ সীমান্ত পেরিয়ে সন্ত্রাসী পাঠাচ্ছে না। দুই দেশের পরিস্থিতি মোটেও তুলনাযোগ্য নয়।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক এবং পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক এক নয়। বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক সম্পর্ক যে পর্যায়ে রয়েছে, তা পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্কের পর্যায় থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। এ দুই দেশকে এক সরল সমীকরণে ফেলা যায় না।
উল্লেখ্য, ২০২৬ আইপিএলের নিলামে নয় কোটি বিশ লাখ রুপিতে মুস্তাফিজুর রহমানকে দলে নেয় কোলকাতা নাইট রাইডার্স। এটি আইপিএলের ইতিহাসে কোনও বাংলাদেশি ক্রিকেটারের জন্য সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক। তবে নিলামের পর থেকেই তার আইপিএলে খেলা নিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে বিতর্ক শুরু হয়।
গত ১৮ ডিসেম্বর ময়মনসিংহের ভালুকায় পোশাকশ্রমিক দিপু চন্দ্র দাসকে ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগ তুলে পিটিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যার ঘটনার পর বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগ সামনে এনে ভারতের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও উগ্র সাম্প্রদায়িক সংগঠনের একটি অংশ মুস্তাফিজের আইপিএলে অংশগ্রহণের বিরোধিতা করে।
এ প্রেক্ষাপটে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের সচিব দেবাজিৎ সাইকিয়া জানান, মুস্তাফিজকে দল থেকে বাদ দিতে কোলকাতা নাইট রাইডার্সকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পরবর্তীতে কেকেআর আনুষ্ঠানিকভাবে এ বাঁহাতি পেসারকে দল থেকে বাদ দেয়ার ঘোষণা দেয়।
মুস্তাফিজ ইস্যুর জেরে বাংলাদেশ ও ভারতের ক্রিকেট সম্পর্কেও বড় ধরনের প্রভাব পড়ে। ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ যৌথভাবে ভারত ও শ্রীলঙ্কায় আয়োজনের কথা রয়েছে। সূচি অনুযায়ী, আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু হওয়ার কথা ছিলো। গ্রুপ পর্বের আরও দুটি ম্যাচ একই ভেন্যুতে এবং শেষ ম্যাচ মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিলো।
তবে এ ঘটনার পর সৃষ্ট উত্তেজনার মধ্যে বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নিতে ভারতে দল না পাঠানোর সিদ্ধান্ত জানায়। একই সঙ্গে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেয়ার জন্য আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলকে চিঠি দেয় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।
রোববার বিসিবির এক বিবৃতিতে জানানো হয়, বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ জাতীয় দল ভারতে গিয়ে টুর্নামেন্ট খেলবে না। খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিয়ে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের কারণেই সরকারের পরামর্শে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল এক ফেসবুক পোস্টে অভিযোগ করেন, উগ্র সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর কাছে নতি স্বীকার করে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড কোলকাতা নাইট রাইডার্সকে মুস্তাফিজকে বাদ দেয়ার নির্দেশ দিয়েছে। তিনি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
বাংলাদেশে আইপিএলের সম্প্রচার বন্ধের উদ্যোগ নিতে তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টাকে অনুরোধ করার কথাও জানান আসিফ নজরুল। তার ভাষায়, বাংলাদেশ, বাংলাদেশের ক্রিকেট ও ক্রিকেটারদের অবমাননা কোনও অবস্থাতেই মেনে নেয়া হবে না।
আরেক পোস্টে তিনি লেখেন,
যেখানে চুক্তিবদ্ধ থাকা সত্ত্বেও একজন বাংলাদেশি ক্রিকেটার ভারতে খেলতে পারেন না, সেখানে পুরো বাংলাদেশ দল বিশ্বকাপ খেলতে গিয়ে নিজেদের নিরাপদ মনে করতে পারে না।
মুস্তাফিজ ইস্যুতে তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানও প্রতিক্রিয়া জানিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন,
এ বিষয়ে চুপ করে বসে থাকার কোনও সুযোগ নেই।
সে বক্তব্যের ভিডিও শেয়ার করে শশী থারুর এক্সে আরেকটি পোস্টে লেখেন,
শি ইজ রাইট অ্যালাস।
সবার দেশ/কেএম




























